www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

বুড়িমারী স্থলবন্দর

সাত মাসে প্রায় ৭৭৫ কোটি টাকার ভুট্টা আমদানি


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, সোমবার, ১০:৪৯   কৃষি প্রতিষ্ঠান বিভাগ


চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে অব্যাহতভাবে ভুট্টা আমদানি বেড়েছে। মূলত দেশীয় বাজারে কৃষিপণ্যটির ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভারত থেকে ব্যাপক পরিমাণ ভুট্টা আমদানি করে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এ বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৯ টন ভুট্টা। এসব ভুট্টা আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৭৭৪ কোটি ৫২ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে অব্যাহতভাবে বাড়লেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আমদানি কিছুটা নিম্নমুখী ছিল।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১৪ হাজার ৩৬৩ টন, আগস্টে ৪৭ হাজার ৯০১ টন, সেপ্টেম্বরে ৫১ হাজার ৩৩৭ টন, অক্টোবরে ৪৫ হাজার ৪৯৫ টন, নভেম্বরে ৬৩ হাজার ১৩১ টন, ডিসেম্বরে ৩৪ হাজার ৪২৯ টন ও জানুয়ারিতে ৩৮ হাজার ২১ টন ভুট্টা আমদানি করা হয়েছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধের অতিরিক্ত উপপরিচালক শাহ মো. মাহফুজুল হক বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কোম্পানি এবং স্থানীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ভুট্টা আমদানি করছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী স্থানীয় ভুট্টা আমদানিকারক ব্যবসায়ী মেসার্স রাহি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তারেক ইসলাম বলেন, বর্তমানে যেকোনো সময়ের তুলনায় ভুট্টার ব্যবহার বেড়েছে। দেশের অভ্যন্তরে কৃষক পর্যায়ে চাষও প্রচুর হচ্ছে। এর পরও দেশে চাহিদা বেশি থাকায় ভারত থেকে ভুট্টা আমদানি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি ভুট্টা আমদানিতে এলসি মূল্য ৩২০ ডলার হলে ২৭ টাকা ২০ পয়সা দাম হয়। এর সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও সরকারি বিভিন্ন খরচসহ সব মিলিয়ে প্রায় ২৯-৩০ টাকা পড়ে প্রতি কেজি ভুট্টা।

এ আমদানিকারক ব্যবসায়ী বণিক বার্তাকে আরো বলেন, ‘তিন ধরনের ভুট্টা আমদানি হয়—এ, বি ও সি গ্রেড। এ গ্রেড ভুট্টা দিয়ে পোলট্রি ফিড, বি গ্রেড দিয়ে গরুর খাদ্য ও সি গ্রেড দিয়ে মাছের খাদ্য উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে যে ভুট্টা উত্কৃষ্ট মানের, তা বিস্কুট উৎপাদনে ব্যবহার হয়।’

বুড়িমারী স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স সাঈদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সায়েদুজ্জামান সাঈদ বলেন, সরকার কৃষক পর্যায়ে বিশেষ প্রণোদনা দিলে দেশেই ভুট্টা উৎপাদন করে চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের সেদিকে নজর কম। ফলে লাখ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করে চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মো. রুহুল আমীন বণিক বার্তাকে বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন আমদানি-রফতানি পণ্যবোঝাই প্রায় ৪০০-৫০০ ট্রাক প্রবেশ করছে। এতে আমাদের কিছু জনবল ঘাটতি, ইয়ার্ড ও শেডে জায়গা সংকটের কারণে ব্যবসায়ীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এজন্য বন্দরটির ইয়ার্ড ও শেড বাড়ানো প্রয়োজন।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. কেফায়েত উল্ল্যাহ মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের পাশে থেকে সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। ফলে এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। এরই মধ্যে ব্যাপক ভুট্টা আমদানির কারণে বিভিন্ন বিস্কুট কোম্পানির ফ্যাক্টরির পাশাপাশি মুরগি, গরু ও মাছের খামারগুলোর ফিড (খাদ্য) নিয়ে বাজারে তেমন অস্থিরতা দেখা দেয়নি বলে আমার ধারণা। তবে দেশে উৎপাদন বাড়লে পণ্যটির আমদানি নিশ্চয়ই কমে যাবে।




  এ বিভাগের অন্যান্য