www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আমদানি করতে না পারলে খাদ্য সংকট বাড়বে


 মো. আবদুল লতিফ মন্ডল    ১৬ নভেম্বর ২০২২, বুধবার, ৭:২৯   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় আমাদের প্রধান খাদ্য চালের উৎপাদন না বাড়ায় চাল আমদানি একটি রুটিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে দেশে চাল উৎপাদন ও আমদানির তথ্য থেকে এর সত্যতা পাওয়া যায়। বৈশ্বিক জলবায়ুর বৈরী প্রভাবে সংঘটিত আগাম বন্যার কারণে এবার বোরো ও আউশের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং খরা ও ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ফলে চলতি মৌসুমে আমনের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০-১৫ শতাংশ কম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় খাদ্যশস্য গমের চাহিদা যখন কমবেশি ৭০ লাখ টন, তখন আমাদের উৎপাদন ১১-১২ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের এই যখন অবস্থা, তখন শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া ও ভয়াবহ রূপ নেয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সেই সঙ্গে কৃষ্ণ সাগর হয়ে খাদ্যশস্য রফতানির রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার চুক্তি থেকে রাশিয়ার সরে আসার সিদ্ধান্তে ইউরোপের শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত ইউক্রেন থেকে খাদ্যশস্য রফতানি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের দাম নতুন করে বৃদ্ধির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাংলাদেশের মতো খাদ্যশস্য আমদানিকারক দেশগুলো খাদ্যশস্য আমদানিতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাওয়া অনেকটা নিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এসব কারণে চলতি অর্থবছরে আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আমদানি অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

সরকারি তথ্য মোতাবেক, ২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫৫ শতাংশ। এরপর প্রবৃদ্ধি হারে নিম্নমুখিতা দেখা দেয়। সরকারি তথ্য মোতাবেক, ২০২০-২১ পূর্ববর্তী এক দশকে কৃষি খাতে ৩.৭ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা বিবিএসের সাময়িক প্রাক্কলন অনুযায়ী হ্রাস পেয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ দশমিক ২০ শতাংশে দাঁড়াবে। খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির হার শুধু নিম্নমুখী নয়, বরং তা জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের (২০২০ সালে ১.৩৭ শতাংশ) চেয়ে কম। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে দেশে যখন জনসংখ্যা বেড়েছে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, তখন খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী হারের সরাসরি প্রভাব পড়েছে শস্য উপখাতের প্রধান ফসল চাল উৎপাদনের ওপর। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ থেকে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার টন চাল উৎপাদন পরের অর্থবছর (২০২০-২১) হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮ হাজার টনে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে মোট চাল উৎপাদনের পরিমাণ সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সূত্রের বরাত দিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, ২০২১-২২ বাণিজ্য বছরে (বাণিজ্য বছর বলতে জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়কালকে বোঝায়) দেশে চালের উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টন, যা হ্রাস পেয়ে চলতি ২০২২-২৩ বাণিজ্য বছরে দাঁড়াবে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টনে। এদিকে কৃষিমন্ত্রীর হিসাবে প্রতি বছর ২০ লাখ নতুন মুখ আমাদের খাবারে ভাগ বসাচ্ছে। সুতরাং উপর্যুক্ত দুই বছরে যখন চাল উৎপাদন নেতিবাচক, তখন নতুন মুখের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখে। এছাড়া ১৫ লাখ রোহিঙ্গাকেও আমাদের খাওয়াতে হচ্ছে। ইউএসডিএর হিসাবে ২০২২-২৩ বাণিজ্য বছরে চাহিদার তুলনায় চালের ঘাটতি দাঁড়াবে ১১ লাখ ৫০ হাজার টনে।

দেশে উৎপাদিত চাল চাহিদা মেটাতে না পারায় চাল আমদানি ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও অন্যান্য সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের চাহিদা মেটাতে সরকারি-বেসরকারি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাল আমদানি করতে হয়েছে। ২০১০-১১ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৫.৫৪ ও ৫.১৩ লাখ টন। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ কমে এলেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪.৯০ লাখ টনে। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ হ্রাস পেলেও দেশে হাওরাঞ্চলে অকালবন্যায় বোরো ফসল ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ টনে, যা সাম্প্রতিক কালের সর্বোচ্চ পরিমাণ চাল আমদানি।

২০১৯-২০ অর্থবছরে চাল আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩.৫৯ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানীকৃত চালের পরিমাণ এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে জানানো হয়নি। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১-২২-এর দেয়া তথ্য মোতাবেক ওই অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাল আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৫৫ হাজার টন (সরকারি খাতে ৬.৫১ এবং বেসরকারি খাতে ৩.০৪ লাখ টন)। তবে ওই অর্থবছর শেষে আমদানীকৃত চালের পরিমাণ ২০ লাখ টন বা তার কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে বলে ধরে নেয়া যেতে পারে।

