www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

মুহুরী নদী রক্ষা বাঁধে ফের ভাঙন পানির নিচে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার, ৭:৫৮   প্রাণিসম্পদ বিভাগ


ফেনীর ফুলগাজীতে মুহুরী নদী রক্ষা বাঁধের দুই স্থানে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। রোববার রাত থেকেই নদীর পানি বিপত্সীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিণ দৌলতপুরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রোববার সন্ধ্যা থেকেই মুহুরী নদীতে পানি বাড়তে থাকে। ওই সময়ে নদীর পানি বিপত্সীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তখনই প্রবল চাপে মুহুরী নদী রক্ষা বাঁধে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। গতকাল ভোর ৪টার দিকে উত্তর দৌলতপুর এলাকার বাহার মিয়ার স্কিমসংলগ্ন স্থানে বাঁধটি ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ দৌলতপুর এলাকার সেকান্তর মাস্টারবাড়িসংলগ্ন স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। বাঁধভাঙা পানি ঢুকে আশপাশের বাড়িঘর, ফসলি জমি ডুবিয়ে দেয়। তবে বিকালের দিকে পানির চাপ কমতে শুরু করেছে। এ সময় বিপত্সীমার ১০০ সেন্টিমিটার নিচে পানির প্রবাহ রেকর্ড করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, উপজেলার দুটি স্থানে নদী রক্ষা বাঁধের ভাঙনে অন্তত ৫০ হেক্টর আমন জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। সেই পানি জমে থাকলে অথবা চাপ না কমলে এসব জমির ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার জানান, খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন। শিগগির ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধ ভেঙে মাঠের ফসল, পুকুরের মাছ, ঘরবাড়ি আর এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ১ ফুট পরিমাণ পানি উঠেছে। ফুলগাজী ব্রিজের উত্তর পাশে দারুল উলুম মাদ্রাসার ওপর দিয়ে ফেনী-পরশুরাম সড়ক পানিতে থইথই করছে। উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর, ঘনিয়ামোড়া ও বৈরাগপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ফুলগাজী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সেলিম বলেন, পানির তোড়ে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে আমার ইউনিয়নের চারটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। ড্রেনের মুখ খোলা থাকায় মুহুরী নদীর পানির সঙ্গে বাজারের ময়লা-আবর্জনাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। প্রতি বছর এভাবে বন্যার পানি এসে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর আলীম বলেন, মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের দুটি স্থানে ভাঙনের ফলে সদর ইউনিয়নের চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। মাঠের ফসল, পুকুরের মাছ, ঘরবাড়ি আর এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন বণিক বার্তাকে জানান, রোববার রাত থেকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে মুহুরী নদীর পানি বিপত্সীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ সময় উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিণ দৌলতপুরের দুটি স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। তবে গতকাল দুপুরের পর থেকে পানি বিপত্সীমার নিচ দিয়ে যাচ্ছে।




  এ বিভাগের অন্যান্য