www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

পাম্প চালু না হওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা


 চাঁদপুরে খিলাখাল সেচ প্রকল্প    ১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:২৯   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খিলাখাল সেচ প্রকল্প যথাসময়ে চালু না হওয়ায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে শাহরাস্তি, কচুয়া, বরুড়া, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫০ হাজার কৃষক আসন্ন বোরো মৌসুমে ধান রোপণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এ নিয়ে কৃষক সেচ ম্যানেজারকে দায়ী করলেও বিএডিসি কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে পাম্প চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সেচ প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ১৯৯১ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি ও কচুয়া, কুমিল্লার বরুড়া, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশে ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহের জন্য শাহরাস্তি উপজেলার ডাকাতিয়া নদীতে স্থাপন করে খিলাখাল ভাসমান সেচ প্রকল্প। আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় বর্তমানে ওই প্রকল্পের অধীনে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি রয়েছে। প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সেচ প্রকল্পটি চালু হলেও চলতি বছর এখনো তা হয়নি। ফলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এলাকায় পানি সংকটে বোরো চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষক মো. রবিউল জানান, এরই মধ্যে তারা বীজতলা থেকে চারা উঠিয়ে রেখেছেন। কিন্তু পানির অভাবে রোপণ করতে পারছেন না।

সেচ প্রকল্পের বিজয়পুর শাখার স্কিমের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সেচ চালু হয়নি। কেন্দ্রীয় সেচ থেকে আমরা শাখা স্কিমের মাধ্যমে কৃষকদের পানি সরবরাহ করি। শাখা স্কিম পরিচালনার জন্য একটি ডাবল লিফট্ পাম্পের জন্য জেলা সহকারী প্রকৌশলী আসিফ কামরুল আশ্রাফীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় পানিতে অর্ধমগ্ন দুটি পাম্প। জানা যায়, পানিতে অর্ধেক ডুবে থাকা পাম্প দুটি বিএডিসি কর্মকর্তাদের এসে নিয়ে যাওয়ার কথা। সাড়ে ১২ কিউসেক ডিজেলচালিত পাম্পটি ১০ বছর ধরে এখানেই পড়ে আছে। ৫ বছর আগে পাশের চিতোষী সেচ প্রকল্প এলাকা থেকে ১০ কিউসেক ডিজেলচালিত আরেকটি পাম্প এখানে এনে রাখা হয়েছে, যা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পন্টুনসহ নদীতে ডুবে যাচ্ছে। প্রকল্পের স্লুইস গেটের অবস্থাও নাজুক। পানির চাপে তা বেশ ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে গেট চুইয়ে পানি পড়ছে। সাড়ে ১২ কিউসেক বিদ্যুচ্চালিত পাম্পটি পাশের দুটি পাম্প না সরানোর কারণে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে প্রায় ১০০টি সেকেন্ডারি পাম্প স্কিম ম্যানেজারদের জন্য প্রস্তুত রাখার পরও কেন্দ্রীয় পাম্প চালু না হওয়ায় তা কাজে আসছে না।

চাঁদপুর জেলা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আসিফ কামরুল আশ্রাফী জানান, অচল পাম্পগুলো সরানোর দায়িত্ব সেচ ম্যানেজারের। সেগুলো তিনি নিজে নিয়েছেন, নিজ দায়িত্বে দাপ্তরিকভাবে ফেরত দেবেন।




  এ বিভাগের অন্যান্য