www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা পেলেন ১০ কৃতী নারী


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার, ৯:৫৫   উদ্যোক্তা বিভাগ


দেশের পাক্ষিক নারীবিষয়ক ম্যাগাজিন অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা ২০২০ পেয়েছেন ১০ জন নারী। কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর রাজনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি, কৃষি, নাট্যনির্মাণ, করপোরেট পেশা, বিজ্ঞান, অধিকারকর্মী, ক্রীড়া ও লোক-ঐতিহ্য এ দশটি শাখায় ১০ নারীকে পুরস্কার দেয়া হয়।


গতকাল বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, যেকোনো সমাজে নারীর যদি অগ্রগতি না হয়, সে সমাজ কখনো এগোতে পারে না। তাই আমরা নারী-পুরুষ সমানভাবে এগিয়ে যাওয়ার বাংলাদেশ চাই। আমাদের মেয়েরা ক্রীড়াসহ সমাজের সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের নারীদের নিয়ে আমি গর্ব করতে চাই। নারীরা এগিয়ে যাবে, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের নারীরা আজকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জায়গা করে নিচ্ছেন। তারা অন্যদের সুযোগ করে দিচ্ছেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করছেন। তার কারণ সরকার আইন ও নীতিমালা করে নানা সহযোগিতা দিয়ে তাদের সুযোগ করে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, নিজের কণ্ঠস্বর প্রকাশের দুঃসাহস থেকেই ৩৪ বছর আগে আমি ‘পাক্ষিক অনন্যা’ প্রকাশের উদ্যোগ নিই। আমি কিছুই জানতাম না, বুঝতাম না। শুধু বুঝতাম আমাকে কিছু একটা করতে হবে। নিজের মতো করে কিছু একটা। প্রবল ইচ্ছা থেকে ১৯৮৭ সালে পাক্ষিক অনন্যা প্রকাশ শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, গত ৩৪ বছর আমি এ ধারা অব্যাহত রেখেছি। আমি দেখে এসেছি সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদে সাধারণ পর্যায়ে নারীর বিশেষ কোনো মর্যাদা নেই। তখন ১৯৯৩ সালে আমার মাথায় নতুন ভাবনা এল। প্রতি বছরই নানা ক্ষেত্রে কিছু নারী চমকপ্রদ অবদান রাখছেন। তাদের খুঁজে খুঁজে সম্মাননা দিতে পারি। সেই থেকে ‘অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা’ দেয়া শুরু করি।

দেশের আলোচিত নারী ম্যাগাজিন পাক্ষিক অনন্যা প্রতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজে আলোচিত ও আলোকিত ১০ নারীকে কৃতী সম্মাননা দিয়ে আসছে। ১৯৯৩ সাল থেকে চলে আসা এ সম্মাননার ২৭তম আয়োজন ছিল এটি। এদিন সম্মাননা পাওয়া দশ নারী হচ্ছেন রাজনীতিতে কামরুন্নাহার জাফর, উদ্যোক্তা শাহীদা বেগম, প্রযুক্তিতে লাফিফা জামাল, কৃষিতে অল্পনা রানী, নাট্যনির্মাণে চয়নিকা চৌধুরী, করপোরেট পেশায় স্বপ্না ভৌমিক, বিজ্ঞানে সেঁজুতি সাহা, অধিকার কর্মী তাসনুভা আনান, ক্রীড়ায় জাহানারা আলম এবং লোক ঐতিহ্যে রূপন্তী চৌধুরী।

‘ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট’—বৈপ্লবিক এ প্রকল্প কামরুন্নাহার জাফরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের তৃণমূল স্তরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

৩২ বছর ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত শাহীদা বেগম। তিনি ২০০৪ সালে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি কেবল সফল কৃষক নন, তার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান হয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার সময় রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করেছেন অধ্যাপক লাফিফা জামাল। তার নেতৃত্বে ২০১৮ সালে ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো যোগ দিয়ে স্বর্ণপদক পায়।

অল্পনা রানী দেশীয় বীজ সংগ্রহ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কৃষি উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া তিনি বিনা মূল্যে গ্রামীণ নারীদের মাঝে বীজ বিতরণ করেন।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যে মেনিনজাইটিসের সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যায়। তখন সেঁজুতি সাহা জিনগত উপাদান বিশ্লেষণ করে এর রহস্য উন্মোচন করেন। এছাড়া সম্মাননা পাওয়া নারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিভিন্ন অবদান রাখেন।




  এ বিভাগের অন্যান্য