www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

গভর্নরকে অ্যাসোসিয়েশনের চিঠি

ঋণ পরিশোধে ২০ বছর পর্যন্ত সুযোগ চান কৃষি হিমাগার মালিকরা


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২ জুলাই ২০২২, শনিবার, ১২:২৫   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিভিত্তিক হিমাগারের সংখ্যা চার শতাধিক। কৃষিপণ্যের মজুদে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হিমাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। করোনা মহামারীসহ নানা প্রতিকূলতায় এ শিল্প এখন ক্রমেই ক্ষতির মুখে। ফলে হিমাগার শিল্পমালিকরা বকেয়া প্রকল্প ঋণ ও চলতি মূলধন ঋণের দেনা দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধের সুযোগ দিয়ে পুনঃতফসিলের দাবি করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি করে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির তথ্য মতে, হিমাগার শিল্প খাতের সঙ্গে দেশের সাড়ে তিন কোটি কৃষক পরিবারসহ প্রায় পাঁচ কোটি লোক প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এ খাতের প্রকল্প ঋণ ও চলতি মূলধন ঋণের উচ্চ সুদ, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, উচ্চ শ্রমিক ব্যয়, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, খুচরা যন্ত্রাংশ ও লুব্রিক্যান্টের মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ঋণের কারণে দিন দিন ক্ষতির দিকে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী এরই মধ্যে ব্যাংকের কাছে ঋণখেলাপি হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে ২০০৫ সালে হিমাগার শিল্প রক্ষায় প্রকল্প ও চলতি মূলধন ঋণের বকেয়া আরোপিত ও অনারোপিত সুদ ব্লক হিসেবে আবদ্ধ রেখে মূল টাকা ২০ বছর পর্যন্ত পরিশোধের সুযোগ দেয়। তখন হিমাগার মালিকরা ঋণ পরিশোধ করে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান। বর্তমানে আবারো এ খাতের ব্যবসায়ীরা ঋণের কারণে ব্যাংকের কাছে খেলাপি হওয়ার পথে। তাই আগের মতো বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে কৃষির স্বার্থে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানানো হয়।

এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ঋণ পরিশোধের জন্য যদি ব্যবসায়ীদের পাঁচ-ছয় বছর সময় দেয়া হয়, তাহলে ব্যাংকের লাভ হবে। কারণ সুদ কিন্তু অনেক। ৯ শতাংশ, আবার দিতে না পারলে সেটি ২ শতাংশ যোগ হয়ে ১১ শতাংশ হয়ে যাচ্ছে। এ পরিমাণ সুদ দিয়ে হিমাগার চালাতে পারবে না। কারণ যে ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি বাড়বে, তারা মূল টাকা কোনোভাবেই এ অল্প সময়ে পরিশোধ করতে পারবে না। শুধু সুদ দিয়ে যাবে। একটা সময় পর তারা ঋণখেলাপি হয়ে যাবে। ঋণ পুনঃতফসিল না শুধু, যারা এখনো ঋণখেলাপি হননি তাদের জন্য ঋণ পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। এ কিস্তিগুলো হওয়া উচিত বার্ষিক এবং দীর্ঘমেয়াদি। সরকার যদি নীতিগত সহায়তা না দেয়, তাহলে আলু উৎপাদন একটা সময় বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের এখন আলু আমদানি করতে হয় না, উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হবে। ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধে ২০ বছর চাচ্ছেন, অন্তত ১৫ বছরও যদি না দেয় তাহলে টিকে থাকতে পারবে না।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক হিমাগারের প্রকল্প ঋণ ও চলতি মূলধন ঋণের অপরিশোধিত বকেয়া ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের শর্তে ১০ বছরে পরিশোধের জন্য নীতিমালা প্রকাশ করে। এর পরও ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। হিমাগার মালিকরা ১৫ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য ব্যাংক এবং অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আবেদন করলে পাঁচ-ছয় বছরের জন্য পুনঃতফসিল করা হয়। ফলে ঋণের কিস্তি বেড়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধে আবারো ব্যর্থ হন তারা। ২০১৭ সালে প্রায় ১৫ লাখ টন এবং ২০২১ সালে প্রায় ২০ লাখ টন আলু অবিক্রীত থাকার আশঙ্কা দেখা দেয়। সে সময় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। এ সময় সব রকমের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন তারা।

করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালে পরিবহন ও শ্রমিকের অভাব এবং ব্যাংকঋণ না পাওয়ায় হিমাগারগুলোতে মাত্র ৪০ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। এ সময় চলতি মূলধন ঋণের অভাবে অন্তত ৩৮টি হিমাগার বন্ধ ছিল। দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন। সে হিসেবে প্রতি বছর ১৫-২০ লাখ টন আলু অবিক্রীত থেকে যায়। এ উদ্বৃত্ত আলু ত্রাণকার্য, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড ও ওএমএসে বিতরণের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় গভর্নর বরাবর লেখা চিঠিতে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে প্রকল্পের আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে ২০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়ার আবেদন জানানো হয়। এতে প্রকল্প ঋণ ও চলতি মূলধন ঋণের আরোপিত ও অনারোপিত সুদবিহীন ব্লকড হিসাবে আবদ্ধ রেখে আসল ঋণ পুনঃতফসিল করে দুই বছরের জন্য ঋণের কিস্তি পরিশোধ থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি করা হয়।




  এ বিভাগের অন্যান্য