www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

সংকটকালে কৃষির চ্যালেঞ্জ


 আবু হেনা ইকবাল আহমেদ    ১ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৬:৫৬   সম্পাদকীয় বিভাগ


বিশ্বজুড়ে এখন সংকটকাল। গত শতকও ছিল এমন। প্লেগের মহামারীর পর দু-দুটি বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মহামন্দা ও সংকট। একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকের শুরুতেও কভিডের অভিঘাত শেষ না হতেই, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে মানব সভ্যতা টালমাটাল। বিবিধ টানা পেড়েনে বিপর্যস্ত। কৃষিও তার বাইরে নয়।

কারো কারো মতে, এ দেশে এক সময়ের খোরাকি কৃষি এখন বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপ নিচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলের আগে এ দেশেরই চাঁদ সওদাগরদের বাণিজ্যিক তরণি এবং গ্রিক, মিসরীয়, চৈনিক, পারসিক, আরবীয় ও হার্মদদের বাণিজ্যপোত ও কারাভানে ভরপুর ছিল এ দেশীয় রকমারি পণ্যে। সুগন্ধি চাল ও চিনি এর অন্যতম।

ধনধান্যে ভরা এ মাটি নিজগুণেই ফসল দিয়েছে। বন্যাবিধৌত পলি মাটি ছিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে উর্বরা। এক সময় প্রায় প্রত্যেক কৃষকের বাড়িতে ভরা ছিল গো-সম্পদ; যা কৃষি, পরিবহনসহ নানা ক্ষেত্রে অর্থ জোগাত এবং বর্জ্য-গোবরাদি জৈবসার হিসেবে জমি উর্বর করত। ক্রমে পলিহীনতা, জৈবসারের অভাব আর অধিক ফসল তোলা জমিতে এখন রাসায়নিক সার দিয়ে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে নাইট্রোজেনপ্রধান ইউরিয়া, ফসফেটপ্রধান টিএসপি ও ডিএপি এবং পটাশ প্রধান এমওপি সার। জিপসাম সার এবং জিঙ্ক ও বোরন প্রভৃতি অনুসারও দিতে হচ্ছে। আমদানিনির্ভর এসব রাসায়নিক সারের মূল্য সাধারণ কৃষকদের নাগালের মধ্যে রাখা হচ্ছে বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দিয়ে।

বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে গেল মাসের শুরুতে ইউরিয়া সারের মূল্য বাড়ানো হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কেজিপ্রতি মূল্য ৬ টাকা বাড়িয়ে কৃষক পর্যায়ে ২২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি ধান উৎপাদন ব্যয় প্রায় হাজার দেড়েকের মতো বেড়ে যাবে। তার ওপর গত ৫ আগস্টের পর থেকে ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, ডিজেলে বেড়েছে লিটারে প্রায় ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ; যা ফসল চাষ, সেচ, পরিচর্যা, কর্তন, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবহন ব্যয়েও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। চঞ্চলমতি বিশ্ববাজারের সঙ্গে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা—পরিবর্তন শীল জলবায়ুর প্রভাবে চলমান দীর্ঘমেয়াদি খরা।

এ দুঃসময়ে ওয়ারেন বাফেটের কথা আমলে এনে, হাতে যে কয় টাকা আছে, তা দিয়ে কম বিনিয়োগে অধিক ফলন পেতে পুঁজি বিপদাপন্ন কৃষক সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার একযোগে পথচলা ব্যক্তি ও ব্যাস্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য মঙ্গলজনক।

