www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

আমন উৎপাদনে চ্যালেঞ্জ


 আবু হেনা ইকবাল আহমেদ    ১৭ জুলাই ২০২২, রবিবার, ৯:৩৮   সম্পাদকীয় বিভাগ


কৃষিতে বীজের জিনগত মানোন্নয়ন, পশু থেকে যান্ত্রিক চাষাবাদ, রাসায়নিকের বহুবিধ ব্যবহার এবং উত্পন্ন ফসল প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণে নিত্য-নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার ঘটছে অহরহ। এতে ড্রোনের ব্যবহারও চোখে পড়ার মতো। প্রযুক্তির সমন্বয়ে কৃষি বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। খাদ্যনিরাপত্তা মাথায় রেখে নিজের খাদ্য নিজেদের উৎপাদনের উপলব্ধি এ দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন এবং সময়োপযোগী ব্যবস্থা নেন। সে লক্ষ্যে বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমাদের চলমান কৃষি ব্যবস্থা নতুন করে ঢেলে সাজানো সময়ের দাবি।

ভোজ্যতেল, ডাল ও মসলা প্রভৃতিতে দেশ প্রায় পাঁচ যুগ আগেও স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। যার সিংহভাগই উৎপাদন হতো রবি মৌসুমে। প্রধান ফসল ধান প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অধিক উত্পন্ন হতো গ্রীষ্ম ও শরত্কালে। গ্রীষ্ম মৌসুমে আউশ ধান বোনা হতো বৃষ্টি মাথায় রেখে। বোনা আমনের বীজও এ সময়ে নিচু জমিতে ছিটানো হতো। কখনো আউশ-আমন মিশ্র ফসল বোনা হতো। বর্ষায় নিচু জমির গভীর পানিতে ভেসে থাকত গভীর পানির বোনা আমন। মাস তিনেক পর থেকে একে একে উঁচু জমির আউশ ধান ঘরে তোলা হতো। শরতে পানি শুকিয়ে এলে মাঠ থেকে ঘরে হতো আমন ধান। বোরো ধান হতো রবি মৌসুমে সীমিত নিচু এলাকায়, বিশেষ করে হাওর-বাঁওড়াঞ্চলে। ভূ-উপরিস্থ সেচনির্ভর রবি মৌসুমে বেশি উত্পন্ন হতো ডাল, তেলবীজসহ নানা ফসল।

ষাটের দশকের শুরুতে উচ্চফলনশীল বীজ, ভূ-গভীরস্থ সেচ, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক দিয়ে ফসল উৎপাদনে সবুজ বিপ্লবের শুরু। বীজ, সেচযন্ত্র, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক আর পরামর্শ পুরোটাই ছিল বিদেশনির্ভর এবং রবি মৌসুমের বোরো ধান লক্ষ্য করে। একে একে ডাল, তেলবীজ ও মসলাদি প্রভৃতির জমি গ্রাস করে বোরো ধান। উচ্চফলনশীল এবং আরো অধিক ফলনের হাইব্রিড বোরো ধানের অর্ধেকেরও বেশি পরিমাণের ওপর ভর করে প্রধান খাদ্যশস্যে প্রায় স্বনির্ভর হয়ে ওঠে দেশ। উপরন্তু ডাল, মসলা ও তেলবীজের ঘাটতি ক্রমে বাড়তে থাকে। চাপ পড়তে থাকে পানিসম্পদেও।

এখন সময় এসেছে কৃষিকে আরো প্রকৃতিবান্ধব, স্মার্ট ও সুসংহত করার। প্রতিযোগিতামূলক বিরূপ বিশ্বে খেয়েপরে বেঁচে থাকতে খাদ্য উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমানো, এর মূল্য আমজনতার নাগালে রাখা খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম নিয়ামক। করোনাকাল এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এ চিন্তাকে আরো ধ্রুব করে তুলছে।

