www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

চট্টগ্রামে একে একে বন্ধ হচ্ছে ডেইরি উদ্যোক্তা খামার


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ১৭ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ১০:৫৪   ডেইরী বিভাগ


নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব শিথিল হওয়ায় গত বছর লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে চট্টগ্রামের বেসরকারি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডেইরি খামারগুলো। খামার মালিকরা নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবসায় ভালো প্রবৃদ্ধিও এসেছে। কিন্তু সম্প্রতি দফায় দফায় পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় আবারো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে একের পর এক ডেইরি খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন এ অঞ্চলের তরুণ উদ্যোক্তারা। গত দুই মাসে চট্টগ্রামে তিন শতাধিক খামার বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে চিটাগং ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরু হলে অন্যান্য পণ্যের মতো পশুখাদ্যের বাজার অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ফলে তরুণ খামারিদের জন্য ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় সামাল দেয়া দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। পশুখাদ্যের পাশাপাশি অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিও খামারিদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রামের মডার্ন এগ্রো ফার্ম। চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে একটি জমি ভাড়া করে ২০১৬ সাল থেকে এ খামারটি গড়ে তুলেছিল সাইদুর রহমান। প্রতিদিন এই খামার থেকে ১০০ লিটার গরুর দুধ বিক্রি করা হতো। পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। এ কারণে গত অক্টোবরে খামারে থাকা দুগ্ধজাত সবগুলো গরুই বিক্রি করে দিয়েছে সাইদুর ও তার বন্ধুরা। এ বছর তাদের লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকারও বেশি।

চট্টগ্রামের আরেকটি দুগ্ধ খামার এসআই এগ্রো। করোনাকালে লোকসান হলেও বন্ধ হয়ে যায়নি খামারটি। করোনার পর গরু কিনে নতুন করে বিনিয়োগও করেছেন মালিকরা। কিন্তু বর্তমানে প্রতি মাসে খামারটি পরিচালনা করতে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে খামার বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন উদ্যোক্তারা।

পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, গত ১৫ দিনে পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২৫০-৩০০ টাকা। এর মধ্যে পাতা ভুসি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮২০ টাকায় (৩৫ কেজি), চিকন ভুসি ২ হাজার ৪৫০ টাকায় (৫৫ কেজি), মোটা কুঁড়া ৬৫০ টাকায় (বগুড়া ৪০ কেজি), মোটা কুঁড়া (আশুগঞ্জ) ৬০০ টাকায়, ছোলার ভুসি ১ হাজার ২৯০ টাকায় (২৫ কেজি), লাল মটর ১ হাজার ২০ টাকায় (২০ কেজি), সাদা মটর ৯০০ টাকায় (১৫ কেজি), মুগ ডালের ভুসি ১ হাজার ২৮০ টাকায় (৪০ কেজি), চিড়ার ভুসি ৯৪০ টাকায় (৪৫ কেজি)।

এছাড়া সাদা গম ২ হাজার ৬০০ (৪৮ কেজি), লাল গম ২ হাজার ৫৭০ (৪৮ কেজি), ভাঙা ভুট্টা ২ হাজার (৪৮ কেজি), সয়াবিন ৩ হাজার ১৭৫ (৫০ কেজি), সরিষার খৈল ৩ হাজার ১৫০ (৬৫ কেজি), সেদ্ধ খুদ ১ হাজার ৮৫০ (৫০ কেজি), আতপ খুদ ১ হাজার ৭৫০ (৫০ কেজি) টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পশুর জন্য ব্যবহূত ওষুধের দাম ২০-২৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিটাগাং ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর বাবু বলেন, নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় দুধ ও বিলাসপণ্যের চাহিদা তুলনামূলক কম। আটা-ময়দা, চিনি, নারকেল জাতীয় খাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় দুধের চাহিদায় বড় প্রভাব পড়েছে। খামারগুলোর উৎপাদিত দুধের প্রধান ক্রেতা স্থানীয় কারখানাগুলো থেকেও অর্ডার কমে গিয়েছে। ফলে কোনোভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রামে অন্তত এক হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামার থাকলেও সেগুলোর অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

পশুখাদ্য উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি ও শিপিং চার্জ বেড়ে যাওয়ায় পশুখাদ্য আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে বেশি দামেই এসব পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। পণ্যের দাম বাড়তি থাকলেও খামার বন্ধের কারণে ক্রেতা কম।




  এ বিভাগের অন্যান্য