যদিও বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে যে কেউ এখন কৃষিবিষয়ক তথ্য অনায়াসে হাতে পেতে পারেন। তবে তার সঠিক প্রয়োগ না হলে হিতে বিপরীত হওয়ার শঙ্কা। যেকোনো ফসল এবং এর জাতের মৌসুম-মাটি-পরিবেশ প্রভৃতি ভেদে বেড়ে ওঠা এক ধরনের। মাঠ থেকে ওপরের দিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনসহ নানা প্রতিষ্ঠানের একঝাঁক কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। আছে দেশের মাঠ থেকে অঞ্চল পর্যায়ে কৃষি বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজ নিজ অফিস, জনবল এবং সেবা প্রদানের সুবিধা। আরো রয়েছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়া প্রভৃতিসহ কৃৃষির সেবা প্রদানকারী বহু ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি ক্লাবের সদস্যরা। সঙ্গে গণমাধ্যম। তারাও কৃষি ও কৃষকের সেবায় সম্পৃক্ত হতে পারেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সার ব্যবহার নির্দেশিকা ও সুপারিশমালা তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ফসল উৎপাদনের বিভিন্ন প্রযুক্তি সন্নিবেশ করেছে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেকের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট, ইউটিউব, ভিডিও প্রভৃতি মাধ্যমে রয়েছে নানা কৃষি তথ্য। কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকরও। মধুকর জানে কোন ফুলে মধু আর কোন ফুলে বিষ। তাদের আহরণ আর সেবার দক্ষতা ফুলের নির্যাস থেকে মধু হয়ে ওঠে।

ফসল মাটি থেকে অধিকাংশ উদ্ভিদপুষ্টি গ্রহণ করে। পানি ও বায়ু তাকে সহায়তা দান করে। আদর্শ ফসলি মাটিতে উদ্ভিদপুষ্টির ভাণ্ডার জৈব পদার্থ থাকার কথা শতকরা ৫ শতাংশের কাছাকাছি হারে, যা মাটির প্রাণস্বরূপ। যে মাটি যতটা বেশি জৈবসমৃদ্ধ, তা ততটা উর্বর। আমাদের মাটিতে এর পরিমাণ গড়ে শতকরা ১ শতাংশের কাছাকাছি বা তার চেয়েও নিম্নে। বিকল্প হিসেবে রাসায়নিক সার দিয়ে তাই জমিকে ফসলের উপযোগী করা হচ্ছে। রাসায়নিক সার হয়ে উঠছে ফসলের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এ সারের মূল্যবৃদ্ধি কৃষককে যেমন আশাহত করে, তেমনি কৃষিপণ্যের দাম বাড়িয়ে খাদ্যনিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। জমিকে সবুজ সার, জৈবসার দিয়ে সমৃদ্ধ করা গেলে রাসায়নিক সারের মাত্রা কমে যায় এবং উর্বরতা বেড়ে ফলন বাড়াতে সহায়তা করে।

অধিক পরিমাণে ব্যবহূত সার ইউরিয়া। এর পরিমাণ ও অপচয় রোধের বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে। যেমন পাতার রঙ দেখে যথাসময়ে ইউরিয়া সার প্রয়োগ, গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ প্রভৃতি। বর্তমানে ভারতে ন্যানো ইউরিয়া নামে তরলীকৃত ইউরিয়া সার পাতায় স্প্রেকরণ বেশ জনপ্রিয় করা হচ্ছে। বেশি শুকনো বা জলাবদ্ধ অবস্থায় ইউরিয়া ধান গাছের তেমন কাজে লাগে না। তাই জমি থেকে পানি বের করে ইউরিয়া সার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাদায় মিশিয়ে, এর কয়েক দিন পর সেচ দেয়া দরকার। জমিতে ইউরিয়া দিয়ে যেকোনো ফসলে মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিলে এর কার্যকারিতা বেড়ে যায়। পানির সঙ্গে মিশে বা বাতাসে উড়ে অপচয়ের প্রবণতা এ সারের বেশি। সেজন্য ফসলের বিশেষ বিশেষ চাহিদার সময় কয়েকবারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা উত্তম।

প্রতি আড়াই কেজি ডিএপি সার দিলে এক কেজি ইউরিয়া কম দিতে হয়। অধিক ইউরিয়া সার শুধু ফসলের ও মাটির জন্যই ক্ষতিকর নয়, জলাশয় এবং ভূতলের পানিতে মিশে জীবের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সমূহ ক্ষতি করে। যেমন এ সার সমহারে ফসলে অন্যান্য পুষ্টি গ্রহণের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। ফসলের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত ইউরিয়া জমির অম্ল বাড়িয়ে অন্য উদ্ভিদপুষ্টি গ্রহণে বিঘ্নতা ঘটায়। সেচ ও খাবার পানি এবং ফসলে অধিক পরিমাণ ইউরিয়া মানব শরীরের রক্তে মিশে শ্বাসকষ্ট, নবজাতকের শরীর নীল বর্ণ হয়ে জটিলতা বাড়িয়ে তোলে। শরীরে অক্সিজেনের অভাবসহ নানা ব্যাধির জন্ম দেয়।