সর্বাধিক জনঘন এবং ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার এদেশে সীমিত কৃষিজমি নানাবিধ কাজে অন্য খাতে দ্রুত চলে যাচ্ছে। ভূ-উপরিস্থ ও ভূ-গর্ভন্থ মিঠাপানিও ক্রমহ্রাসমান। তদুপরি, প্রধান খাদ্যশস্য বোরো ধান আবাদের কারণে দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য গমসহ আলু, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ, সবজি ও মসলা ফসলের এলাকা সংকুচিত হচ্ছে। সে সঙ্গে ডাল, তেলবীজ ও মসলাদি অনেকটাই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছে। তাই প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনে আমন ধান; যার অবস্থান বোরো ধানের পরই, তার ওপর নতুনভাবে দৃষ্টি ফেরানো সমীচীন।

অধিকাংশ আমন ধানের জাত আলোক সংবেদনশীল। কোনো জাতে আলোক সংবেদনশীলতা স্বল্প। আবার কোনো কোনো জাতে আলোক সংবেদনশীলতা নেই। অধিকাংশ আমন ধান ভাদ্র মাসের শেষ তথা মধ্য সেপ্টেম্বরের পর রোপণ করা না গেলে আশানুরূপ ফলন হয় না। উফশী ও হাইব্রিড জাতগুলোর বেলায় এসব বিষয় মাথায় রাখতে হয়। তাই আধুনিক আমন ধান বীজ; কোন জাত, কখন বীজতলায় ফেলতে হবে. আর কখন মূল জমিতে রোপণ করতে হবে, সে বিষয়ে তৃণমূলের কর্মীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন জরুরি।

আমন ধান উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় মৌসুমি বন্যা। এ ব-দ্বীপের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষিজমি কম-বেশি বন্যাপ্রবণ। ২০ শতাংশের মতো কৃষিজমি প্রায় দুই সপ্তাহকাল পানিতে ডুবে থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় আট লাখ হেক্টর অধিক কৃষিজমি লবণাক্ত ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবযুক্ত। বৃষ্টিনির্ভর এ সময়ের ধান কয়েক বছর পরপর খরায় আক্রান্ত হয়। তখন নদী ও জলাভূমি প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তখনই সম্পূরক সেচের প্রয়োজন পড়ে। ব্রি ও বিনা থেকে কয়েকটি জাত এসব ঝুঁকি মাথায় নিয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তা কৃষকের দুয়ার পর্যন্ত চাহিদামাফিক প্রাপ্তি ভাগ্যের বিষয়। কখনো তা স্থানীয় চাহিদার কাছে মার খাচ্ছে। সে বিষয়ে অনুসন্ধান ও স্থানীয় গবেষণার আবশ্যকতা রয়েছে। যদিও বন্যা, খরা প্রভৃতি এলাকা চিহ্নিতকরণ করা আছে গবেষকদের হাতের কাছে। এখন মাঠে বাস্তবায়ন আবশ্যক।

দেশের বন্যামুক্ত এলাকার জন্য আমন মৌসুমে উফশী জাতের চেয়ে ২০ শতাংশের অধিক ফলন দেয়া মাঝারি চিকন মানসম্পন্ন চালের ব্রি হাইব্রিড ধান-৪ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর অঞ্চলের জন্য সরু ও লম্বা মানসম্পন্ন চালের ব্রি হাইব্রিড ধান-৬ উভয়ের ৬ দশমিক ৫ টন। জীবনকালও উফশীর তুলনায় স্বল্প। কিন্তু খোলাবাজারে এ বীজ প্রাপ্তি দুষ্কর। আবাদের শুরুতে প্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং এর উৎপাদন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা কৃষক পর্যায়ে প্রায় জোটে না।

