www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

ড. মো. মোরশেদ হোসেন

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কি আঞ্চলিক বৈষম্যের নতুন স্বরূপ?


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১৮ এপ্রিল ২০২২, সোমবার, ৩:৫৪   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


উন্নয়ন পরিক্রমায় পথ হাঁটছে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব অঞ্চলে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও রফতানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০’ অধ্যাদেশ দ্বারা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও পরিকল্পিত শিল্পায়ন হয়নি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল এ-যাবৎ গৃহীত সব শিল্পায়ন পদক্ষেপের মধ্যে বৃহত্তম। বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান ও অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও ২০১০ সালের ৪২ নং আইন ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০’-এর শুরুতে সুস্পষ্ট বলা রয়েছে, ‘দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রফতানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে উৎসাহ প্রদানের জন্য পশ্চাত্পদ ও অনগ্রসর এলাকাসহ সম্ভাবনাময় সব এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও এর উন্নয়ন, পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন।’ কিন্তু বাস্তবে এটি নতুন করে আঞ্চলিক বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ সরকারি ৬৮টি ও বেসরকারি ২৯টি, অর্থাৎ মোট ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৬টি (সরকারি ১৮টি ও বেসরকারি ১৮টি ), চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫টি (সরকারি ২১টি ও বেসরকারি ৪টি), রাজশাহী বিভাগে আটটি (সরকারি ৬টি ও বেসরকারি ১টি), খুলনা বিভাগে আটটি (সরকারি ৭টি ও বেসরকারি ১টি) সিলেট বিভাগে ছয়টি (সরকারি ৪টি ও বেসরকারি ২টি), ময়মনসিংহ বিভাগে আটটি (সরকারি ৬টি ও বেসরকারি ২টি), রংপুর বিভাগে চারটি (সরকারি ৪টি) এবং বরিশাল বিভাগে তিনটি (সরকারি ৩টি) বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধু সংখ্যায় পিছিয়ে নয়, এগুলোর বাস্তবায়ন পর্যায়ে দেখা যায়, পিছিয়ে আছে রংপুর ও বরিশাল বিভাগ।

ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জি-টু-জি হিসেবে জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য এক হাজার একরের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এছাড়া জাইকা কর্তৃক আরো ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ভূমি উন্নয়নে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি উন্নয়ন, গ্যাস পাইপলাইন, বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। ২৪৫ একরের মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশীরা বিনিয়োগ করছেন। মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক অঞ্চলে অত্যাধুনিক রোবট তৈরি হচ্ছে, যা শিল্প-কারখানায় ব্যবহূত হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের মিরসরাই, ফেনী ও সীতাকুণ্ডে ৩০ হাজার একর জায়গায় গড়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরী। দেশের প্রথম বড় আকারের পরিকল্পিত এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিল্পনগরী হবে এটি। এ শিল্পনগরীতে প্রায় ৩৬৬২.৩৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। দেশী-বিদেশী ১৫৯টি কোম্পানি এতে ২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। প্রাথমিভাবে প্রায় আট লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে এখানে। তবে বেজার প্রত্যাশা অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে এখানে এবং ১৫ লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। মিরসরাই ও ফেনীতে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য এক হাজার একর জমি রাখা আছে। আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০২১-২২ অর্থবছরে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। কক্সবাজারের নাফ ট্যুরিজম পার্ক ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের উন্নয়নকাজ চলমান। সাবরাং ট্যুরিজমে তিনটি হোটেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। বিদেশী পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধাসংবলিত টেকনাফের সাবরাংয়ে ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনে সড়ক উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূমি উন্নয়ন, বাঁধ নির্মাণ, পানি চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ চলমান। খুলনা বিভাগে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল দেশের সর্বপ্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সংযোগ সড়ক, ব্রিজ, প্রশাসনিক ভবন, সুপেয় পানি সরবরাহ লাইন ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রথম ডেভেলপমেন্ট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, শিল্প স্থাপনের কাজ চলছে। মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইউনিলিভারসহ চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে জমি লিজসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। রাজশাহী বিভাগে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিশাল কর্মযজ্ঞ এলাকা। এটি ১০.৩৫৯৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ১১টি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ব্যক্তিমালিকানাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে ছোট-বড় ৭০০টি শিল্প-কারখানা নির্মাণের কাজ চলছে। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে পাঁচ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। সিলেট বিভাগে মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার শেরপুরে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি ইজারা শেষ হয়েছে। বেজার অর্থায়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট ও গ্যাস সংযোগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সীমানাপ্রাচীর, প্রশাসনিক ভবন, জলাধার, পানি সঞ্চালন লাইন ইত্যাদি নির্মাণকাজ চলমান। শিগগিরই শিল্প স্থাপনের কাজ শুরু হবে। শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের ডিবিএল গ্রুপসহ ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ২৩১ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। ময়মনসিংহ বিভাগে জামালপুর জেলার সদর উপজেলার ৪৩৬.৯২ একর জায়গায় জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফিজিবিলিটি স্টাডি ও মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৫৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি সরবরাহ, অবকাঠামো নির্মাণ সন্তোষজনক। জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে তিনটি শিল্প-কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে।

