www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট হয়নি ৫৬ বছরেও


 এগ্রিবার্তা ডেস্ক    ২৩ নভেম্বর ২০২২, বুধবার, ৬:৪৮   সমকালীন কৃষি  বিভাগ


১৯৬৭ সালে বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনের জন্য রংপুর নগরীর সিও বাজার কেল্লাবন এলাকায় ২০ দশমিক ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করে তত্কালীন সরকার। সেখানে শিল্প-কারখানার জন্য ৮৩টি প্লট নির্মাণ করা হয়। সেগুলোর কোনোটি ৩ হাজার ১৫০ বর্গফুট আবার কোনোটি ১৫ হাজার বর্গফুট। আয়তনের ভিত্তিতে প্লটগুলোকে ‘এ থেকে ডি’ পর্যন্ত চারটি এবং একটি স্পেশালসহ মোট পাঁচ শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই প্লটগুলোয় ২৫টি মতো কারখানা রয়েছে, তার মধ্যে চালু রয়েছে ২৩টি। কিন্তু জমজমাট এ শিল্পনগরীতে প্রায় ৫৬ বছরেও গড়ে ওঠেনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত বর্জ্য ফেলার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। আবার সার্ভিস চার্জসংক্রান্ত জটিলতায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও বর্জ্য পরিবহন করে না। ফলে কারাখানাগুলোকে বর্জ্য অপসারণ করতে হচ্ছে নিজ উদ্যোগে। ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কারখানামালিকরা।

আরএফএল গ্রুপের হাউজিং অ্যান্ড স্যানিটেশন অফিসার মো. ওমর ফারুক জানান, কারখানা থেকে একদিন পরপর প্রায় এক টন বর্জ্য বের হয়। কিন্তু জায়গার অভাব ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেসব অপসারণ না করায় বাধ্য হয়ে দুই-তিন দিন পর পর নিজস্ব ট্রলি করে বর্জ্য নগরী থেকে অনেক দূরে ফেলতে হচ্ছে।

হিমাদ্রী হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. মনসুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত। নিয়মিত সার্ভিস চার্জ দিই। অথচ এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না। এখনো সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও গড়ে ওঠেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কারখানা মালিকের মতে, বিসিককে প্রতি বছর আমরা সার্ভিস চার্জ এবং খাজনা পরিশোধ করি। তাই সিটি করপোরেশনকে আবার টাকা দেয়ার কোনো যুক্তি নেই। কিন্তু যেহেতু সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিসিকের নেই তাই তাদের সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে এসব বর্জ্য অপসারণ করা উচিত।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় প্লটের যত্রতত্র বর্জ্য জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ড্রেনে বর্জ্য ফেলায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার জমে থাকা বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে পাশের শ্যামা সুন্দরী খালে এসে পড়ছে। কখনো কখনো বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।

বিসিকের শিল্প নগরী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, জায়গা না থাকায় প্লটের শেষ প্রান্তে কোনো রকমে প্রতিদিন তৈরি হওয়া বর্জ্য রেখে কারখানা মালিকরা নিজেরাই অপসারণ করেন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কেন বর্জ্য পরিবহন করেন না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্লটের বর্জ্য পরিবহনে আলাদা চার্জ চায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। তা কারখানামালিকরা দিতে চান না। সে কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শামীম হোসেন বলেন, জমির অভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট তৈরি করা যাচ্ছে না। কিন্তু অনেকে বর্জ্য ড্রেনে ফেলায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে নানা ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণে সহায়তা নেয়ার জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা প্রত্যেক কারখানামালিকের কাছ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স দাবি করেছেন। বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে নিজস্ব কারখানার সৃষ্ট বর্জ্য তারা নিজেরাই অপসারণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব কথা বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের সচিব উম্মে ফাতিমা বলেন, সিটি করপোরেশনের যেকোনো এলাকার বর্জ্য পরিবহনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কোনো বাধা নেই। অতএব শিল্পনগরী এলাকা এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এজন্য বাড়তি চার্জ চাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। বিসিক কর্তৃপক্ষ কোনো রকম অভিযোগও দেয়নি। তিনি যোগ করেন, এ বিষয়ে যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে তা একসঙ্গে বসে মীমাংসা করা সম্ভব।




  এ বিভাগের অন্যান্য