ফসফেট ও পটাশপ্রধান সার রবি মৌসুমে পুরো মাত্রায় দিলে পরবর্তী দুটি ফসলে তুলনামূলক কমিয়ে দিতে হয়। কারণ তার বেশকিছু পরিমাণ তখনো আগের ফসলের জন্য ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠেনি এবং কিছু মাটিতে অবশিষ্ট থেকে যায়।

যতদূর সম্ভব কৃষকের কাছাকাছি বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে সার সুপারিশ গ্রহণ বা নিকটবর্তী মাঠের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অথবা নিদেনপক্ষে বর্ণিত ওয়েবসাইট থেকে নিজ এলাকায় ফসলের সারের মাত্রা এবং প্রয়োগ পদ্ধতি জেনে নেয়া কার্যকর পন্থা।

একদা সহজলভ্য উপকরণ পানি এখন দিনে দিনে সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশেই প্রকট খরা চলছে। নদীর পানি নিয়ে আন্তঃরাষ্ট্র-আন্তঃরাজ্য বিবাদ বহু পুরনো এবং ক্রমে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যমান মিঠাপানির প্রায় ৪০ শতাংশ শিল্পে এবং ৩০ শতাংশের মতো কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের দেশে খরিফ-১ মৌসুমে প্রধান ফসল আউশ ধান এবং পাট পুরোটা বৃষ্টিনির্ভর; খরিফ-২ মৌসুমে রোপা আমন ধান প্রথমে বৃষ্টি এবং শেষের দিকে সম্পূরক সেচনির্ভর; রবি মৌসুমের বোরো ধান, আলু ও সবজিসহ সব ফসলই কম-বেশি সেচনির্ভর ছিল। এখন ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায়, যেকোনো মৌসুমে ধানসহ যেকোনো ফসল আবাদে অধিকাংশই ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

পাট জাগের জন্য পানির প্রয়োজন। তা নিবারণে, পাটের আঁশ ছাড়ানোর বেশকিছু যন্ত্র এবং অল্প পানিতে জাগ দেয়ার প্রযুক্তি কয়েক যুগ ধরে কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারণে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। আগে তা লাভজনক বা প্রিয় না হলেও এখন পানির অভাবজনিত কারণে তা ব্যাপক ব্যবহারের উপযুক্ত সময়।

ধান ও পাট উৎপাদনে একসময় পুরোপুরি ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার হতো। তখন সেচের ব্যবহার হতো নদী-খাল-বিল থেকে দোন, সেঁওতি প্রভৃতি দেশজ সেচযন্ত্রের মাধ্যমে। ষাটের দশক থেকে সবুজ বিপ্লবের সময় বোরো ধানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে গঙ্গা-কপোতাক্ষ, মেঘনা-ধনাগোদা, তিস্তা প্রভৃতি নদীকেন্দ্রিক সেচ প্রকল্প। পরবর্তী সময়ে ব্যাপক উৎপাদনের লক্ষ্যে এবং নদীর পানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের প্রায় সর্বত্র মাটির নিচের পানি উত্তোলনে অগভীর ও গভীর নলকূপের প্রচলন ঘটে। এখন অগভীর নলকূপেও পানির জোগান কমে যাচ্ছে। তার সঙ্গে আয়রন, আর্সেনিকসহ নানা ভারী পদার্থ সেচের পানির মানকে দূষিত করছে। বড় কথা পানি সংকট দিনে দিনে বাড়ছে। মেরু ও পর্বতের বরফ গলা পানিতে সাগর ফুলে, তার লোনা পানি ঊপকূল ও মোহনার ভেতর দিয়ে নদী ও আশা পাশ এলাকার জমিতে লবণাক্ততায় কমে যাচ্ছে ফসলের ফলন।

