www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে পিছিয়ে নাটোরের পর্যটন শিল্প


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১০ অক্টোবর ২০২২, সোমবার, ৮:০৬   কৃষি প্রতিষ্ঠান বিভাগ


বনলতা সেন আর কাঁচাগোল্লার জেলা নাটোর। এ পরিচয়ের বাইরে নাটোরে রয়েছে ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবন, রাণী ভবানীর রাজবাড়ী। এছাড়া রয়েছে দেশের বৃহত্তম চলনবিলের বিলাশা এবং মিনি কক্সবাজার। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তার পরও বিকশিত হচ্ছে না নাটোরের পর্যটন শিল্প। প্রতি বছর ১৫-২০ লক্ষাধিক দর্শনার্থীর পদচারণা ঘটে নাটোরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোয়। কিন্তু পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকার পরও অবকাঠামোগত সুবিধা আর হোটেল, মোটেলের অভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না এখানকার পর্যটন শিল্প।

নাটোরের পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার নাম উত্তরা গণভবন। ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ উত্তরা গণভবন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ২০১২ সালে। এরপর থেকেই টিকিটের বিনিময়ে এ প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর সৌন্দর্য উপভোগ করে আসছে দর্শনার্থীরা। বর্তমানে উত্তরা গণভবন প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাঞ্চলীয় দ্বিতীয় বাসভবন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

উত্তরা গণভবন কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী আর ইতিহাসখ্যাত উত্তরা গণভবন দেখতে প্রতি বছর সাড়ে তিন থেকে চার লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে এখানে। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে ইতালিয়ান গার্ডেন আর মূল প্রসাদে দর্শনার্থীর প্রবেশাধিকার নেই। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে দিন দিন উত্তরা গণভবনবিমুখ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। এতে করে বড় ধরনের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

জেলার আরেক পর্যটন শিল্পের নাম নাটোর রাজবাড়ী তথা রাণী ভবানীর রাজবাড়ী। এ রাজবাড়ীর ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। প্রতি বছর অন্তত লক্ষাধিক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এখানে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার কারণে হতাশ হয়ে ফিরছেন দর্শনার্থীরা। এছাড়া এ রাজবাড়ী নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। শুধু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনগুলো প্রতি বছর সংস্কার করে আসছে। তবে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো এখনো কিছুই করতে পারেনি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

শুধু উত্তরা গণভবন আর নাটোর রাজবাড়ী নয়, পর্যটনের অপার সম্ভাবনার হাতছানি দিয়েছে মিনি কক্সবাজার আর চলনবিলের বিলশা। পানির ঢেউ আছড়ে পড়া আর সূর্যাস্ত মন কাড়বে যে কারো। এর মধ্যে ছোট ছোট নৌকায় চলনবিলে ঘুরে বেড়িয়ে প্রশান্তি পান অনেকে। এমন অসংখ্য পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনাময় নাটোর।

জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, সরকারি-বেসরকারি সব মিলিয়ে নাটোর জেলায় প্রতি বছর ১৫-২০ লক্ষাধিক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। কিন্তু অবকাঠামোগত সুবিধা আর হোটেল, মোটেল না থাকায় বিকশিত হচ্ছে না এখানকার পর্যটন শিল্প।

নাটোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বইয়ের লেখক খালিদ বিন জালাল বাচ্চু বলেন, নাটোরের অনেক দর্শনীয় স্থান পর্যটকবান্ধব নয়। এ কারণে এখানকার পর্যটন শিল্প পিছিয়ে রয়েছে। এখনো উত্তরা গণভবনের মূল প্রাসাদ, ইতালিয়ান গার্ডেনে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন না। ফলে দর্শনার্থী পর্যটকরা যে আশা নিয়ে আসেন, সেটা পূরণ হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, নাটোর রাজবাড়ীতে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই দেখার নেই। এখানে পর্যটক আকৃষ্ট করার মতো কিছু নেই। এছাড়া মিনি কক্সবাজার এবং চলনবিলের বিলশায় নৌকা ভ্রমণে দর্শকরা সামান্য আনন্দ পান। তাই সেদিকেই পর্যটকরা ছুটছেন। তাছাড়া এখানকার পর্যটন শিল্প নারীবান্ধব নয়। এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে জেলার পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে।

নাটোর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, নাটোরের পর্যটন শিল্পের জন্য উত্তরা গণভবন, নাটোর রাজবাড়ী, গ্রিনভ্যালি পার্ক এবং মিনি কক্সবাজার অন্যতম। কিন্তু এসব দর্শনীয় স্থান পর্যটকবান্ধব করা সম্ভব হচ্ছে না। অবকাঠামোগত সুবিধা আর হোটেল-মোটেলের অভাবে বিকশিত করা যাচ্ছে না এখানকার পর্যটন খাত। আমরা পর্যটকের সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে এখানে অবকাশযাপনের জন্য কোনো মোটেল করা যায় কিনা, সেজন্য পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কোনো ভাল মানের হোটেল, মোটেল হলেই এখানকার পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে।

নাটোরের পর্যটন শিল্প বিকাশ নিয়ে এক কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, নাটোরের পর্যটন শিল্প বিকাশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখানকার পর্যটন শিল্প বিকাশে শুধু অবকাঠামোগত সুবিধা বড় বিষয় নয়। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থানগুলোকে দেশ-বিদেশে তুলে না ধরার ব্যর্থতা রয়েছে। এ ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সমৃদ্ধ হবে এখানকার পর্যটন শিল্প।

ওয়ার্ল্ভ্র ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল বলছে, বাংলাদেশের পর্যটন খাত থেকে আয়ের অন্তত ৩ শতাংশ যোগ হচ্ছে জিডিপিতে। আর একজন পর্যটক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে ১০ জন মানুষের। বর্তমানে নাটোরে পর্যটন খাত থেকে ৩৫-৪০ কোটি আয় হচ্ছে। তবে অবকাঠামোগত সুবিধার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকবান্ধব হলে এ আয় আরো বাড়বে। এতে করে কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি শক্তিশালী হবে স্থানীয় অর্থনীতি।




  এ বিভাগের অন্যান্য