www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

কৃষিপণ্যের রফতানি দশ গুণ করা অসম্ভব কিছু নয়


 এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন    ৬ জুলাই ২০২২, বুধবার, ৯:১২   সম্পাদকীয় বিভাগ


কৃষি খাত ব্যাপক সম্ভাবনাময় একটি সেক্টর। আরএমজি সেক্টরের পর এ সেক্টরই বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। অ্যাগ্রো সেক্টরকে উন্নত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। রফতানিতে ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে এটা দেশের জন্য এবং আমাদের রফতানিকারকদের জন্য একটা মাইলফলক। কাজেই সব সেক্টরেই রফতানির মাত্রা উত্তরোত্তর বাড়বে বলে আমি মনে করি। এর মধ্যে অ্যাগ্রো সেক্টরকে এগিয়ে নেয়ার বিপুল একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা যারা এ সেক্টরের ব্যবসায়ী এবং রফতানিকারক রয়েছি, তাদের এ লক্ষ্যে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারও আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এ সেক্টরে আমাদের যা অর্জন, তাতে আরো অনেক বড় জায়গায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখন ১ বিলিয়নের ঘরে থাকলেও এটাকে ৫ গুণ কিংবা ১০ গুণ করা অসম্ভব কিছু নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশীয় বাজারে ভোক্তাদের আন্তর্জাতিক মানের খাবার দিতে চাইলেও এ সেক্টরকে বড় করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের পূর্বশর্ত হলো গুণগত মান রক্ষা। আগের চেয়ে এ সেক্টরে শাকসবজি, ফলমূলসহ যেসব প্রসেসড ফুড রয়েছে, সব ক্ষেত্রেই কিন্তু এখন গুণগত মান বেড়েছে। আমদানিকারক দেশের চাহিদা অনুযায়ী গুণগত মান রক্ষা করা আমাদের জন্য অসম্ভব কিছু নয়। প্রতিনিয়ত এটা উন্নত করতে হবে। চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যত দ্রুত আমরা এগুলো অতিক্রম করতে পারব ততই এ সেক্টরের জন্য মঙ্গল হবে।

কোল্ড চেইন আমাদের দেশে এখনো সেভাবে হয়নি। খুব দ্রুত এটা হয়ে যাবে। সম্প্রতি একটি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে যে কোল্ড চেইন মেইনটেইন করা এ সেক্টরের উন্নতির পূর্বশর্ত। আমার মনে হয় আগামী দু-এক বছরের মধ্যে এ ধাপ অতিক্রম করতে পারব। তখন আন্তর্জাতিক বাজারের যে রিকোয়ারমেন্ট সেটা ফিলআপ করার সুযোগ হবে।

অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে প্রথমেই বলতে হয় বিমান ভাড়ার বিষয়টি। আমাদের বিমান ভাড়া কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে বেশি। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, কোল্ড চেইন মেইনটেইন করার জন্য যে রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। সে লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী পূর্বাচলে দুই একর জমি দিয়েছেন। সেখানে গুণগতমান কোল্ড চেইন মেইনটেইন করার জন্য সবকিছু থাকবে। এর কাজ খুব দ্রুত শুরু হবে। সেটা সম্পন্ন হলে আমরা আরো একধাপ এগিয়ে যাব। সেখানে সব ধরনের টেস্ট ল্যাব থাকবে। এখন প্রধান অন্তরায় হলো বিমান ভাড়া। আরেকটা বিষয় হচ্ছে কার্গো এয়ার স্পেস; অনেক সময় দেখা যায় আমাদের চাহিদা আছে কিন্তু রফতানি করতে পারছি না কার্গো স্পেসের অভাবে। আমাদের সে চ্যালেঞ্জটাও মোকাবেলা করতে হবে। আন্তরিকতার সঙ্গে সরকারসহ সবাই কাজ করলে এসব বাধা অতিক্রম করা সহজ হবে।

বাংলাদেশ বিমানের যেহেতু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারা কার্গো বিমানের আলাদা ফ্লাইট সরবরাহ করতে পারে। বিদেশী যেসব বিমান রয়েছে, সেগুলোকে কার্গো স্পেসের জন্য বাধ্য করতে পারে। যেন তারা একটা পার্ট কার্গো স্পেসের জন্য ব্যবহার করে। ১০-১২ বছর আগে এটা ছিল। তাদের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনে যুক্ত করে দিতে হবে, যে ন্যায্য দামে ৩০ শতাংশ জায়গা বরাদ্দ দেবে। এটা নির্ধারণ করে দিতে হবে। এখন দেখা যায়, এক সপ্তাহে ১০ টাকা খরচ হলে পরের সপ্তাহে যদি আরএমজির চাপ থাকে তাহলে সেটা ১২ থেকে ১৫ টাকা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের যেহেতু বার্ষিক কন্ট্রাক্ট হয়, ফলে রফতানিকারকরা ব্যাটে-বলে মেলাতে পারেন না। আমদানিকারকরা সবসময় যেখান থেকে আমদানি করতে পারে, ভোক্তাদের খুশি রাখতে পারে সেখান থেকেই আমদানি করবে। এগুলোর দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যখন আরএমজির চাপ দেখে তখন কার্গো স্পেস বরাদ্দ কম দিয়ে থাকে। এগুলোও আমাদের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। আমদানিকারকদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমরা রফতানি করতে পারি না। অর্ডার বাতিল করতে হয়।

আমাদের সম্ভাবনাময় রফতানি পণ্যগুলোর মধ্যে আরএমজি তো আছেই। এ পণ্য অনেক দূর এগিয়েছে। এখন আমাদের এগ্রো সেক্টরের পাট, মত্স্য, চামড়া, মেডিসিন এসব সেক্টরকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ অ্যাগ্রো সেক্টর যখন উন্নত হবে, তখন শুধু দেশে নয় বৈদেশিক বাজারটাও বড় হবে। কৃষকরা তাদের ন্যায্যমূল্য পাবে। আর ন্যায্যমূল্য পেলে তাদের উৎপাদন আরো বাড়বে। উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় ও বৈদেশিক বাজার সব ক্ষেত্রেই আমাদের পরিসর বাড়বে। বিশ্বে কিন্তু অ্যাগ্রো সেক্টরের বিশাল একটি বাজার রয়েছে। প্রসেসড ফুডের যে গুণগত মান, সেটাও আমাদের রক্ষা করতে হবে। দু-একটা কোম্পানি ছাড়া সেটা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মেইনটেইন হয় না। এটা নিয়ে বিদেশে আমাদের বদনাম হতে পারে। ইংল্যান্ডের যে চাহিদা রয়েছে ফ্রোজেন ফুড ও ফ্রেশ ফুডের ক্ষেত্রে তার ১ শতাংশও কিন্তু আমরা রফতানি করতে পারি না। আমরা যদি ৫ শতাংশও তাদের মার্কেট দখল করতে পারি, তাহলে আমাদের এখন যেটা ১ বিলিয়ন রয়েছে, তা ৫ বিলিয়নে দাঁড়াবে। কিন্তু আমরা সেখানে ফোকাস করি না। আমাদের ক্ষুদ্র যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তা যদি ওভারকাম করতে পারি তাহলেও কিন্তু এ সেক্টরটা দাঁড়িয়ে যায়। সমস্যাগুলো নিয়ে নিয়মিত ফলোআপ করতে হবে।

 




  এ বিভাগের অন্যান্য