www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

যুদ্ধের মধ্যেই ১১ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি ইউক্রেনের


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১৫ মে ২০২২, রবিবার, ১২:৩৭   কৃষি অর্থনীতি  বিভাগ


চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে প্রায় ৭০ লাখ হেক্টর জমিতে বসন্তকালীন শস্যের আবাদ হয়েছে। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আবাদ প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ কমেছে। এপ্রিলে দেশটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টন খাদ্যশস্য রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে। ইউক্রেনের কৃষিমন্ত্রী মিকোলা সলস্কি এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।

রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে রোমানিয়ার ভেতর দিয়ে শস্য রফতানি ইউক্রেনের জন্য কতটা গুরুত্ব বহন করছে, তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই মাসের মধ্যে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার ভেতর দিয়ে গম রফতানি প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে পারে।

সলস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লজিস্টিকসসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আবাদসংক্রান্ত ক্যাম্পেইন কার্যকরভাবেই চলছে। গত বছর যে পরিমাণ জমিতে আবাদ করা হয়েছিল, এ বছর তার চেয়ে কম জমিতে শস্য আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা আবাদ অনেক কমেছে।

রাশিয়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর পরই আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এতে আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে সব ধরনের পণ্যের দাম। নেতিবাচক প্রভাব পড়ে লজিস্টিকসেও।

ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল জানায়, ২০২০-২১ মৌসুমে ভুট্টা রফতানিতে বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ অবস্থানে ছিল ইউক্রেন। পাশাপাশি গম রফতানিতে দেশটি ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসে।

বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টন খাদ্যশস্য ইউক্রেনে আটকে আছে। কৃষ্ণ সাগরের অবরুদ্ধ বন্দর ও পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে এসব শস্য দেশ ছেড়ে গন্তব্যে যেতে পারছে না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এমনটি জানিয়েছে।

ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টরা জানান, রফতানিযোগ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টন। বিশ্লেষকরা বলছেন, রফতানি কমে যাওয়ায় ইউক্রেনে খাদ্যশস্যের মজুদ ব্যাপক বেড়ে গিয়েছে। ফলে নতুন শস্য উত্তোলন শেষে তা মজুদ করা দেশটির জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ইউক্রেনে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিশ্ববাজারে সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

এদিকে যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়া ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষিমন্ত্রী সলস্কি বলেন, ক্রাইমিয়া অঞ্চলের সিভাস্তিপুল বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্যের একটি জাহাজ যাওয়ার সময় সেটি চুরি করে রাশিয়া।

তিনি আরো বলেন, চুরি যাওয়া খাদ্যশস্য পুনরুদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চলছে। তবে এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা এখনো জানাননি মন্ত্রী। যদিও এ অভিযোগ পুরোপুরিভাবে অস্বীকার করেছে রাশিয়া।




  এ বিভাগের অন্যান্য