আমন মৌসুমে অসাধু ডিলাররা কখনো নিম্নমানের বীজ উফশী হিসেবে বেশি দামে এবং অনুরূপ উফশী বীজকে হাইব্রিড হিসেবে চড়ামূল্যে বিক্রয় করে। ফলে কৃষক উফশী ও হাইব্রিড বীজের ক্রয়ে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এর পরিবর্তে নিজের বা বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে এলাকায় জনপ্রিয় স্থানীয় ও অননুমোদিত জাতের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখান। যেমন আমন মৌসুমে ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪ ও ব্রি ধান-৯৫ অননুমোদিত ভারতীয় স্বর্ণার বিকল্প এবং ফলন বেশি। কিন্তু স্থানীয়ভাবে সে বীজ পাওয়ার ব্যবস্থা খুবই সীমিত। আমন ধান অধিকাংশই সরু ও সুগন্ধি জাতের। এর বাজার মূল্য বেশি হলেও ফলন কম। ব্রি ও বিনার উদ্ভাবিত সরু ও সুগন্ধি আমন জাতের ফলনও সাধারণ উফশী জাতের চেয়ে এখনো বেশ কম। এ বিষয়ে নিবিড় গবেষণার সুযোগ রয়েছে।

বোরো ধানের সময়ে চালু সেচযন্ত্র আমন ধান চাষকালে বন্ধ থাকে; বিশেষ করে বিদ্যুচ্চালিত সেচযন্ত্র। এ ব্যবস্থা অনেক সময় খরায় আমনে সম্পূরক সেচ প্রদানে বিঘ্ন ঘটায়। ভূ-উপরিস্থ সেচ প্রকল্পগুলোয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করার জন্য পানি আটকে রাখায় সময়মতো আমনে সেচ প্রদানে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আশ্বিন-কার্তিকে এখন অধিকাংশ নদী-খাল-বিল প্রায় শুকিয়ে যায়। জলাশয়ের পরিমাণও দিন দিন ক্ষয়িষ্ণু হতে চলেছে। কার্তিকে বৃষ্টি না হলে খরায় সম্পূরক সেচ দেয়া অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।

আমন মৌসুমে অধিক হারে চাল উৎপাদনে স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা বাঞ্ছনীয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোয় এখনো বীজ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আউশ ও আমনের চেয়ে বোরোর প্রাধান্য চোখে পড়ার মতো। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ্য, ব্রি-এর বোরো হাইব্রিড উদ্ভাবনের সংখ্যা আমনের দ্বিগুণ। প্রযুক্তির বেলায় তা-ই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০২২ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি কাল পর্যন্ত অনুমোদিত ২২৩টি হাইব্রিড ধানের মাঝে মাত্র ২৮ আমন ধানের। সময় এসেছে এখন আমনকে প্রাধান্য দেয়ার।

গবেষণায় আমনে উফশী জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড ও সুপার রাইস ভেরাইটির অনুসন্ধান এবং তা প্রবর্তনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম হাতে নেয়া দরকার। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ছত্রতলে ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠাগুলো, মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, বিএডিসি এবং ধান গবেষণা ও বিপণনে জড়িত বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয় বিবেচনায় আনতে পারে। মাঠ পর্যায়ে আমন ধান উৎপাদন ও তা বৃদ্ধির চলমান এবং সম্ভাব্য সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের প্রায়োগিক গবেষণার ফলগুলো যথাস্থানে পৌঁছানোর বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা অত্যাবশ্যক।

উল্লেখ্য, মোগল আমলে বন্যাক্রান্ত এলাকায় খাজনা মওকুফ এবং সুদমুক্ত তাকাবি ঋণের ব্যবস্থা ছিল। খাদ্যনিরাপত্তার তাগিদে, বন্যার পর আমন ধান আবাদের শেষাবস্থায় পরাঙ্গি প্রযুক্তিতে দেশী জাত আবাদ হতো। এক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত উফশী বা হাইব্রিড জাত বন্যা-পরবর্তী বেশ কার্যকর খাদ্যনিরাপত্তার লাগসই প্রযুক্তি হতে পারে।

