www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

৬ বছর ধরে সমাবর্তনের অপেক্ষায় বাকৃবি শিক্ষার্থীরা


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১০ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার, ১০:৪৬   কৃষি প্রতিষ্ঠান বিভাগ


উপমহাদেশের কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পার করলেও মাত্র সাতটি সমাবর্তনের আয়োজন করতে পেরেছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এ বিশ্ববিদ্যালয়। অষ্টম সমাবর্তনের জন্য দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অপেক্ষায় হাজারো শিক্ষার্থী। বিভিন্ন সময় সমাবর্তনের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা এখনো আলোর মুখ দেখছে না। এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী।

সমাবর্তন আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ উদ্যোগ আর সদ্বিচ্ছাকে দায়ী করছেন এসব শিক্ষার্থী। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রশাসন। তাদের ভাষ্য, করোনা মহামারীর কারণে সমাবর্তন নিয়ে কাজ কর হয়নি। দ্রুত সমাবর্তন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলেও আশা তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালের ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন চ্যান্সেলর আব্দুল মোনেম খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় বাকৃবির প্রথম সমাবর্তন। চার বছর দ্বিতীয় সমাবর্তন হয় ১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর, যা স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম। এরপর ১৯৯৪ সালের ৫ জুন তৃতীয়, ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর চতুর্থ, ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম, ২০১১ সালের ৮ মার্চ ষষ্ঠ এবং ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৫ সালে পাস করা শিক্ষার্থীদের সপ্তম সমাবর্তনে অন্তর্ভূক্ত না করায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে ২০১০-১১ সেশনের শিক্ষার্থীদের মাঝে। সর্বশেষ সমাবর্তনে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভূক্ত না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট হওয়া সত্ত্বেও তারা সমাবর্তন পাননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো নতুন পাঁচটি ব্যাচ স্নাতক ডিগ্রি শেষ করলেও তাদের কেউ সমাবর্তন পাননি।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ থেকে পাস করেছেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছরই সমাবর্তনের আয়োজন করে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর তো দূরের কথা বেশ কয়েক বছরেও একবার সমাবর্তন হয় না। দীর্ঘ ৬০ বছরের পথচলায় বাকৃবিতে মাত্র সাতবার সমাবর্তন হয়েছে। এই ব্যর্থতা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। যথাযথ উদ্যোগ আর সদ্বিচ্ছা থাকলে প্রতি বছরই সমাবর্তন আয়োজন করতে পারত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই অভিযোগ করে ভেটেরিনারি অনুষদের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ২০১২ সালে ভর্তি হওয়ার পর শুধু একবার ২০১৬ সালে সমাবর্তন হতে দেখেছি। অন্যান্য সব বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন আয়োজন করলেও আমরা বারবার দেখেছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব। বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হয়ে এটা আমাদের জন্য যেমন কষ্টের তেমনি লজ্জার।

বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের মতো আমি নিজেও চাই দ্রুত সমাবর্তন হোক। আমি এটা আয়োজন নিয়ে আলোচনাও করেছিলাম। করোনা মহামারীর কারণে আমরা সমাবর্তন নিয়ে কাজ করতে পারিনি। আশা করছি শিক্ষার্থীদের এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারব।




  এ বিভাগের অন্যান্য