দেখা যায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দ। বিশেষ এ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিনিয়োগ নিয়ে এসেছে ভারত, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড। বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশকে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিনিয়োগ করার। পাশাপাশি রংপুর ও বরিশাল বিভাগের চিত্র ভিন্ন। রংপুর বিভাগে চারটি ও বরিশাল বিভাগে তিনটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন পেলেও অগ্রগতি নেই। রংপুর বিভাগে মোট নয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের মধ্যে প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আছে দিনাজপুরে। এজন্য দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন মৌজায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে ৮৭ একর খাসজমি হস্তান্তর করেছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ২০১৯ সালে। মোট ৩০৮ একর জমির ওপর এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা রয়েছে। বাকি ২২১ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। তবে এ অধিগ্রহণযোগ্য জমির ওপর ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও গাছপালা থাকায় তা স্থাবরসম্পত্তি। হুকুমদখল আইন ২০১৭ মোতাবেক ওই ২২১ একর জমি অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি দিনাজপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলকে প্রাথমিক লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। পঞ্চগড় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ২১৭ একর জমি বেজাকে হস্তান্তর করা হয়েছে ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট। প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট করা হয়েছে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। তারপর আর অগ্রগতি নেই। নীলফামারী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ১০৬ একর খাসজমি বেজার কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ৩৫৭ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য স্কেচ ম্যাপ, দাগ সূচি ও ধারণকৃত ভিডিওচিত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয় কিন্তু প্রকল্প স্থাপনে কোনো অগ্রগতি নেই। নীলফামারী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট করা হয়েছে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। কুড়িগ্রাম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ১৪৯.৭৭ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু এর অগ্রগতি নেই। রংপুরের জেলা প্রশাসন রংপুরের লাহিড়ী হাটে প্রায় ৩০০ একর খাসজমি চিহ্নিত করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্বাচন করেছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুই বছর আগে বেজা কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দিয়েছে, কিন্তু অদ্যাবধি তার কোনো পদক্ষেপ নেই। বরিশাল বিভাগের আগৈলঝাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট করা হয়েছে। ভোলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট করা হয়েছে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তী সময়ে এর কোনো অগ্রগতি নেই।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাদ্দে কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চলের নাম ও বরাদ্দ থাকলেও রংপুর ও বরিশাল বিভাগের কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চলের নাম নেই। লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন মূলত কোনো অঞ্চলে মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের শতকরা হারকে বোঝায়। ২০০৫-০৭ সালে ঢাকা বিভাগে লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ছিল ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, সেখানে রংপুর বিভাগে লেভেল অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। শিল্পায়নের এ বৈষম্য নিরসনে রংপুর ও বরিশাল বিভাগে বেশি করে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যে কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন করা হয়েছে, তারও অগ্রগতি নেই; যা বৈষ্যমের নতুন স্বরূপ। এর কারণ হিসেবে রাজনীতিবিদদের নিষ্ক্রিয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং এসব অঞ্চলের মানুষদের উচ্চকণ্ঠ না হওয়াকে চিহ্নিত করা যায়। এসব অঞ্চলের মানুষদের উচ্চকণ্ঠ হওয়া তাই এখন সময়ের দাবি।

  • মোমোরশেদ হোসেন: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ
  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর



  এ বিভাগের অন্যান্য