www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

বন্যার কথা মাথায় রেখে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে —প্রধানমন্ত্রী


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২২ জুন ২০২২, বুধবার, ৮:৩৮   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বন্যায় ঘাবড়ালে চলবে না। বাংলাদেশের মানুষকে সব সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেই চলতে হবে। তাই অবকাঠামোগুলোও সেভাবে তৈরি করতে হবে।

গতকাল হেলিকপ্টারযোগে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি ঘুরে দেখার পর সিলেট সার্কিট হাউজে স্থানীয় প্রশাসন আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলে মাটি উঁচু করে আর কোনো রাস্তা করা হবে না, এরপর এলিভেটেড রাস্তা হবে। এলিভেটেড রাস্তা হলে সেটা সহজে নষ্ট হয় না, বন্যার মতো দুর্যোগে যাতায়াতেরও সুবিধা হয়। পাশাপাশি নদীগুলোর গভীরতা ঠিক রাখতে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, শুধু একবার ক্যাপিটাল ড্রেজিং করলে হবে না, নিয়মিত মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং করতে হবে।

এ সময় বন্যা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই কাজ করেছে। অনেক জায়গায় কেউ যখন পৌঁছতে পারেনি, আমাদের নেতারা সেখানে পৌঁছেছেন, আমার কাছে ছবি তুলে পাঠিয়েছেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবি সেনাপ্রধানকে পাঠিয়েছি, আমার অফিসে পাঠিয়েছি। এসব জায়গার মধ্যে যেখানে সেনাবাহিনী যেতে পারবে, সেখানে সেনাবাহিনী গিয়েছে। আবার যেখানে বিমানবাহিনী যেতে পারবে, সেখানে তাদের পাঠানো হয়েছে।

ছবি পাঠিয়ে সহযোগিতা করার জন্যও নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তারা ছবি না পাঠালে ত্রাণ বিতরণের কাজটি এত সহজে করা যেত না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সরকারে থাকুক আর বিরোধী দলে থাকুক, যেকোনো দুর্যোগে আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সবার আগে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে যায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

এবারের বন্যা নিয়ে আগে থেকেই প্রশাসন সতর্ক ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে। এবার এ পানি যাবে দেশের মধ্যাঞ্চলে, তারপর বন্যা পৌঁছবে দক্ষিণাঞ্চলে। বাংলাদেশে এ রকমই হয়। আমি এক মাস দেড় মাস আগে থেকে সবাইকে বড় বন্যার বিষয়ে সতর্ক করেছি, প্রস্তুত থাকতে বলেছি।

তিনি বলেন, প্রকৃতির অবস্থা দেখে কিছুটা আন্দাজ করা যায়। সে কারণে আমি বলেছি, এবার বড় বন্যা আসবে। বাংলাদেশে সাধারণত ১০-১২ বছরের মধ্যে একেকটা বড় বন্যা আসে। সেজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার।

খাদ্যমন্ত্রীকে অনেক আগেই বন্যার বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, চারদিকে দেয়াল দিয়ে খাদ্য গুদাম ও সার গুদাম রক্ষা করার ব্যবস্থা করতে বলেছিলাম। এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ সবসময় করতে হবে। আগামীতে পূর্ণিমার সময় কী অবস্থা হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় করে যাচ্ছি। যখন পানি নেমে যাবে, সঙ্গে সঙ্গে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে, ময়লা পরিষ্কারের কাজ শুরু করতে হবে। আমাদের নেতা-কর্মীদেরও এ কাজে যুক্ত হতে হবে। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন তৈরি করে রাখতে হবে।

বন্যায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণকাজে যুক্তদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা কাজ করছেন, তাদেরও সাবধানে থাকতে হবে। এখন হয়তো কাজের ভেতরে আছেন, পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে না। বার বার বৃষ্টির পানিতে ভিজেছেন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।

শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর

বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখার পর সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরানের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্র জানায়, গতকাল বিকালে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে কোরআন থেকে তেলাওয়াত, ফাতিহা পাঠ ও মোনাজাত করেন তিনি। এরপর হজরত শাহপরানের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন শেখ হাসিনা। সেখানেও তিনি পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, ফাতিহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।




  এ বিভাগের অন্যান্য