www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ

ইরাসমুস শিক্ষাবৃত্তির A টু Z


 মো. আশিকুর রহমান    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৬:৪১   স্কলারশীপ বিভাগ


উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংস্থা প্রতিবছরই মেধাবী শিক্ষার্থীদের অজস্র স্কলারশিপ দিচ্ছে। ইউরোপে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ ইউরোপিয়ান কমিশন প্রদত্ত ‘ইরাসমুস মুন্ডুস’ স্কলারশিপ। ১৯৮৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই স্কলারশিপ গত ৩১ বছর ধরে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হয়। এর অধীনে ইউরোপের প্রত্যেকটি দেশে শিক্ষার্থীর নিজের পছন্দসই বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে।

উচ্চতর গবেষণা, নতুন নতুন দেশ ও সংস্কৃতি জানা এবং বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার পাশাপাশি এই স্কলারশিপের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে- বিশাল অঙ্কের স্কলারশিপের পরিমাণ (২ বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামে একজন শিক্ষার্থীমাত্রই পাবেন ৩১ লক্ষ টাকা; ব্যাচেলর মোবিলিটি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা পাবেন প্রত্যেক মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা; পিএইচডি শিক্ষার্থীরা দেশভেদে প্রত্যেক বছরে পাবেন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা); তাছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীমাত্রই পাবেন সম্পূর্ণ ভ্রমণ ভাতা, স্বাস্থ্যবীমা ও গবেষণা সম্পর্কিত সকল খরচ। এছাড়াও থাকছে- বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি থেকে শুরু করে সকল ধরনের টিউশন ফি, লাইব্রেরি ফি, পরিক্ষা ফি, গবেষণা সংক্রান্ত ফি সহ বিভিন্ন ধরনের কনফারেন্স/সেমিনার/ সামার স্কুল/উইন্টার স্কুল প্রভৃতি সকল কিছুই একেবারে ফ্রি। এমনকি দেশভেদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে সম্পূর্ণ বিনা খরচে খাবারের সুবিধাসহ শহরভেদে পাবলিক পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেক খরচে চলাচলের সুবিধা; ইউরোপের বিমান চলাচলেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রমোশন ব্যবস্থা। একসময় শুধুমাত্র মাস্টার্স করার সুযোগ থাকলেও এখন ব্যাচেলর ও পিএইচডি করার জন্যও রয়েছে দারুণ সব সুযোগ। এছাড়া প্রতিটি মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে একাধিক দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি থাকায় এই স্কলারশিপের অধীনে শিক্ষার্থী তার কোর্স চলাকালে নূন্যতম দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পাবেন। তিন’শর বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ২৮৫ টি প্রোগ্রামে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী ও ১৫০০ জনের মতো পিএইচডি শিক্ষার্থী প্রতি বছর ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

Never Give Up, Start Today!

তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ তথা- বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। ইদানীং প্রতি বছর এই স্কলারশিপের অধীনে বাংলাদেশ থেকে স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন। ৬ মাস, ১০ মাস, এক বছর/দুই বছরের কোর্স কিংবা পিএইচডি ডিগ্রিতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে নতুন নতুন সুযোগ তৈরিসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার কিংবা স্বনামধন্য কোম্পানিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। উল্লেখ্য, ২০১৮-২০১৯ সেশনে এবছর ইরাসমুস প্লাস প্রকল্পের একশন-১ এ ৭৭টি স্কলারশিপ পেয়ে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে ইরাসমুস স্কলারশিপ প্রাপ্তির দিক থেকে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে; একশন-২ ও একশন-৩ মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট স্কলারশিপ প্রাপ্তির সংখ্যা ৯১ টি। তবে অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা সম্পর্কিত যথাযথ তথ্য না জানা ও আস্থার অভাবে অজস্র সম্ভাবনার অকাল মৃত্যু ঘটছে।

ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপে আবেদন সম্পর্কিত তথ্য:
ইরাসমুস স্কলারশিপের সকল প্রোগ্রামেই আবেদন করতে হয় অনলাইনে। আবেদন করার জন্য কোনো প্রকার ফি দিতে হয় না। সকল প্রকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে নির্ধারিত স্থানে আপলোড করতে হয় অথবা ইমেইলে পাঠাতে হয়। প্রত্যেকটি প্রোগ্রামের নিজস্ব ওয়েবসাইটে কারা কারা আবেদন করতে পারবেন সেই সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য, আবেদনকারীর ন্যূনতম যোগ্যতা, আবেদন করার সময়সূচি এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিশদ বর্ণনা দেওয়া রয়েছে।

সাধারণত মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ ডিগ্রি সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট, জীবনবৃত্তান্ত, ইংরেজি ভাষাশিক্ষার স্কোর, শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত পড়ালেখা সম্পর্কিত মোটিভেশন লেটার ও শিক্ষার্থী সম্পর্কে যথাযথ ধারণা রাখেন এমন দুজন যোগ্য ব্যক্তির সুপারিশপত্র (রিকমেন্ডেশন লেটার) দিয়ে আবেদন করতে হয়। দেশি বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র (যদি থাকে), যেই প্রোগ্রামে পড়ালেখা করতে আগ্রহী সেই প্রোগ্রামের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা কিংবা তদসংশ্লিষ্ট সকল ধরনের কো-কারিকুলার কার্যক্রম(যদি থাকে) আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজস্ব প্রস্তাবিত গবেষণা কাজ জমা দিতে হয়। মনে রাখতে হবে, একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ তিনটি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের আবেদন করা যাবে প্রোগ্রাম অনুসারে এ বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস পর্যন্ত।

ইরাসমুস স্কলারশিপ সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পরে এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
১। যেহেতু ৩টির অধিক প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ নেই, সেহেতু গতানুগতিকভাবে আবেদন না করে প্রথমেই নিজের পড়ালেখা, গবেষণা অভিজ্ঞতা ও গবেষণা আগ্রহের সাথে মিল রেখে সবচেয়ে ভাল প্রোগ্রামগুলো খুঁজে আলাদা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া দরকার। এতে করে আবেদন সম্পর্কিত নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সময় নিয়ে ভাল ভাবে সম্পন্ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
ইরাসমুস মুন্ডুস মাস্টার্স কোর্সসমূহ : https://eacea.ec.europa.eu/erasmus-plus/emjmd-catalogue_en এবং
ইরাসমুস মুন্ডুস পিএইচডি: https://ec.europa.eu/research/mariecurieactions/
(২০১৪ সালের পর থেকে ইরাসমুস মুন্ডুস পিএইচডিসমূহ Marie Skłodowska-Curie Actions এর অধীনে প্রদান করা হচ্ছে)
২। বাইরে উচ্চ শিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার স্কোর (আয়েল্টস/ টোফেল/জিআরই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেদনকারীর অর্জনকৃত ইংরেজি ভাষা শিক্ষার স্কোর অবশ্যই আবেদন করার সময়সীমার মাঝে থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, ইরাসমুস স্কলারশিপের সামান্য সংখ্যক কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার স্কোর জমা না দিয়েও আবেদন করা যায়। এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী যদি তার স্নাতক পড়ালেখা সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে করে থাকেন, অর্থাৎ মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন যদি ইংরেজি হয়ে থাকে, সেটার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি সনদ সংগ্রহ করে জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে নিজের পছন্দসই প্রোগ্রামের ওয়েবসাইট হতে কিংবা প্রোগ্রাম কো-অরডিনেটরকে মেইল করার মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হওয়া যাবে কোন প্রোগ্রাটিমে মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন সনদ দিয়ে আপনি আবেদন করতে পারবেন!
৩। মোটিভেশন লেটার লেখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সময় দিন। একজন শিক্ষার্থীকে তার নিজস্ব একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা, কেন তিনি এই প্রোগ্রামে আবেদন করেছেন সংক্ষিপ্ত কথায় তার আবেদনের তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, এই প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ কিংবা সমাজে কিভাবে উপকৃত হবে, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রভৃতি নিখুঁতভাবে সুন্দর উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে ১-২ পাতার মধ্যে লিখে জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে ইন্টারনেট থেকে কিংবা ইতোপূর্বে উচ্চ শিক্ষায় দেশের বাহিরে পাড়ি দিয়েছেন এমন মানুষদের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা নিন। মনে রাখবেন- আপনার মোটিভেশন লেটার স্কলারশিপ প্রাপ্তিতে আপনার যোগ্যতাকে অনেকাংশেই বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে!
৪। ইরাসমুস স্কলারশিপের আবেদনে অধিকাংশ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেই জীবন বৃত্তান্ত (Curriculum Vitae) জমা দিতে হয়। ইউরোপের ক্ষেত্রে জীবন বৃত্তান্ত তৈরিতেEuropass ফরম্যাট ব্যবহার করা উত্তম। http://europass.cedefop.europa.eu/ - এই লিংক থেকেEuropass ফরম্যাট সম্পর্কিত বিস্তারিত জানা যাবে।
৫। প্রত্যেক প্রোগ্রামেই রিকমেন্ডেশন লেটার জমাদানের বাধ্যবাধকতা থাকে। শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় ধরে ভালভাবে জানেন এমন ২ জন যোগ্য ব্যক্তি থেকেই রিকমেন্ডেশন লেটার নেওয়া উত্তম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, স্নাতক/স্নাতকোত্তর গবেষণা কাজের সুপারভাইজার, কিংবা আপনার কর্মক্ষেত্র যদি আবেদনের সাথে সম্পর্কিত হয় তবে সেই প্রতিষ্ঠান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থেকেই রিকমেন্ডেশন লেটার নেওয়া ভাল।
৬। সময়কে অনুধাবন করুন। কখনোই ডেডলাইনের তারিখে এপ্লিকেশন করার জন্য বসে থাকা ঠিক নয়। সামান্য কারণে অনেক সময় শেষ মুহূর্তে এসে অনেক কিছুই হারাতে হতে পারে কিংবা ভুল হয়ে যেতে পারে! তাছাড়া ইন্টারনেট সম্পর্কিত ঝামেলাতো থাকছেই।

