www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ভুলে ১৪০০ হাঁসের মৃত্যু


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ৬ জুলাই ২০২২, বুধবার, ৯:২৩   পোল্ট্রি বিভাগ


টাঙ্গাইলের বাসাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ডাকপ্লেগ রোগের মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন প্রয়োগে খামারের প্রায় ১৪০০ হাঁসের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খামারের মালিক রিপন সিকদারের প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র এই উদ্যোক্তা। ক্ষতিগ্রস্ত রিপন জেলার বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নের ময়থা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনি আইনগত সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানা যায়, এক বছর আগে রিপন সিকদার ৪২ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে হাঁসের খামার করেন। প্রথম অবস্থায় তিনি এক হাজার হাঁস নিয়ে খামার শুরু করেন। এরপর দ্বিতীয়বারে তিনি ডিমের জন্য নাগেশ্বরী জাতের ১৭৩০টি হাঁসের বাচ্চা ও মাংসের জন্য বেলজিয়াম জাতের ৭০টিসহ মোট ১৮০০টি হাঁসের বাচ্চা খামারে তোলেন।

বাচ্চাগুলোর এক মাস বয়সে গত ৫ জুন রিপন সিকদার বাসাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) জাহিরুল ইসলামের কাছে ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিনের জন্য যান। ওই সময় জাহিরুল ইসলাম তাকে ১৯টি ভ্যাকসিনের বোতল দেন। এরপর ৭ জুন রিপন হাঁসগুলোকে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন।

ভ্যাকসিন প্রয়োগের একদিন পর থেকে হাঁসগুলো মারা যেতে শুরু করে। ক্রমেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কয়েকদিনের ভেতরে প্রায় ১৪০০ হাঁসের মৃত্যু হয়। ওই সময় ভ্যাকসিনের বোতল চেক করলে দেখা যায় চলতি বছরের ২০ মে ভ্যাকসিনটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

রিপনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে ভ্যাসকিন আনার পর প্রায় ১৭০০ হাঁসকে প্রয়োগ করা হয়। আর বাকিহাঁসগুলোকে একটি কোম্পানির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরেরদিন থেকে হাঁস মারা যাওয়া শুরু হয়। একদিনেই প্রায় ৫০০ হাঁসের মৃত্যু হয়। এভাবেই প্রায় ১৪০০ হাঁস মারা গেছে। এরপর বাকি প্রায় ৪০০ হাঁসকে বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানেও হাঁস মারা যাচ্ছে। ঋণ নিয়ে এই খামারটি করেছিলাম। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’

ক্ষতিগ্রস্ত রিপন সিকদার বলেন, ‘গত ৫ জুন আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ভ্যাকসিনের দায়িত্বে থাকা জাহিরুল ইসলামের কাছে হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিন আনতে যাই। তিনি আমাকে ১৯টি ভ্যাকসিনের বোতল দেন। এরপর আমি ৭ জুন প্রায় ১৭০০ হাঁসকে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করি। ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরেরদিন থেকে হাসগুলো মারা যেতে শুরু করে। একদিনে ৫০০ হাঁসের ওপরেও মারা গেছে। এভাবে কয়েকদিনের মধ্যে আমার খামারের প্রায় ১৪০০ হাঁস মারা গেছে। মৃত হাঁসগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। এরপর বাকি জীবিত হাঁসগুলো বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেগুলোও মারা যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাঁসগুলো মারা যেতে থাকলে ভ্যাকসিনের বোতল চেক করে দেখি প্রায় এক মাস আগে ভ্যাকসিনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। জাহিরুল ইসলামের ভুলের কারণে আমার প্রায় ৭ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর আমি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গেলে জাহিরুল ইসলাম, তার ভুল হয়েছে বলে জানান। আমি ঋণ নিয়ে এই হাঁসের খামারটি করেছি। এই ক্ষতি আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। এই ক্ষতি পোষানোর মতো আমার ক্ষমতা নেই। এ কারণে আমি ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা শামছুল হক বলেন, ‘রিপন ঋণ করে এই খামারটি করেছিল। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তার ভুলের কারণে রিপনের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। অভিযুক্ত কর্মকর্তার শাস্তি ও পাশাপাশি রিপনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন সরকার জামাল বলেন, একজন কর্মকর্তার ভুলের কারণে রিপনের ১৪০০ থেকে ১৫০০ হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। রিপনের অনেক টাকা ক্ষতি হয়ে গেলো। এলাকাবাসী হিসেবে রিপনের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) অভিযুক্ত জাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘রিপন নামের ছেলেটি আমার কাছে গত ৬ জুন এসেছিল। পরে তাকে ২০টি ডাকপ্লেগ রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কয়েকটি হাঁস মারা যাওয়ার পর রিপন আমার কাছে এসে ১০টি ভ্যাকসিন ফেরত দিয়ে গেছে। পরে চেক করে দেখি ২০ মে ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওই ভ্যাকসিনগুলো দেখে আমাদের অফিসে থাকা বাকিগুলো ফেলে দিয়েছি। হঠাৎ করে আবার এসে সে বলছেন তার সর্বমোট ১৪০০ হাঁস মারা গেছে।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিনগুলো তাকে দেওয়ার সময় আমি মেয়াদ খেয়াল করিনি, এটাই আমার ভুল হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনের মেয়াদ না থাকলে উপকার না হলেও ক্ষতি হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।

বাসাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক আহাম্মদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এসেই হাঁসগুলোর মৃত্যুর ঘটনা জেনেছি। মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন বিতরণ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও ভুক্তভোগীকে প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তা করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রানা মিয়া জানান, এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার কোনো গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




  এ বিভাগের অন্যান্য