www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে গাজীপুরের বায়ুদূষণ


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১১:২০   প্রাণিসম্পদ বিভাগ


বায়ুতে অতিক্ষুদ্র বায়ুকণার আদর্শমান যেখানে ৬৫ মাইক্রোগ্রাম, সেখানে গাজীপুরের বায়ুতে চলতি সেপ্টেম্বরে মিলেছে গড়ে ৩৭৫ মাইক্রোগ্রাম। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই বসবাসের অযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকা। জয়দেবপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স হলে গতকাল ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরেন গবেষকরা। ‘বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকে সহযোগী ছিল দৈনিক সমকাল।

বৈঠকে জানানো হয়, সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড এয়ার কোয়ালিটি (একিউআই) ২০২২ অনুযায়ী, বিশ্বের মধ্যে ঢাকা বায়ুদূষণে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে গাজীপুর বায়ুদূষণের দিক থেকে ৬৪ জেলার মধ্যে সবার ওপরে ছিল। ওই বছরের ৬ জানুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত গবেষক দল গাজীপুরের বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ২৬৩ দশমিক ৫১ মাইক্রোগ্রাম অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা খুঁজে পায়, যেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে আদর্শ মান ৬৫ মাইক্রোগ্রাম।

গাজীপুরের বাতাসে অতিক্ষুদ্র বিষাক্ত ও ক্ষতিকর কণার পরিমাণ দিন দিনই আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবদেহ, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য সেই বাতাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুনে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার স্টেশন রোড, কলেজ গেট, মেইল গেট, টঙ্গী বাজারসহ বেশকিছু এলাকায় নয়দিনে বায়ুতে প্রতি ঘনমিটারে গড় ধূলিকণা ও দূষিত পদার্থের পরিমাণ ছিল ১৯২ মাইক্রোগ্রাম। আগস্টের আটদিনের হিসাবে একই স্থানের গড় মাত্রা ছিল ২৭০ দশমিক ৮৭ মাইক্রোগ্রাম ও সেপ্টেম্বরে এসে এটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭৫ মাইক্রোগ্রামে।

অব্যাহতভাবে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে ১০টি কারণ উল্লেখ করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন। সেগুলো হচ্ছে খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ; অতিরিক্ত গাড়ি (বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ইত্যাদির আধিক্য) বিশেষ করে ত্রুটিযুক্ত গাড়ি; কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়া; শহরের পাশে ইটভাটা ও তাতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ বা গাছের ব্যবহার; যত্রতত্র রাস্তা, জমির পাশ, ভূমি ও জমি খোঁড়াখুঁড়ি; ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় অব্যবস্থাপনা; কল-কারখানা, গার্মেন্টস, ছোট-বড় ইন্ডাস্ট্রি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও বর্জ্য নির্গমন; গাছপালার স্বল্পতা ও কর্তন; ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা; পলিথিন ও প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থের ব্যবহার।

বায়ুদূষণের জন্য এসব কারণ ছাড়াও জয়দেবপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের কাজকেও দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকা, পরিবেশ দূষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মনিটরিং না করাও বায়ুদূষণের জন্য দায়ী। তবে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান বক্তারা।

সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খানের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আকবর হোসেন, গাজীপুর চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার সাদাত, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান, জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উপপরিচালক মঞ্জু মারিয়া পালমা।




  এ বিভাগের অন্যান্য