www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

নিত্যপণ্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১২ অক্টোবর ২০২২, বুধবার, ৭:৫০   সুপার সপ  বিভাগ


নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। গণভবন প্রান্ত থেকে সভায় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

সবসময় মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা করে সময়ক্ষেপণ না করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই এ বিষয়ে আলোচনা করে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো মূল্যস্ফীতির বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহ দেখালেও নিজেদের দেশে কিন্তু এ নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করে না। আমাদেরও বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করার দরকার নেই। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম জনসাধারণের নাগালে রাখার চেষ্টা করা উচিত। এর জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তা করব।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারী থেকে ঘুরে না দাঁড়াতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যে মন্দা দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঝড়ঝাপটা আমাদের আছেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ, এগুলো আমাদের সবসময় মোকাবেলা করতে হয়, করতে হবে। সেটা আমরা করতে পারব। যতক্ষণ জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, আমাদের চিন্তার কিছু নেই। জনগণই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা আরো বলেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে তাদের কাজে লাগাতে হবে। যেভাবে আমরা করোনা মোকাবেলা করেছি, ঠিক একইভাবে যুদ্ধের (রাশিয়া-ইউক্রেন) সময় যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে, যে ভয়াবহতা দেখা দিচ্ছে, এটা থেকেও আমাদের দেশকে মুক্ত করতে হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে আবারো সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের আগেই আমাদের কাছে অনেক ধরনের প্রস্তাব আসে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও প্রস্তাব নিয়ে আসে। সেখানে যেটা করতে হবে, কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে আমার দেশের মানুষের উপকার হবে, তার থেকে আমরা কিছু অর্জন করতে পারব সেটায় গুরুত্ব দেয়া। অহেতুক একটা প্রকল্প নিয়ে অনেক টাকা পেলাম দেখে সেখানে ঝাঁপ দেয়ার দরকার নেই। মূলত যে প্রকল্প থেকে রিটার্ন আসবে, আমরা কিছু আহরণ করতে পারব, দেশের উন্নয়নে লাগাতে পারব, সে ধরনের প্রকল্পই আমরা গ্রহণ করব।

যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশবাসীকে আরো খাদ্যোৎপাদনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সম্প্র্রদায় আগামী বছর একটি গভীর সংকটের আশঙ্কা করছে। তাই খাদ্যোৎপাদন বাড়াতে হবে। এটি এখন আমাদের জন্য অনিবার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্র্রতিক সফরের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। যেখানে সবাই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ২০২৩ সালে একটি গুরুতর দুর্ভিক্ষ হতে পারে। তখন অর্থনৈতিক মন্দা আরো গভীর হবে এবং খাদ্য সংকট দেখা দেবে। আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং, আমাদের খাদ্যোৎপাদন বাড়াতে হবে এবং খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

দেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের একটা সুবিধা আছে, জমি অনেক উর্বর। যেখানে বীজ বপন করা হয় সেখানেই কিছু উত্পন্ন হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এটা বলতেন। বঙ্গবন্ধুর এ বাণী অনুসরণ করে ব্যাপকভাবে খাদ্যোৎপাদনে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।

 




  এ বিভাগের অন্যান্য