পরামর্শসমূহ দেখা পরেও কিছু কিছু বিষয়ে আপনাদের বিভিন্ন প্রশ্ন থাকতে পারে, এবং থাকাটাই স্বাভাবিক!
গত ৬ বছরে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত ইরাসমুস শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কিত অজস্র প্রশ্ন পেয়েছি, পাচ্ছি। ইরাসমুস প্রোগ্রামগুলোর ওয়েবসাইট গুলোতে যেভাবে তথ্যগুলো দেওয়া আছে, তা সম্পূর্ণভাবে বুঝা একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটের কাছে সত্যিই দুরূহ, একারণেই প্রতিনিয়ত একই ধরনের প্রশ্নগুলো বারবার বিভিন্নভাবে উচ্চ শিক্ষা প্রত্যাশীরা তুলে ধরছেন! এমতাবস্থায়- ইরাসমুস সম্পর্কিত সকল তথ্য, প্রশ্নোত্তর, পরামর্শ ও সিক্রেটসসমুহ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে হাতে কলমে শিখানো এবং দেখানোর লক্ষ্যে “ইরাসমুস+ ইনফো এসিস্ট” – ভিডিও তথ্য শেয়ারিং কার্যক্রম, যা একজন শিক্ষার্থীর যেকোন সমস্যা বা প্রয়োজনে সরাসরি সাপোর্ট দিবে। এই ভিডিও শেয়ারিং কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে করা হয়েছে, যেখানে একটি ভিডিও ফ্রেমে একপাশে ভিডিও প্রেজেন্টেশন (যেখান থেকে একজন শিক্ষার্থী সরাসরি দেখে শিখতে পারবেন/নোট করতে পারবেন/ প্রশ্নগুলোর উত্তর পাবেন), আর অন্যপাশে সরাসরি অভিজ্ঞতা শেয়ার, যেখানে প্রেজেন্টেশনের সকল তথ্যাদি আপনাদেরকে ভেঙে ভেঙে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেস্টা করা হয়েছে।সর্বোপরি যেখানেই কনফিউশন, সেখানেই যথাযথ সমাধান সূত্র দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে; সমাধান তথ্যগুলো সরাসরি ইরাসমুস প্রোগ্রামগুলোর ওয়েবসাইট থেকে ভিজুয়ালাইজ করা হয়েছ। ভিডিওগুলোর ফোকাস হচ্ছে ইরাসমুস মাস্টার্স এপ্লিকেশন-2019। ভিডিওগুলো থেকে একজন এপ্লিকান্ট/ ফিউচার এপ্লিকান্ট হিসেবে শিক্ষার্থীমাত্রই পাবেন ইরাসমুস প্রোগ্রাম ও স্কলারশিপ সম্পর্কিত what, what...for, when, where, which, who, whom, whose, why, why don't, how, how far, how long, how many, how much, how come সহ সকল ধরনের ফরমাল/ইনফরমাল প্রশ্ন এবং কনফিউশনের যথাযথ সময়োপযোগী উত্তর।

