www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

চাঁদপুরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৩০ ভাগ পোলট্রি খামার


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ৫ অক্টোবর ২০২২, বুধবার, ৩:২২   পোল্ট্রি বিভাগ


মুরগির খাবারের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন চাঁদপুরের পোলট্রি খামারিরা। অনেকেই গুটিয়ে ফেলছেন পোলট্রি ব্যবসা। জেলার ৯১৮টি খামারের মধ্যে গত এক মাসেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। যারা এখনো টিকে আছেন তাদের মধ্যেও শুরু হয়েছে এ ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতি। এ অবস্থায় অনেকে আবার খামারে নতুন করে মুরগির বাচ্চা তুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

খামারিরা জানান, প্রকার ভেদে গত এক বছরে দফার দফায় মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে। সব মিলিয়ে কেজিপ্রতি ৩৩ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার পোলট্রি খাবারের মূল্য। আর বাকিতে খাবার নিলে গুনতে হয় আরো বেশি টাকা। ফলে বড় বড় খামারিরা টিকে থাকলেও ক্ষুদ্র খামারিদের অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ ক্ষুদ্র খামারিরা বিভিন্নভাবে বড় খামারিদের কাছেই দায়বদ্ধ। তাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ও ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাঁদপুর শহরের পূর্ব গুণরাজদীর পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. হারুন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সর্বশেষ তার দুটি খামার ছিল কিন্তু খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণে এখন কেবল একটি টিকে আছে। হারুন বলেন, বর্তমানে বয়লারের খাবারের মানও তেমন ভালো না। ব্যবসার এমন পরিস্থিতি, ডিলাররা আমার কাছে কয়েক লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে এখন আমাদের পথে বসার উপক্রম। কী করব জানি না, অন্য কোনো ব্যবসাও করিনি কখনো। তাই এ ব্যবসা ছাড়তে পারছি না।

দক্ষিণ বিষ্ণুদীর পোলট্রি খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৫ বছর ধরে এ ব্যবসায় আছি। ব্রয়লার মুরগি পালনে বিদ্যুৎ অত্যাবশকীয়। কিন্তু বর্তমানে যে পরিমাণ লোডশেডিং তাতে পোলট্রি ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুতের সমস্যায় মুরগি ঠিকমতো বেড়েও ওঠে না। গরমে এক হাজার মুরগির মধ্যে প্রায় দেড়শই মারা গিয়েছে এবার। এর মধ্যে আবার গত কয়েক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লারের মুরগির প্রতি কেজি খাদ্যের দাম বেড়েছে ৩০-৩৫ টাকা। আর বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৩০০ টাকা। তার ওপর আমরা মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

চাঁদপুর শহরের বিপণিবাগ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, পাইকারদের কাছ থেকে আমরা ১৫২ টাকা কেজিতে ব্রয়লার মুরগি কিনি। এর বাইরে পরিবহন খরচ আছে আবার দোকানে রেখে খাবার খরচ আছে। অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দু-একটা করে মুরগি মারাও যায়। ওয়ারলেস বাজারের খুচরা মুরগি ব্যবসায়ী রেদওয়ান গাজী জানান, কয়েকদিন আগে দেড় ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে তার দোকানের ২৪ পিস মুরগি মারা গিয়েছে।

নতুনবাজারের পোলট্রি সরবরাহকারী নিউ সরকার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী টিটু সরকার বলেন, আমাদের পোলট্রি ব্যবসার অবস্থা ভালো না। খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বর্তমানে মুরগি পালনে খরচ বেড়েছে অনেক। এদিকে ভোক্তারা মনে করছে, বাজারে মুরগির দাম বেশি কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় আমরা সঠিক মূল্য পাচ্ছি না। এমন অবস্থায় পোলট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। খামারিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, চাঁদপুরে ৯১৮টি ব্রয়লার পোলট্রি খামার ছিল। এর মধ্যে গত এক মাসে ৩০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মূলত বৈশ্বিক কারণে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের সমস্যা হচ্ছে। তবে ব্রয়লার খামারিদের জন্য ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন। অচিরেই হয়তো এ সমস্যার সমাধান হবে। তবে করোনাকালীন সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের বিভিন্নভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বর্তমান সমস্যাগুলোও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।




  এ বিভাগের অন্যান্য