www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

নান্দাইলে দখল হয়ে যাচ্ছে কৃষি কর্মকর্তাদের বাসভবন


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, সোমবার, ৮:৫৩   কৃষি প্রতিষ্ঠান বিভাগ


ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইউনিয়ন পর্যায়ে তিন যুগ আগে নির্মিত ব্লক সুপারভাইজারদের (বিএস) কোয়ার্টারগুলোর কোনো উন্নয়ন নেই। উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ভবনগুলো। কোথাও দখল হয়ে যাচ্ছে এসব ভবন। আর ভবনগুলোয় কেউ বসবাস না থাকায় সেখানে অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মোট ১২টি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিএস কোয়ার্টার রয়েছে। এ কোয়ার্টারগুলোর বেশির ভাগই এখন পরিত্যক্ত। তাই এগুলোয় বসছেন না কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। ফলে কৃষিসেবা গ্রহণ থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক, তেমনি পরিত্যক্ত ভবনগুলো মাদকসেবীসহ অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে বীর বেতাগৈর ইউনিয়ন পরিষদের দখলে চলে গিয়েছে বেতাগৈর বিএস কোয়ার্টার, শেরপুরের বিএস কোয়ার্টারের ৫০ শতাংশ চলে গিয়েছে নদীগর্ভে, খারুয়ার বিএস কোয়ার্টারের ৫০ শতাংশ প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছেন। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে তত্কালীন সরকার এ ভবনগুলো প্রথমে সিড গুদাম (বীজাগার) হিসেবে নির্মাণ করে। পরবর্তী সময়ে এ কর্মসূচি বাতিল করা হলে সরকার সিড গুদামগুলো ১৯৮০ সালের দিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মী-ব্লক সুপারভাইজারদের (বর্তমানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) বসবাসের জন্য সংস্কার করে কোয়ার্টারে পরিণত করা হয়। মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এসব কোয়ার্টারে থাকতেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গিয়েছে, এসব কোয়ার্টার মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজারদের (বিএস) আবাসিক এবং অফিস হিসেবে ব্যবহারের কথা থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ কোয়ার্টারেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বসবাস করছেন না। বসবাস না করা, সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে কোয়ার্টারগুলো এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফাঁকা ও নির্জন হওয়ায় তা পোকামাকড়ের বসতি ও অপরাধীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। চুরি হয়ে গিয়েছে দরজা-জানালা।

জাহাঙ্গীপুর ও রাজগাতী ইউনিয়নের কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তি ও ভালো বীজ সরবরাহের লক্ষে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের থাকার কথা থাকলেও এসব কোয়ার্টারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা না থাকায় তাদের কৃষি বিষয়ে খোঁজখবর নিতে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, এসব পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভেঙে ওই স্থানে ইউনিয়নের কৃষকের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।




  এ বিভাগের অন্যান্য