Video-1: Erasmus Mundus Joint Master Degree: At a glance (এক নজরে ইরাসমুস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রাম)

ভিডিওতে সংক্ষেপে ইরাসমুস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রাম সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী এই প্রোগ্রাম থেকে কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা অর্জন করতে পারে, তা উল্লেখ করাসহ স্কলারশিপ এমাউন্টের পরিমাণ, বাংলাদেশে স্কলারশিপ প্রাপ্তির সংখ্যা, মাস্টার্স প্রোগ্রাম ডিসিপ্লিনসমূহ, EMJMD Course Catalogue লিংক, এপ্লিকেশন সম্পর্কিত ডিটেইলস এপ্লিকেশন টাইম পিরিয়ড এবং কোয়ালিটিফুল এপ্লিকেশন কিভাবে প্রস্তুত করা যায় তা নিয়ে সংক্ষেপে ভিডিও প্রেজেন্টেশন সহ গুরুত্ববহ আলোচনা করা হয়েছে।///
Link: https://www.youtube.com/watch?v=yPr6N4iC0OI

Video-2: Why you should study abroad with Erasmus and Bangladesh?? (একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে কেন ইরাস্মুস মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করবেন??)

ভিডিওতে লেটেস্ট-আপডেটেড পরিসংখ্যান ও তথ্যানুসারে উচ্চশিক্ষায় একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কেন ইরাস্মুস নিয়ে পড়ালেখা করা উচিৎ সেই বিষয়ে বিশদ আলোকপাত করা হয়েছে। ৫টি ভিন্ন ক্যাটেগরিতে ইরাস্মুসের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছেঃ ১) লোভনীয় স্কলারশিপ এমাউন্টসের পরিমাণ, ২) ডিগ্রি মোবিলিটি সুবিধা, ৩) এমপ্লয়ার ও ক্যারিয়ার ডেভেলাপমেন্টে পরিসংখ্যান দিয়ে ইরাস্মুসের অবদান, ৪) ওয়ার্ক প্লেসমেন্টস এবং ৫) ইন্টারন্যাশনাল লাইফে পরিসংখ্যান দিয়ে ইরাস্মুস ও নন মোবাইল শিক্ষার্থীর মাঝে ভিন্নতা। শেষে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইরাস্মুস শিক্ষাবৃত্তির প্রাপ্তির সংখ্যা এবং এলামনিদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।///
Link: https://www.youtube.com/watch?v=SMMPMNACUgg

Video-3: How can I find my expected courses from the Erasmus course catalog?? (ইরাসমুস কোর্স ক্যাটালগ থেকে আমি আমার প্রত্যাশিত কোর্সগুলি কীভাবে খুঁজে পেতে পারি??)

