www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

মোবাইল অ্যাপে বাড়বে শস্য উৎপাদন ও কৃষকের আয়


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ৭:৪৯   কৃষি প্রযুক্তি  বিভাগ


মাটির স্বাস্থ্যরক্ষায় অঞ্চলভিত্তিক শস্য উৎপাদনের (ক্রপ জোনিং) মাধ্যমে দেশের কৃষিজমির সর্বোত্তম ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় অঞ্চলভিত্তিক ফসল উৎপাদনে জোর দেয়া হবে। এ কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে খামারি মোবাইল অ্যাপ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষিতে উৎপাদন বাড়বে। বাড়বে কৃষকের আয়ও। আর উৎপাদন বাড়লেই নিশ্চিত হবে খাদ্যনিরাপত্তা।

জানা গিয়েছে, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের সর্বাধিক আয় নিশ্চিত করতে কৃষকসহ অন্যান্য উপকারভোগীর কাছে জমির উপযোগী ফসল, লাভজনক ফসল, উপজেলাভিত্তিক উপযোগী ফসল এলাকার পরিমাণ, ভূমির উর্বরতামান অনুযায়ী ফসলভিত্তিক সুষম সার মাটির গুণাগুণ ও ফসল বিন্যাস—এসব তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে খামারি মোবাইল অ্যাপটির মাধ্যমে। কৃষক নিজ জমিতে দাঁড়িয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে সেই জমির জন্য উপযোগী ফসল, সার সুপারিশ, মুনাফা, মাটির বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারবেন। সে অনুযায়ী উপযোগী ফসল আবাদ ও সুপারিশকৃত সার প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষাসহ কৃষকের অধিক ফলন প্রাপ্তি ও আর্থিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হবে।

ক্রপ জোনিং মূলত জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ, পানি, তথ্য প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় অধিক ফসল উৎপাদন উপযোগী এলাকা চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ক্রপ জোনিং অনুযায়ী ফসল নির্বাচন করে আবাদ করা হলে অধিক ফলন প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে সর্বাধিক আর্থিক মুনাফা অর্জন সম্ভব। এর মাধ্যমে টেকসই কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পণ্য এবং পরিসেবার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশগত স্বাস্থ্য এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্যতা বজায় রাখা যাবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অঞ্চলভিত্তিক শস্য উৎপাদনের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৭ সালের জুন থেকে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় ক্রপ জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। এরই মধ্যে ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৩০০ উপজেলায় ৭৬টি ফসলের জোনিং সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ১৯০টি উপজেলার ক্রপ জোনিং কার্যক্রম চলমান।

ক্রপ জোনিং কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ক কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে, কমেছে আবাদযোগ্য জমি। আবার গবেষণার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে ফলনের পার্থক্যও রয়েছে। ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ, কৃষি উপকরণের কার্যকর ও সঠিক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধির মত বহুবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন দেশের কৃষি খাত। সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের বিপরীতে বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্যের জোগান দিতে ফসলের নিবিড়তা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। ক্রপ জোনিংয়ের মাধ্যমে কৃষি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় ফসল উপযোগিতা নিরূপণ ও ক্রপ জোনিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জিওডাটাবেজ ও জিওস্পেশাল প্রযুক্তিনির্ভর (জিআইএস, রিমোট সেনসিং, জিপিএস) অনলাইন ক্রপ জোনিং অ্যাপ্লিকেশন সিষ্টেম তৈরি করা হয়েছে। ক্রপ জোনিং ইনফরমেশন সিস্টেম, খামারি মোবাইল অ্যাপ, গ্রুপ জোনিং ড্যাশবোর্ড ও কৃষি পরামর্শক বাতায়ন অনলাইন গ্রুপ জোনিং অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমানে ক্রপ জোনিংয়ে অবশিষ্ট উপজেলাগুলোর অন্তর্ভুক্তি, আউটপুটের যথার্থতা যাচাই, কসল, ফসল বিন্যাস বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ, খামারি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান। মাঠ পর্যায়ে খামারি মোবাইল অ্যাপ সম্পর্কে অবহিতকরণ ও প্রচলনের লক্ষ্যে ৫০টি উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষকদের খামারি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বাকি উপজেলাগুলোতেও এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবেই ক্রপ জোনিং প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। দেশে ৩০টি অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল জোন আছে। এগুলোয় মাটির গুণগত মান একেক রকম। মাটির গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। ক্রপিং জোন করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট ফসল বিশেষ করে যেখানে যে ফসল চাষ হওয়া উচিত সেখানে সেই ফসল যেন চাষ করা হয় এবং ওই ফসল চাষে কী পরিমাণ সার লাগবে তা যেন আমরা আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারি। আমাদের কৃষির জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রকল্পের আওতায় প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। এর অন্যতম হলো খামারি অ্যাপটি। এ অ্যাপের বিষয়ে কৃষক ও কৃষিসংশ্লিষ্টদের জানাতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমাদের কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এটি।’

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খামারি মোবাইল অ্যাপটি তৈরিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলকে (বিএআরসি) ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে অ্যাপটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষক যাতে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।




  এ বিভাগের অন্যান্য