www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

বাকৃবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার নিয়ে অভিযোগের ঝুলি শিক্ষার্থীদের


 মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, বাকৃবি প্রতিনিধি    ১৫ এপ্রিল ২০২২, শুক্রবার, ৫:১২   ক্যাম্পাস বিভাগ


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পড়ার কক্ষে আসন সংকট, নষ্ট এসি, নোংরা টয়লেট, ফ্যান নষ্টসহ নানা সমস্যায় ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও চাকুরির বইসহ অন্যান্য বই, বাইডিংস নিয়ে গ্রন্থাগারে ঢুকতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। গ্রন্থাগারে এসব সমস্যা থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ক্যান্টিনে এসে পড়াশোনা করছে তারা। এছাড়া গ্রন্থাগার খোলা রাখার সময়সীমা ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বন্ধ থাকায় ক্ষোভ রয়েছে তাদের।


এদিকে বারবার লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর ক্লাস, পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলমান রয়েছে। হলগুলোতে সিট সংকট ও পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে চাকুরির পড়াসহ একাডেমিক পড়া পড়তে আসে। সপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ বেশি পায়। কিন্তু ছুটির দিনগুলোতে গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে ছুটির দিনগুলোতে টিএসসির ক্যান্টিনে এসে পড়তে হয়। এছাড়াও গ্রন্থাগারে আসন সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে বসে পড়ার সুযোগ পায় না। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বইয়েরও ঘাটতি রয়েছে। বই খুঁজে পেতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গ্রন্থাগারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। চারদিক বদ্ধ থাকায় বাইরের হাওয়া প্রবেশ করার সুযোগ নেই সেখানে। এদিকে ফ্যানগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় প্রচন্ড গরমে গ্রন্থাগারে অবস্থান করতে অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়াও গ্রন্থাগারের টয়লেট নোংরা, নামাজঘর গোডাউন ঘর হয়ে পড়ে রয়েছে। করোনার আগে রাত ৮টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার খোলা থাকলেও এখন ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে, এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় অনেকে টিএসসি ক্যান্টিনে এসে পড়াশোনা করেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ইফতে খারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গ্রন্থাগারে গিয়ে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয় না। এ সমস্যাগুলোর সমাধান করে দ্রুত গ্রন্থাগারে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশের ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষের কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া উচিত।


এদিকে গত মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সপ্তাহে ৭দিন খোলা রাখা ও আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বাকৃবি শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান খাইরুল আলম নান্নু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছেন। লাইব্রেরির সমস্যা সমাধানের জন্য দিক নির্দেশনা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। শীঘ্রই সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন বলেন, গ্রন্থাগারের সমস্যাগুলো উপাচার্য মহোদয়কে সাথে নিয়ে আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি। শীঘ্রই পুরো গ্রন্থাগারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ চলছে এবং অতি দ্রুতই সেগুলো সমাধান করা হবে।




  এ বিভাগের অন্যান্য