www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

বিলুপ্তির পথে গাব ফল


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার, ১১:৩০   কৃষি প্রযুক্তি  বিভাগ


সোনারগাঁয়ে দেশজ ফলের মধ্যে অন্যতম মিষ্টি ও সুস্বাদু ফল গাব। তাই শিশু-কিশোররা বলে থাকে, গাব খাব না খাব কি, গাবের মতো মিষ্টি কি? এমন ছড়া আর শোনা যায় না শিশু-কিশোরদের মুখে। গ্রামের রাস্তার ধারে ঝোপ-ঝারে জন্মে একাকী বেড়ে উঠা গাব গাছের যেন অভাব ছিল না একটি সময়। গাছগুলোতে ধরা হাজার হাজার গাব পাকলেই গ্রামের শিশু-কিশোররা ভিড় জমাতো গাছ তলাতে। সবার হাতে থাকতো মিষ্টি পাকা গাব। উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরেও গাব গাছ দেখা মিলে নাই।দেশি ফলের গাছগুলো দিনে দিনে সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে বাহারি ফল-ফলাদির নাম পর্যন্ত। ফলের গাছগুলো একে একে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। সোনারগাঁ উপজেলায় প্রতিবছর কৃষি মেলাতে প্রদর্শনীতে দেশি ফলের খুব একটা প্রাধান্য থাকে না।

বরং বিদেশি কমলা, আপেল, মালটা, আঙ্গুর, নাসপাতি, বেদনাসহ চেনা অচেনা বিভিন্ন ফলের সমাহার ঘটানো হয়। দেশি ফলের উৎপাদন, বিপন্ন ও সংরক্ষণে বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা না থাকায় ফলের বাজার আজ হুমকির সম্মুখীন। অথচ সঠিক ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশীয় ফল রপ্তানী করে বিপুল বিদেশি মুদ্রা উপার্জন সম্ভব হবে। উপজেলার ফলের বাজারে পিয়ারার কেজি ৮০-১০০ টাকা দরে কেনা বেচা হলেও গ্রামের প্রকৃত চাষিরা এক কেজি ৪০-৫০ টাকার বেশি পান না। এতে উৎপাদন খরচও উঠে না কৃষকদের। আতাফল, জব, আতনা, এসব এখন সচারাচর চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্ম শুধূই বই পুস্তকে ছবি দেখে আর পড়ে বাস্তবে দেখার সুযোগ হয় না। আর যাও পাওয়া যায় তা হলো হাইব্রিড বিজে উৎপাদিত। এগুলোর প্রকৃত স্বাদ-ঘ্রাণ নাই বললেই চলে।একটি গাব সুস্বাদু ও মিষ্টি, একে বিলাতি গাব বলা হয়। ইংরেজিতে একে বলা হয় Mabolo, Korean mango বা Velvet-apple (Diospyros discolor বা Diospyros blancoi)। পাকলে এর রঙ হয় গাঢ় লাল। খোসার উপরটা মখমলের মত। ফলের ভেতরটা সাদা। এটি বহুল পরিমাণে বাজারজাত করা হয় এবং জনপ্রিয় একটি ফল।

অন্যটিকে দেশি গাব বলা হয়। এর ইংরেজি নাম Indian Persimmon (Diospyros peregrina)। এটি খেতে হালকা মিষ্টি ও কষযুক্ত। কাঁচা ফল সবুজ এবং পাকলে হলুদ হয়ে যায়। পাকা ফলের ভেতরটা আঠালো ও চটচটে। বাংলাদেশ ও উপকূলীয় পশ্চিম বঙ্গে এটি প্রচুর জন্মে। এটি সাধারণতঃ খাওয়া হয়না, ভেষজ চিকিৎসায় এর কিছু ব্যবহার আছে। এই গাব হতে আঠা প্রস্তুত করা হয় যা মৎসজীবিরা তাদের জালে ব্যবহার করেন। ফলে জাল টেকসই হয়, পানিতে সহজে নষ্ট হয়না। দেশি গাবের প্রধান ব্যবহার এটাই।গাব একটি ফল।উপজেলায় দুই ধরনের গাব বেশি দেখা যায়। একটি সুস্বাদু ও মিষ্টি, একে বিলাতি গাব বলা হয়। ইংরেজিতে একে বলা হয় Mabolo, Korean mango বা Velvet-apple (Diospyros discolor বা Diospyros blancoi)। পাকলে এর রঙ হয় গাঢ় লাল। খোসার উপরটা মখমলের মত। ফলের ভেতরটা সাদা। বনে-জঙ্গলে আপনা-আপনি জন্মে থাকে। গাব গাছ সবসময় ভয়ের, গাব গাছে ভূত থাকে_ এটি গ্রামে চলতি প্রবাদ। কারণ এর ঘন-নিবিড় পাতা। এতে দিনে পেঁচা আশ্রয় নেয়। মানুষ দেখলে পেঁচা সহজে নড়ে না, তবুও বিপদ দেখলে ঝটপট শব্দ করে উড়ে যায়, তখন ভয়ে গায়ে কাঁটা দেয়। মৌসুমী ফল গাব দেশের অনেক মৌসুমী ফলের মধ্যে গাব একটি ফল। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসে। ফুল দেখতে সাদা রংয়ের এবং ছোট আকৃতির।

আষাঢ় ও শ্রাবন মাসে গাব পাঁকে। স্বাদ মিষ্টি। গাবে প্রচুর পরিমানে আয়রন আছে। এ অঞ্চলে দুই ধরনের গাব গাছ দেখতে পাওয়া যায়। কস গাব কাঁচা অবস্থায় কেটে জাল দিয়ে কষ তৈরী করে মাছ ধরার জালে ব্যবহার করা হয়। পুষ্টিগুণ: এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে। ঔষধিগুণ: দেশী গাবের ফলের খোসার গুঁড়া আমাশয় নিরাময় এবং একজিমা ও চর্মপীড়ার মলম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। খোসা গরম পানিতে সেদ্ধ করে পান করে পান করলে পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়া নিরাময় হয়। পাতা ও বাকল গরম পানিতে সেদ্ধ করে পান করলে কৃমি, পাতলা পায়খানা নিরাময় হয়| কথায় কথায় গাবের কথা এসে গেলেও এর সম্পর্কে আমরা খুব একটা জানি না। দিনকে দিন হারিয়ে যাচ্ছে গাবগাছ। অথচ গ্রামবাংলায় বর্ষার আকর্ষণীয় ফল হচ্ছে গাব। মানুষের শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরী এন্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় গাবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম গাব নানান রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে।




  এ বিভাগের অন্যান্য