www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

অতিবিপন্ন পৃথিবীর শেষ দুটি সাদা গন্ডার


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২৯ নভেম্বর ২০২১, সোমবার, ৯:১৫   প্রাণিসম্পদ বিভাগ


হাতির পরই সবচেয়ে বড় স্থলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে গন্ডার। এর পাঁচটি প্রজাতি রয়েছে। এগুলোর একটি সাদা গন্ডার প্রজাতি যা আবার দুই উপপ্রজাতিতে বিভক্ত। একটি দক্ষিণাঞ্চলীয়, অপরটি উত্তরাঞ্চলীয়। এই দুই উপপ্রজাতির মধ্যে দ্বিতীয়টি বিরলই বলা চলে। একই সঙ্গে মহাবিপন্নও।পুরো পৃথিবীতে এর মাত্র দুটি সদস্য এখন টিকে রয়েছে। এই দুটিই স্ত্রী গন্ডার। একটির নাম ফাতু, ২০ বছর বয়স। আরেকটি তার মা নাজিন, বয়স ৩০ বছর। নর্দার্ন সাদা গন্ডারের টিকে থাকার পথে সবচেয়ে বড় বাধা, এর কোনো পুরুষ সদস্য আর টিকে নেই পৃথিবীতে।

২০১৮ সালের ১৯ মার্চ, কেনিয়ার ওল পেজেতা সংরক্ষিত বনে কয়েক মাসের ভগ্ন স্বাস্থ্য ও বার্ধক্যের কারণে এই উপপ্রজাতির সর্বশেষ পুরুষ সাদা গন্ডারের মৃত্যু হয় । গন্ডারটির নাম ছিল ‘সুদান’। ১৯৭৩ সালে সুদানের জন্ম। বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। এ প্রাণীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে সাদা প্রজাতির গন্ডারের বংশবিস্তার হুমকির মুখে পড়ে । নাজিন ও ফাতু হচ্ছে সুদানের মেয়ে এবং নাতনি। গবেষকেরা সুদানের জিনগত কিছু উপাদান সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফাতু ও নাজিনের ডিম্বাণু সংগ্রহ করে হিমায়িত শুক্রাণু বা টিস্যু কালচারের মাধ্যমে নর্দার্ন সাদা গন্ডারের প্রজনন করাতে চেষ্টা করে চলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

নর্দার্ন হোয়াইট রাইনো বা সাদা গন্ডার এক সময় আফ্রিকার দেশ শাদ, সুদান, উগান্ডা, কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিচরণ করতো। দশকের পর দশক ধরে ওই অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাত এবং গণ্ডারের শিং শিকারকারী অবৈধ পোচারদের কারণে সাউদার্ন সাদা গণ্ডার এবং কালো গণ্ডারের বিভিন্ন প্রজাতিও প্রায় বিলুপ্তির পথে।

মূলত ৭০ ও ৮০’র দশকে শিংয়ের জন্য ব্যাপক হারে গণ্ডার হত্যা শুরু হয়। চীনে ওষুধ তৈরিতে এবং ইয়েমেনে বিশেষ ধরনের একটি ছুটির বাট তৈরি করা হয় গণ্ডারের শিং দিয়ে।




  এ বিভাগের অন্যান্য