www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

অতি ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরাই চা বাগানের মালিক


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার, ৬:২২   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


দেশে চা বোর্ডের নিবন্ধিত চা বাগান রয়েছে ১৬৭টি। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও—এ সাত জেলার মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৬ দশমিক ৮৮ একর জমিতে গড়ে উঠেছে চা বাগানগুলো। সবচেয়ে বেশি আয়তনের জমিতে চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। সেখানে চা বাগান গড়ে উঠেছে দেড় লাখ একরেরও বেশি জমিতে। এদিক থেকে পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম। চা বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশে অতি ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এসব চা বাগানের মালিক হিসেবে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে চা বাগানের সংখ্যা ২৩। এর মধ্যে ভূজপুরে নেপচুন চা বাগানের মালিকানায় রয়েছেন এমএম ইস্পাহানী লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানী। বাঁশখালী উপজেলায় চাঁদপুর-বেলগাঁও চা বাগানের মালিকানায় রয়েছেন সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রামগড় চা বাগান ও হালদা ভ্যালি চা বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান হালদা ভ্যালি টি কোং লিমিটেড। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদের খান। একই উপজেলায় নিউ চাঁদমারা চা বাগানের মালিক এ তালেব চৌধুরী অ্যান্ড সন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু নাছের চৌধুরী। আঁধারমানিক চা বাগানের মালিক আঁধারমানিক টি কোং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন কাশেম খান।

রাঙ্গুনিয়ায় কোদালা চা বাগান, ফটিকছড়ির কৈয়াছড়া-ডলু চা বাগান এবং কর্ণফুলী চা বাগানের মালিক ব্র্যাক কোদালা টি কোং লিমিটেডের পরিচালক সাইদ বখ্ত মজুমদার। ফটিকছড়ির উদালিয়া চা বাগানের মালিক ফেয়ারওয়েজ করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হেফাজুতুর রহমান। একই উপজেলায় মা-জান চা বাগানের মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠান নুরপুর টি হোল্ডিং কোং লিমিটেড, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেগম ফাহমিদা হোসাইন খান।

নাছেহা চা বাগানের মালিক প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনাম। ফটিকছড়ির বারমাসিয়া চা বাগান, এলাহীনুর চা বাগান ও রাঙ্গাপানি চা বাগান—এ তিন বাগানের মালিকানা রয়েছে টিকে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের হাতে। বাগানগুলোর পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তারিক আহমেদ। রাঙ্গুনিয়ার ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী এমএন আলম। মোহাম্মদনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলাল হোসেন।

ফটিকছড়ির দাঁতমারা চা বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান এটর্নি দাঁতমারা চা বাগান। মালিক ফজলে মোবিন ফারুকী। আছিয়া চা বাগানের মালিকানা রয়েছে আছিয়া টি এস্টেট লিমিটেডের হাতে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল আলম। রাঙ্গুনিয়ার আগুনিয়া চা বাগানের মালিকানায় রয়েছেন পরিচালক মীর শওকত হোসেন। মির্জাপুরের পঞ্চবটি চা বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন বাহাদুর।

চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গাছড়া চা বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ওয়াগ্গাছড়া টি কোং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রশিদ কাদেরী। একই জেলার খেদারমারা চা বাগানের ব্যবস্থাপক খন্দমনি চাকমা।

সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় চা বাগান রয়েছে মোট ১৩৫টি। এর মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী, শ্রীমঙ্গলের নূরজাহান, রাজনগরের আমিনাবাদ, চান্দবাগ, জৈন্তাপুর উপজেলার হাবিবনগর, খান চা, আফিফানগর, লালাখাল—এ চা বাগানগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠান এম আহমেদ টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান চৌধুরী।

শ্রীমঙ্গলের ডিনেস্টন, বালিশিরা, রাজঘাট, আমরাইল, ভাড়াউড়া, রশিদপুর, দারাগাঁও—এ সাত চা বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী। কুলাউড়া উপজেলার দুটি বাগান ক্লিভডন এবং দিলদারপুর চা বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান এইচআরসি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী।

সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের চা বাগান রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা, কুরমা, চাম্পারাই, মদনমোহনপুর, মাধবপুর চা বাগান, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া, চণ্ডীছেঁড়া চা বাগান, লাক্কাতুরা চা বাগান, চুনারুঘাট উপজেলার পারকুল চা বাগান, মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া উপজেলার প্রেমনগর ও বিজয়া চা বাগান। ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আওয়াল।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা চা বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান রেমা টি কোম্পানি লিমিটেডে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনজুরুর রহমান। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় গাজীপুর, জেরিন ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর চা বাগানের মালিকানা রয়েছে এমএম ইস্পাহানী লিমিটেড। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা সালমান ইস্পাহানী।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঝিমাই, বাহুবলের মধুপুর, শ্রীমঙ্গলের দিনারপুর ও সাতগাঁও—এ চার চা বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেড। ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়লা রহমান কবীর। একই জেলার বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে আকিজ গ্রুপের বাহাদুরপুর চা বাগান। গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন।

একই জেলায় আমু, চাঁদপুর, লস্করপুর, চাকলাপুঞ্জি চা বাগান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগান, শ্রীমঙ্গলের মাঝদিহি চা বাগান, কুলাউড়ার উপজেলার লংলা, হিঙ্গাজিয়া, চাতলাপুর চা বাগান, করিমপুর উপজেলার করিমপুর চা বাগান, কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর চা বাগান, কুলাউড়ার রাজকী চা বাগান, সিলোয়া চা বাগান, রাজনগরের ইটা, চুনারঘাটের নলুয়া চা বাগান এবং কুলাউড়ার পাল্লাকান্দি চা বাগান—এ ১৬টি বাগানের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ডানকান ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় মাথিউড়া ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মমিনছড়া চা বাগানের মালিকানা রয়েছে মাথিউড়া টি কোম্পানি লিমিটেডের হাতে। বাগান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামছ উদ্দীন খান। রহমান টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় পাল্লাথল চা বাগান। বাগানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুর রহমান।

ডিউন্ডি টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানায় রয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ডিউন্ডি ও মিরতিংগা চা বাগান, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় লালচান্দ এবং মাধবপুর উপজেলায় নয়াপাড়া চা বাগান। এ চারটি বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদুল হক।

রাজনগর উপজেলায় উত্তরবাগ ইন্দুনগর চা বাগান পলিমার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানাধীন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সরোয়ার কামাল। সুরমা টি এস্টেটের মালিকানাধীন হবিগঞ্জের তেলিয়াপারা উপজেলার সুরমা চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজগর করিম।

গ্রিনভ্যালির মালিকানাধীন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বৃন্দাবন চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজ আহমেদ মজুমদার । দ্য নিউ সিলেট টি এস্টেট লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের খাদিমনগরে উপজেলায় বুরজান এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় ফুলতলা চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল হক।

সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সাগরনাল ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় নাহার চা বাগান। প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান।

ইমাম টি এস্টেট লিমিটেডের মালিকানায় রয়েছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগান। প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন জি কে মাহবুব হায়দার চৌধুরী ও মাসুদ চৌধুরী। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় কালিকাবাড়ী চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ হাসান। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জুলেখানগর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাফিজুর রহমান।

কাপনা টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কাপনা পাহাড় চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরান তানভীরুর রহমান।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় প্লান্টেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানাধীন আতিয়াবাগ, সোনারুপা ও ধামাই চা বাগান। চা বাগান তিনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়হান হাসান আলী।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিলেটের নাইয়ারপুল উপজেলার কায়সর আহাম্মদ। আমতলী প্লান্টেশন লিমিটেডের মালিকানাধীন হবিগঞ্জের বাহুবলের আমতলী চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারেহা ইসলাম চৌধুরী।

পূর্বাপাহাড় টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার রেহানা চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল বারী। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ম্যাকসন ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেডের মালিকানাধীন হাফিজ ও আয়েশাবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মালিক হুমায়ুন।

মণিপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মেরিনা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাইফ চা বাগান এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মণিপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুর রহমান। নিনা আফজাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটে খাদিম চা বাগান ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার জঙ্গলবাড়ি চা বাগান। প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশিদ চৌধুরী।

বালিশিরা হিল টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কুমাশাইল, এমআর খান ও নন্দরানী চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইরুল ইসলাম চৌধুরী। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ক্লোনাল চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মো. মনসুরুল হক। রোজ টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাঙ্গিছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বুশরা ইসলাম। হামিদিয়া টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের হামিদিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজি আলীউর রহমান।

শাহবাজপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল এস চৌধুরী। হামদর্দ টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার রশিদাবাদ, কুলাউড়া উপজেলার সিরাজনগর ও জুড়ী উপজেলার দিলকুশা চা বাগান তিনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক রশিদ চৌধুরী।