বিদ্যমান সেচ ব্যবস্থায় সেচনালা উন্নয়ন ও মেরামত করেও পানির অপচয় রোধ করা যায়। জাদুরনল নামের একটি পদ্ধতিও বেশ পানিসাশ্রয়ী। একটি সেচের পর আরেকটি সেচের আগে জমির পানির প্রয়োজনীয়তা এবং এর পরিমাণ আমলে আনা প্রয়োজন। জমিতে বেশি পানি জমে থাকলে ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ জন্য সেচের পাশাপাশি নিষ্কাশনের বিষয় আছে।

প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে প্রায় তিন হাজার লিটার সেচের পানি চাহিদার বিপরীতে ব্যবহার করা হয় অনেক বেশি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় পাওয়া গেছে, দেশের নিয়ন্ত্রিত সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র এক হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ লিটার সেচের পানি দিয়ে কৃষক সফলভাবে প্রতি কেজি ধান উৎপাদন করতে পারেন। সুতরাং বোরো ধানে পানি ব্যবহারে যথেষ্ট মিতব্যয়ের অবকাশ রয়েছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সেচের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার একান্ত অপরিহার্য। বৃষ্টিসেবিত বনজঙ্গলে গাছের ঝরাপাতার আচ্ছাদনের নিচে মাটির বাষ্পীভবনের পানি আটকে থাকে। জীবন্ত গাছের আচ্ছাদন মাটির বাষ্পীভবনের হার কমিয়ে শুষ্ক মৌসুম পার করে। প্রাকৃতিকভাবে জমির জৈব পদার্থ মাটির পানিধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বাষ্পীভবন হার কমায়। কিন্তু অনবরত ফসল তোলা এবং ফসলের গোড়াশুদ্ধ তুলে নেয়ায় ফসলি জমির জৈব পদার্থের হার মাত্রার চেয়ে খুবই কম। তাই ধান ফসলের গোড়া হাতখানেক রাখা, পাটের মতো পাতাঝরা ফসলের আবাদ, মুরগির বিষ্ঠাপচানো সার এবং সম্ভব হলে কচুরিপানাসহ বিভিন্ন জৈব আবর্জনা প্রয়োগ করে জমির জৈব উপাদান বৃদ্ধিকরণ আবশ্যক। সবুজ সার, গোবর সার, খামারজাত সারের একসময় বেশি ব্যবহার ছিল। এখন এর চল বাড়ানো দরকার। অনেক দেশে মানুষের মলসহ বিভিন্ন জৈব উপাদন দিয়ে কৃষি জমিকে উর্বর রাখার নজির আছে।

ডাল এবং তেলবীজ ফসলের জমিতে পানির প্রয়োজনীয়তা কম। বরং বেশি পানি এসব ফসলহানির কারণ হতে পারে। রোপা আমনধান ও বারোধানের মাঝে স্বল্পমেয়াদি এমনসব ফসল করে সংকটকালে খাদ্য উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে, যা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় এবং রূপকল্প-২০৪২-এর প্রথম ও দ্বিতীয় লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সবশেষে বলতে চাই, কৃষি জমিকে ইটভাটা, শিল্পবর্জ্য এবং বায়ুদূষণ থেকে রক্ষা করা আবশ্যক, যা ফসল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায়। সার এবং সেচের মতো ব্যবহূত উপকরণের যথাসম্ভব একাধিকবার ব্যবহার, মানসম্পন্ন বীজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুক্তিসংগত ব্যবহার প্রভৃতিও সার্বিক ব্যয় হ্রাসে সহায়ক। কৃষির এমন অনেক পুরনো প্রযুক্তি রয়েছে, যা অবহেলার কারণে মানা হয়নি, যা সংকটকালে মেনে চললে আখেরে লাভজনক। হতাশার অন্ধকারে একটি ধ্রুবতারাই পথহারা নাবিককে সঠিক পথ দেখাতে পারে। তেমনি এ সময়ে হাতের নাগালে থাকা সম্পদ ও প্রযুক্তি দিয়ে মিতব্যয়ী হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, যা এ দুর্মূল্যের বাজারে অন্য সময়ের ১০ ফোঁড়ের কাজ সমাধা করে আঁধারে আশার আলো জাগাতে পারে।

 

আবু হেনা ইকবাল আহমেদ: কৃষিবিদ; সাবেক পরিচালক

বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, কৃষি মন্ত্রণালয়




  এ বিভাগের অন্যান্য