www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

সখীপুরে ড্রাগন চাষ স্বপ্ন দেখাচ্ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১৫ আগস্ট ২০২২, সোমবার, ৫:৩৪   কৃষি ক্যারিয়ার বিভাগ


টাঙ্গাইলের সখীপুরে ড্রাগন চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাগানে চাষকৃত এ ফল স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা দরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করছেন চাষীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেশাগত কৃষকদের পাশাপাশি তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারাও ড্রাগন ফল চাষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তাদেরই একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ তালুকদার। সখীপুরে কালিয়া ইউনিয়নে নিজেদের জায়গায় অল্প পুঁজিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেছেন তিনি।

তরুণ এ কৃষি উদ্যোক্তা বলেন, করোনার সময় গ্রামের বাড়িতে বসে বসে দিন কাটছিল। পরে একা একাই ভাবতে লাগলাম এভাবে দিন পার করলে চলবে না, কিছু একটা করতে হবে। তার পর কৃষি নিয়ে কিছু করা যায় কিনা সেই চিন্তা চেতনা থেকেই ড্রাগন চাষ সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে থেকে জানালাম। গ্রামে আমাদের নিজস্ব ১২ শতাংশ জমিতে ৩২০টি ড্রাগনের চারা রোপন করার মাধ্যমে ড্রাগন চাষ শুরু করেছি। এক বছরের মাথায় ড্রাগন বাগানে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফলন হয়েছে।

তিনি বলেন, নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করতেও পারি। রসায়নের বিভাগের ছাত্র হিসাবে রসায়নের সঙ্গে সম্পর্ক যেমন ভালো, তেমনি কৃষির সঙ্গে সম্পর্ক আমার আত্মার। আমার পিতাও কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

দারিয়াপুর ইউনিয়নের ড্রাগন চাষী মো. সোহেল রানা বলেন, আমি দীর্ঘ সময় প্রবাসে ছিলাম। এখন দেশে আশার পর নিজের ১০০ শতাংশ জমিতে দুই হাজার ড্রাগন ফলের চারা রোপন করেছি। এ পর্যন্ত বাগানের খরচ বাবদ ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর আশা করি ফল বিক্রি করলে খরচের চালানসহ লাভবান হব।

তিনি বলেন, বাজারে পাইকারি ২৫০ টাকা দরে ড্রাগন ফল বিক্রি করি। গত দুই বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো ড্রাগন ফল বিক্রি করেছি। পাশাপাশি মাল্টা, বরই, কলা ও পেঁপে বাগান করেছি। এবছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো পেঁপে বিক্রি করেছি। আমি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছি।

একই ইউনিয়নের সাইদুল ইসলাম স্বপন মিয়া বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি আমি ২০১৫ সাল থেকে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। সম্প্রতি দাড়িয়াপুরের দেওবাড়ী নেদারচালায় এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি বর্গা নিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ড্রাগন ফল গাছের চারা রোপন করেছি। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় আমার সবজি কলা, চিনি চম্পা কলা ও সাগর কলার বাগান রয়েছে। প্রায় চল্লিশ হাজারের মতো কলা গাছও রয়েছে বাগানে। আমি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছি। আগামী দিনগুলোতে আমি কৃষি কাজের সঙ্গেই সম্পৃক্ত থাকতে চাই। ড্রাগন বাগান যে বিনিয়োগ করেছি আশা করি বাগান থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, ড্রাগন অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি ফল। সখীপুর উপজেলার মাটি চাষের উপযোগী হওয়ায় অন্যান্য ফলের পাশাপাশি কৃষকরা ড্রাগন চাষ করছে। উপজেলার প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করছে ড্রাগন ফল চাষীরা। এতে করে কৃষকরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা অর্জন করছে, তেমনি আমাদের দেহের (মানব শরীরের) পুষ্টির অভাবও পূরণ হচ্ছে।




  এ বিভাগের অন্যান্য