প্যারাগন এগ্রো লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার হাজীনগর, বড়লেখা উপজেলার রহমানিয়া, ফতেহবাগ ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ববান চা বাগান। প্রতিষ্ঠান চারটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান। রাজনগর টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের মালনিছড়া, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার দলই চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আলী। এস আহমেদ কোম্পানি লিমিটেডের এর মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার অহিদাবাদ চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাছির উদ্দিন আহমেদ। মেসার্স দ্য স্টার টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের স্টার চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. পংকজ কুমার গুপ্ত।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দেওরাছড়া, বড়লেখা উপজেলার নিউসমনবাগ, পাথারিয়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিটিআরআই, রাজনগর উপজেলার কাশিপুর চা বাগান। প্রতিষ্ঠান পাঁচটির দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের সচিব।

হোসেনাবাদ টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হোসেনাবাদ চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফাত নেওয়াজ। কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসিন মিয়া।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রত্না চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল হাসনাত। বড়লেখা উপজেলার ছোটলেখা চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ইসলামাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদেকুল ইসলাম।

মৌলভীবাজার উপজেলার মৌলভী চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম মঈন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার আল্লাদাদ চা বাগান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনাজ চৌধুরী। কুলাউড়া উপজেলার রুরহাননগর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মহিউদ্দিন হোসাইন। একই উপজেলার আজগরাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেবজাদি নাসরিন খান। মুরইছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নওয়াব আলী আনোয়ার খান। রাজনগর উপজেলার শফিনগর চা বাগানের প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনুর আহমেদ।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিডি মুখার্জি। ড. শামসুল হক ভুঁইয়ার মালিকানাধীন এপোলো মাল্টিপারপাস এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর চা বাগানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ডালুছেড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে এন দেব চৌধুরী।

মো. আলী বক্স অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের পাঠানটুলার আলীবাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক এসএম ছিদ্দিক আলী। লোভাছড়া টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেমস লিও ফারগুসন।

সিলেটের ডালিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোহর আলী গং। জাফলং টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিম। জৈন্তাপুর উপজেলার মেঘালয় চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসাইন।

পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট চা বাগানের সংখ্যা নয়টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার শাহবাজপুর গ্রামের চা বাগান গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফাইজুল ইসলাম হিরো। ডাহুক চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম খালিদ। কাজী অ্যান্ড কাজী চা বাগানের মালিকানায় রয়েছেন কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেডের কাজী শাহেদ আহমেদ। করতোয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

পঞ্চগড়ের হক চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ জেড রেজাউনুল হক। এমএম চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ হায়দার হোসেন। স্যালিলান চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুজাউর রব চৌধুরী। পঞ্চগড়ের বকশিগঞ্জ গ্রামের ট্রিপল জেড চা বাগানের মালিকানায় রয়েছেন মো. মফিজুল ইসলাম। সরকার পাড়ার জেড অ্যান্ড জেড চা বাগানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ জুলফিকার জহুর।

দেশের চা বাগানগুলোয় গত পাঁচ বছরে বার্ষিক গড়ে ৮ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার ২০০ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। ২০২১ পঞ্জিকাবর্ষে উৎপাদন হয় ৯ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার কেজি। উৎপাদিত চায়ের বেশির ভাগই ব্যবহার হয় অভ্যন্তরীণ ভোগে। রফতানি হয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা, যার রফতানি মূল্য ১৮ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবদান ৩ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের চা শিল্প বিশ্ববাজারে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। চলমান আন্দোলন চায়ের বাজারকে ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিটিএবি) চেয়ারম্যান ওমর হান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, চা বাগানগুলো এখন খুব ভালো অবস্থায় নেই। বাগান মালিকদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত সাত-আট বছরে নিলামে চায়ের গড় মূল্য যা ছিল তাই আছে। কিন্তু খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মজুরি, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাসহ শ্রমিকপ্রতি দৈনিক ব্যয় ন্যূনতম ৪০০ টাকা।

দেশে চায়ের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে নয় কোটি কেজি। তবে করোনাকালের চাহিদা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় বড় ধরনের লোকসান গুনেছেন বাগান মালিকরা। লোকসান কাটিয়ে উঠতে সরকারি প্রণোদনা ছাড়াও নিজ উদ্যোগে নতুন বিনিয়োগে যেতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে চা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো, রেশনের ভর্তুকি বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা অর্জন করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেছে বাগানগুলোর কর্তৃপক্ষ।

চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই একের পর এক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিলেটের চা বাগানগুলো। লাগাতার অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও প্রচণ্ড দাবদাহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উৎপাদন। এর মধ্যে আবার ক্রমাগত লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে চা প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম। প্রক্রিয়াকরণ ব্যাহত হওয়ায় চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত চায়ের যথাযথ মান ধরে রাখতে না পারলে তা রফতানির বাজারে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। কোনো কোনো বাগানের কারখানায় জেনারেটর দিয়ে প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চালু রাখা হলেও তাতে ব্যয় হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

চা সংসদের দেয়া তথ্য বলছে, চলমান ধর্মঘটের কারণে দেশের চা বাগানগুলোর দৈনিক ১৫ কোটি টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৮০ কোটি টাকার বেশি চা নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে সংকট সমাধান হয়ে নতুন করে শুরু করা হলে অন্তত দেড় মাস চা উৎপাদন শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। প্রায় এক সপ্তাহের বেশি চা প্লাগিং না হওয়ায় এসব পাতা কেটে ফেলে দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ চা গাছই কেটে ফেলতে হবে। সব মিলিয়ে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ চা খাতের ৫০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করবে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা শিল্প এখন এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে লোডশেডিং চা শিল্পে বিপর্যয়ের ঘণ্টা বাজাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করলেও ঘোষিত সময় মানা হচ্ছে না। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে জেনারেটর চালু করতে সময় লাগছে। আবার বিদ্যুৎ এলে মেশিন নতুনভাবে চালু হতেও সময় লাগছে। এতে উৎপাদন প্রক্রিয়া ঢিমেতালে হওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াকরণের ধারাবাহিকতায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। এতে একদিকে সময়, অন্যদিকে চায়ের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে। জেনারেটর চলে ডিজেলে। বাজারে ডিজেলের সংকট রয়েছে। এ কারণে জেনারেটর চালিয়েও উৎপাদন ঠিক রাখা যাচ্ছে না। চায়ের সুদিন ফিরিয়ে আনতে হলে মালিক-শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। চা প্রক্রিয়াকরণের এ ভরা মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি মো. শাহ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের চা বাগানগুলোয় শ্রমিকদের যে মজুরি দেয়া হয় সেটি দৃশ্যত কম দেখালেও ক্যাশ অ্যান্ড কাউন্ডের হিসাবে ৪০০ টাকার মতো। তাছাড়া শ্রমিকরা ওভারটাইমসহ নানা সুবিধা পেয়ে থাকে। নির্ধারিত সীমার বেশি চা পাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৪ টাকা বা কোনো কোনো বাগানে তারও বেশি অর্থ পেয়ে থাকে। বাগান মালিকরা আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখেই লোকসান হলেও মজুরি প্রদান অব্যাহত রাখে। প্রতি বছর নিয়মিত বিরতিতে মজুরি বাড়ানোও হয়। তবে সাম্প্রতিক যে আন্দোলন সেটি অপ্রত্যাশিত।

তিনি আরো বলেন, চা বাগানগুলোর পরিচালনা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়েছে উদ্যোক্তাদের কাছে। আগের পুরনো মালিকরা বাধ্য হয়ে অনেক বাগান বিক্রি করে দিচ্ছেন। দেশের প্রতিষ্ঠিত করপোরেট গ্রুপের মালিকানায় থাকা অনেক বাগানও লোকসানের তালিকায় রয়েছে। উৎপাদন খরচ অনুুযায়ী চা বিক্রি থেকে আয় কম হওয়ায় সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ছাড়াও চাকে কেন্দ্র করে নানামুখী উৎপাদনশীল খাত, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণী ও পেশাজীবী শ্রেণী গড়ে উঠেছে, যা দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। বাগান মালিকরা চাইলেও কোনো চা বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন না নিলাম পদ্ধতির কারণে। ফলে এসব বিষয় নিয়ে সার্বিকভাবে ভেবে দেশের চা শিল্পকে রক্ষায় সরকারসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

দেশের ১৬৭ চা বাগানে শ্রমিকের সংখ্যা দেড় লাখেরও বেশি। বর্তমানে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। গত ৯ আগস্ট এ আন্দোলন শুরু হয়। শুরুতে প্রথম কয়েকদিন কেবল ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। সে সময় মজুরি বৃদ্ধি ও মজুরি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের সাতদিনের আলটিমেটাম দেয়া হয়। কিন্তু মালিক পক্ষ এ সময়ের মধ্যে বৈঠক বা সমঝোতায় না আসায় ১৩ আগস্ট থেকে লাগাতার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শ্রমিকরা। এর মধ্যে শুধু জাতীয় শোক দিবসের দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ থাকে।




  এ বিভাগের অন্যান্য