www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

পিরোজপুরের নাজিরপুর

আপেল বাগান বড় করার স্বপ্ন দেখছেন প্রণব


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২২ জুন ২০২২, বুধবার, ৮:৫৫   কৃষি অর্থনীতি  বিভাগ


পড়াশোনা শেষ করে প্রণব হালদার বাড়িতে আপেলের বাগান করেন। দুই বছর আগে লাগানো এসব গাছে ফুল এসেছে। ফলও ধরেছে অনেক গাছে। ভবিষ্যতে বাগান বড় করার স্বপ্ন দেখছেন প্রণব। জেলায় এটিই প্রথম আপেলের বাগান বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

প্রণব হালদারের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মধুভাঙ্গা গ্রামে। সম্প্রতি ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রণব হালদারের বাড়ির সামনে ৫৫ শতাংশ জমিতে আপেলসহ মিশ্র ফলের বাগান। সেখানে ৬০টি আপেলগাছ রয়েছে। বেশির ভাগ গাছেই ফুল ধরেছে। অনেক গাছে ফলও এসেছে। আপেলের পাশাপাশি বাগানে বেদানা, আলুবোখারা ও আমগাছ লাগানো হয়েছে। বাগানে ফুলের পরাগায়নের জন্য বাড়িতে মৌমাছির চাষ করা হয়েছে।

ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করেছেন প্রণব। বছরখানেক আগে তিনি ফেসবুকে বাগানসম্পর্কিত গ্রুপ ‘সবুজ বাগান সোসাইটি’ থেকে জানতে পারেন, বাংলাদেশে ফলবে এমন কিছু আপেলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি জাত রয়েছে, যার নাম ‘হরিমন ৯৯ আপেল’ নামে পরিচিত।

প্রণব বলেন, ‘২০১৮ সালের ডিসেম্বরে হরিমন ৯৯ আপেল জাতের ৫০টি চারা সংগ্রহ করি। উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষামূলক আপেল চাষ করা। গরম এলাকার আপেল চাষ গবেষক ভারতের পারভেজ নওশাদ ও হরিমন শর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁদের পরামর্শ নিয়ে চারা নার্সিং করে বড় করি।’

২০১৯–এর ডিসেম্বরে প্রণব ভারতের হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুরে হরিমন শর্মার আপেল বাগানে প্রশিক্ষণের জন্য যান। প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশে ফলনের সম্ভাবনা আছে এমন আরও দুটি জাতের চারা নিয়ে আসেন। এগুলো হলো আনা (ইসরায়েল) ও ডরসেট গোল্ডেন (বাহামা)। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনটি জাতের ৬০টি চারা বাড়ির পাশের জমিতে রোপণ করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে গাছে ফুল আসা শুরু করে। বর্তমানে গাছে ছোট আপেল ও ফুল আছে। ফল সংগ্রহ করা যাবে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত।

প্রণব হালদার বলেন, ‘বাগানটি পরীক্ষামূলকভাবে করেছি। যদি লাভজনকভাবে আপেল ফলাতে সক্ষম হই, তাহলে বাগান সম্প্রসারণ করব। কয়েকটি চারা রোপণ করে সফল হলে বড় বাগান করা উচিত।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্বিগবিজয় হাজরা বলেন, ‘প্রণব হালদারের আপেল বাগানে গিয়েছি। সাধারণত আপেল চাষ হয় শীতপ্রধান দেশে। তবে প্রণবের আবাদ করা জাতের চারাগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। দুই বছর বয়সে গাছে ফুল ও ফল এসেছে। গাছগুলোর যখন পরিণত বয়স (পাঁচ বছর) হবে, তখন ফলন বৃদ্ধি পাবে।

আপেল চাষ পদ্ধতি

আপেলের চারা রোপণের জন্য গর্ত তৈরি করে জৈব সার মিশিয়ে গর্তে ১৫ দিন রেখে দিয়ে রোপণ করা হয়। অন্য কোনো রাসায়নিক সার দেওয়া হয় না। উঁচু জমি ও আলো, বাতাস পেলে আপেল চাষ ভালো হয়।




  এ বিভাগের অন্যান্য