www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

বান্দরবানের লামা

আইন লঙ্ঘন করে সরকারি গাছ বিক্রি করল বিএডিসি


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২০ জুন ২০২২, সোমবার, ৯:০৪   প্রাণিসম্পদ বিভাগ


বান্দরবানের লামা উপজেলায় আইন লঙ্ঘন করে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) লামা উপপরিচালক কার্যালয়ের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গাছগুলো কিনেছেন লামা পৌরসভার এক কাউন্সিলর। কেটে নেয়া গাছের মধ্যে বিশালাকৃতির কড়ই গাছসহ নাম নাজানা অন্যান্য প্রজাতির বড় গাছও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও বন বিভাগ।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, সরকারি যেকোনো দপ্তর বা কার্যালয়ের অধীনে থাকা বৃক্ষ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেবে। এর পর প্রশাসনকে অবগত করবে। প্রশাসনের সমন্বয়ে বন বিভাগ কর্তৃক পরিমাপ ছাড়া গাছ বিক্রি কিংবা নিলাম করতে পারবে না।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, লামা উপপরিচালক কার্যালয়ের বিক্রি করা মাতৃবৃক্ষ কেনেন লামা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. কামাল উদ্দিন। সম্প্রতি হওয়া কালবোশেখি ঝড়ে বিএডিসির পাহাড়ে চার-ছয়টি গাছের ডালপালা ভেঙে যায়। এ সুযোগে মরা গাছ ও গাছের ডালপালা দেখিয়ে বিএডিসির লামা কর্তৃপক্ষ গাছগুলো বিক্রি করে। এরপর গত মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে কাঠ ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনের শ্রমিকরা বিএডিসির পাহাড় থেকে বিশালাকৃতির মাতৃবৃক্ষ কাটতে শুরু করে। এ পর্যন্ত বিশালাকৃতির ১০টি কড়ই গাছসহ নাম নাজানা আরো ছয়টি গাছ মিলে ১৬টি মাতৃবৃক্ষ কেটে রদ্দা ও গোল কাঠ করা হয়েছে। কাঠগুলো লামা বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত শনিবার ও রোববার দিনে-রাতে কাঠসহ কেটে ফেলা গাছগুলোর ডালপালা বিএডিসির বাগান থেকে লামা বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বণিক বার্তাকে বলেন, গাছ কাটা শ্রমিকরা তাকে জানিয়েছেন, একেকটি কড়ই গাছ থেকে কমপক্ষে ৩৭ ঘনফুট পর্যন্ত কাঠ পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি বিশালাকৃতির কড়ই গাছ থেকে রদ্দা ও গোল কাঠ মিলে একশ ফুটের বেশি ঘনফুট কাঠ পাওয়া গেছে।

গাছগুলো বড় হলেও বাজে গাছ বলে দাবি করে বিএডিসির গাছ ক্রয়ের বিষয় স্বীকার করেছেন লামা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. কামাল উদ্দিন। বিএডিসি লামার উপপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক বেলাল। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, গাছ কাটাসংক্রান্ত কোনো চিঠি দেয়নি বিএডিসি। বন বিভাগের পরিমাপ ব্যতীত সরকারি গাছ বিক্রি করা কিংবা নিলাম দেয়া অবৈধ।

বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা জাবেদ কায়সার।

বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।




  এ বিভাগের অন্যান্য