আর দ্বিতীয় খাদ্যশস্য গমের চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চললেও এর উৎপাদন নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকের তুলনায় ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে। সরকারি তথ্য মোতাবেক, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে দেশে গমের উৎপাদন হয়েছিল ১৯ লাখ ৮ হাজার টন। এর পর থেকে গমের উৎপাদন কমতে থাকে। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে গম উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ লাখ ২৫ হাজার টনে (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০০৯)। এরপর অবশ্য পণ্যটির উৎপাদন কিছুটা বাড়তে থাকে। বর্তমানে দেশে গমের উৎপাদন ১১-১২ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এদিকে গমের যখন উৎপাদন কমছে, তখন পণ্যটির চাহিদা বেড়ে চলেছে। আমাদের খাদ্যশস্যের তালিকায় চালের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে (হায়েস) ২০১৬ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে মাথাপিছু দৈনিক খাদ্য হিসাবে গমের ব্যবহার ছিল ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০০৫ সালের হায়েসে জাতীয় পর্যায়ে মাথাপিছু দৈনিক খাদ্য হিসাবে গমের ব্যবহার ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ। এ থেকে বোঝা যায় গমের ব্যবহার কীভাবে বাড়ছে। হায়েস ২০১৬-এর পর গত পাঁচ বছরে খাদ্য হিসাবে গমের ব্যবহার যে আরো বেড়েছে তা বলাই বাহুল্য। গমের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং গমের আটা-ময়দা থেকে তৈরি বিস্কুট, কেক, ইত্যাদি ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রফতানি।

দেশের চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গম আমদানি হয়েছে ৫৯ লাখ ৯৮ হাজার টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে গম আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৩ লাখ টনের কিছুটা বেশি।

দেশের চাহিদা মেটাতে চলতি অর্থবছরে খাদ্যশস্য (চাল, গম) আমদানির গতি হতাশাব্যঞ্জক। চালের চাহিদা মেটাতে চলতি অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি খাতে ১৯ লাখ টন (সরকারি খাতে ৯ লাখ টন এবং বেসরকারি খাতে ১০ লাখ টন) চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে মিডিয়ার খবরে প্রকাশ। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং ডলারের তুলনায় টাকার মান কমে যাওয়ায় চাল আমদানিতে গতি আসেনি। খাদ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য মোতাবেক, চলতি অর্থবছরের ২ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ২ লাখ ৪৯ হাজার ৮২ টন (সরকারি খাতে ৬৩ হাজার ৪৩ টন এবং বেসরকারি খাতে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯ টন) চাল আমদানি হয়েছে। দ্বিতীয় খাদ্যশস্য গমের আমদানিও হতাশাব্যঞ্জক। উল্লিখিত সময়কালে গমের আমদানি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯ টন (সরকারি খাতে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২ টন এবং বেসরকারি খাতে ৪ লাখ ১১ হাজার ৯৭ টন)।

যখন চলতি অর্থবছরে দেশে এযাবৎ খাদ্যশস্য আমদানির অবস্থা হতাশাব্যঞ্জক, তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বে চাল রফতানিতে শীর্ষে থাকা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চলতি খরিপ মৌসুমে দেশটিতে চাল উৎপাদন ৪০-৫০ লাখ টন কমবে বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে। এদিকে কৃষ্ণ সাগর হয়ে খাদ্যশস্য রফতানির রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার চুক্তি থেকে রাশিয়ার সরে আসার ঘোষণায় আবারো বিশ্ববাজারে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শেষদিকে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দেশ দুটির মধ্যে খাদ্যশস্য রফতানি নিয়ে একটি চুক্তি হয়। রাশিয়ার এ সিদ্ধান্তে কৃষ্ণ সাগর হয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বলে কোনো কোনো পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া, বৈশ্বিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার খাদ্যশস্য রফতানি স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে ২৫টি দেশ এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে বলে মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের মতো খাদ্যশস্য আমদানিকারক দেশগুলোর পক্ষে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো দুরূহ হয়ে পড়বে।

এদিকে আগামী ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী মন্দা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ২০২৩ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। আগামী বছর বিশ্বে ভয়াবহ খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) বলেছে, খাবারের অভাব এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শুধু দুর্ভিক্ষই হবে তা নয়, বরং এর জেরে বিভিন্ন দেশে বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, করোনা মহামারী, সংঘর্ষ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০১৯ সালের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে সাড়ে ৩৪ কোটি ছাড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সংঘর্ষের ফলে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া ২০২৩ সালে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ও রফতানি হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।

এ অবস্থায় সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ এড়াতে আমাদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে চাল ও গম আমদানি নিশ্চিত করতে হবে। দুই. আসন্ন বোরো মৌসুমে সর্বোচ্চ পরিমাণ ফলন পেতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে। কারণ দেশের প্রধান খাদ্য চালের সর্বোচ্চ জোগান দেয় বোরো। তাই দৃষ্টি রাখতে হবে যেন মনুষ্যসৃষ্ট কোনো সংকট বোরো আবাদে সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাদির মধ্যে রয়েছে—ক. জমিস্বল্পতার কারণে আমাদের চালসহ খাদ্যশস্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। উল্লেখ্য, ভারত ও চীনের তুলনায় আমাদের হেক্টরপ্রতি চালের উৎপাদন কম। খ. চালসহ কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়া যথাসম্ভব বন্ধ করতে হবে। গ. চালসহ কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে, কৃষি খাতে বিনিয়োগ শিল্প-বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগের চেয়ে কম লাভজনক নয়। ঘ. কৃষি খাতের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সুপারিশকৃত কৌশলগুলো বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

  • মো. আবদুল লতিফ মন্ডল: সাবেক খাদ্যসচিব



  এ বিভাগের অন্যান্য