আমন মৌসুমে স্থান ও পরিবেশ উপযোগী মানসম্পন্ন আমন বীজ এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের গবেষণায় অগ্রাধিকার প্রদান এক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রয়োগিক গবেষণা জোরদারের লক্ষ্যে কৃষিসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বীজ ও প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বিশেষভাবে আমন মৌসুমের ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে সময়োপযোগী কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিস্তার যত শিগগির কার্যকর হবে, দেশের জন্য ততই কল্যাণকর।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিএডিসির মাধ্যমে নদী, হাওর ভাঙন, কৃষিজমি পুনরুদ্ধারকরণ জরুরি, যা ফসল উৎপাদনক্ষম আমন মৌসুমের এলাকা সুরক্ষা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল বাস্তবায়নে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বিএডিসি এবং বেসরকারি বীজ কোম্পানির হাতে বিদ্যমান অনুমোদিত হাইব্রিড এবং উচ্চফলনশীল আমন জাত স্থানীয় উপযোগিতার ভিত্তিতে আবাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিএডিসি, কৃষি বিপণন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ উৎপাদিত খাদ্যশস্য ক্রয়ের ফলে আমন ধান উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, আমন মৌসুমে বি আর ১১ জাতটি দেশময় ছড়িয়ে দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির চমকপ্রদ ইতিহাস এখনো জ্বলজ্বলে।

অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদনক্ষম উফশী ও হাইব্রিড আমন ধানের বীজ, সার ও সর্বশেষ প্রযুক্তি কৃষকের হাতে পৌঁছানো এবং ঝুঁকি মোকাবেলার কৌশল কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান আমন ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বন্যার আগাম মোকাবেলা এবং যথাসময়ে সেচের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বিএডিসির সেচ উইংয়ের আগাম ব্যবস্থা থাকা দরকার। উৎপাদিত ফসলের বাজার খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদারকি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন কৃষক ন্যায্য দাম পেয়ে আবাদ বৃদ্ধিতে উৎসাহ ধরে রাখেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়ার আগাম তথ্য-কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি তথ্য সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক প্রভৃতির সহায়তায় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রচারকরণ। এসব খবর এবং করণীয় বার্তা কৃষকদের মাঝে ব্যাপক প্রচার দুর্যোগকালীন অভিঘাত বহুলাংশে কমানোয় সহায়ক হবে।

বেসরকারি বীজ কোম্পানির কয়েকটি আমনের উফশী এবং হাইব্রিড আগাম জাত রয়েছে যা কাটার পর; ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলাদিসহ আগাম রবি ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করার সুবিধা বিদ্যমান। প্রণোদনার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণ এবং জাতীয় গণমাধ্যমে তার ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন। এছাড়াও সব সংস্থার অনুমোদিত উফশী ও হাইব্রিড আমন ধানের জাত রাসায়নিক বালাইনাশক দিয়ে শোধন করে, প্রয়োজনে উপকরণসহ ভর্তুকি দিয়ে বিএডিসি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেয়া যেতে পরে। বীজ শোধনের কারণে তা জীবাণু ও প্রাণী খাবারে অযোগ্য এবং অপব্যবহার রোধ হবে। এসব অনুপ্রেরণামূলক কর্মসূচি সহসাই চমকপ্রদ বর্ধিত উৎপাদন হিসেবে দেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করবে।

যেহেতু সরু ও লম্বা চালের চাহিদা বেশি, তাই সেসব জাতের আমন বীজ কৃষকের মাঝে এলাকাভিত্তিক (ক্লাস্টার) চুক্তিবদ্ধ চাষীর মাধ্যমে চাষ করে, খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংগ্রহ করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য, ইদানীং আমন ধান চাষের নিরাপদ এলাকায় বৃহৎ কোম্পানিগুলো ধান সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে চাল সরবরাহ শুরু করেছে।

খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়গুলো টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০, রূপকল্প ২০৪১সহ শতবছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর অংশ। দেশের ক্রমহ্রাসমান কৃষিজমি এবং পানিসম্পদকে সুচিন্তিত পরিকল্পনামাফিক স্মার্টভাবে কাজে লাগানো গেলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটকালে দেশে আমন ধান খাদ্যনিরাপত্তার প্রত্যাশা পূরণে অবদান রাখতে পারে। সে সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

 

আবু হেনা ইকবাল আহমেদ: সাবেক পরিচালক

বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী, কৃষি মন্ত্রণালয়




  এ বিভাগের অন্যান্য