শিক্ষার্থী কিভাবে নিজের পছন্দসই সাবজেক্ট খুঁজে বের করবেন, তা সরাসরি ভিজুয়ালাইজ করে দেখানো হয়েছে। কোর্স ক্যাটালগ থেকে ৪-৫টি ভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে কিভাবে প্রোগ্রাম রিলেটেড তথ্যসমূহ খুঁজে দেখা যেতে পারে সেই বিষয়টি ফোকাস করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কোর্স ক্যাটালগ থেকে সাবজেক্ট খুজার সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে- “২০১৯ সালে আবেদনকারীদের ইয়ার অব ইনটেক হবে– ২০২০”।
Link: https://youtu.be/H81JUBdFbck

Video-4: How could you check the requirements of Erasmus Masters?? (আপনি কীভাবে ইরাস্মুস মাস্টার্সের রিকোয়ারমেন্টগুলো চেক করবেন?)

শিক্ষার্থী কিভাবে ইরাস্মুস মাস্টার্স প্রোগ্রামের এলিজিবিলিটি এবং রিকোয়ারমেন্টগুলো চেক করবেন, সেই বিষয়ে সরাসরি ইরাস্মুস প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটগুলো থেকে হাতে কলমে শিখানোর লক্ষ্যে ভিজুয়ালাইজ প্রেজেন্টেশন করা হয়েছে।
Link: https://youtu.be/o5KA5no4log

Video-5: Erasmus: Difference between Program country and Partner country, and 12-month mobility rules

একজন আবেদনকারী আবেদনের শুরুতেই যে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়- 'আমি কি প্রোগ্রাম কান্ট্রি, নাকি পার্টনার কান্ট্রি'?? এবং '12-month mobility rules কি??'- সেই বিষয়কে সহজবোধ্য করার লক্ষ্যে বিষয়গুলোকে ভেঙে ভেঙে ভিজুয়ালাইজ করে তথ্যানুসারে ভিউয়ারদের জন্য তুলে ধরা হয়েছে।
Link: https://youtu.be/hNVNFZdeNC0

Video-6: How to Write an Eye-Catching CV?? (কীভাবে আকর্ষণীয় সিভি লিখবেন??)

ভিডিওতে একটি সিভি’কে কিভাবে আকর্ষণীয় করে লেখা যায়, সেই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আলোচনা করা হয়েছে। হাইলাইট করা হয়েছে- একটি সিভিতে কি কি বিষয় অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, পার্সোনাল প্রোফাইল, একাডেমিক একমপ্লিশমেন্ট, রিচারস একটিভিটি, ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স, পাবলিকেশন্স, স্কিলস, সোশ্যাল একটিভিটি, রেফারী সহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু। শেষদিকে ইউরোপাস সিভি থেকে সরাসরি আলোকপাত করা হয়েছে।
Link: https://youtu.be/_KhUgCtvtPw

Video-7: Motivation Letter: যা অবশ্যই লিখবেন, যা লিখবেন না!!

ভিডিওতে একজন শিক্ষার্থী কিভাবে একটি গ্রহনযোগ্য Personal Statement / Statement of Purpose / Motivation Letter/ Letter of Intent / Cover Letter লিখবে, তার যথাযথ ভিজুয়ালাইজ ব্যাখা দেওয়া হয়েছে।Motivation Letter লেখার সময় একজন শিক্ষার্থীর কি কি বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিৎ, Motivation Letter লিখার টিপস, Motivation Letter এর স্ট্রাকচার, আবশ্যকীয় সংযুক্তি, পরিত্যাজ্য বিষয়াদিসহ পসিবল কন্টেন্ট অব স্টেটমেন্ট নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে, যাতে উচ্চশিক্ষা আগ্রহী শিক্ষার্থী মাত্রই উপকৃত হতে পারেন।।
Link: https://youtu.be/y2hW_evaCCM

Video-8-Confusion- 1: What is the difference between Erasmus+ and Erasmus Mundus? And which one I should apply for?

ভিডিওতে ইরাসমুস+ এবং ইরাসমুস মুন্ডুস সম্পর্কিত সকল কনফিউশন দূর করার লক্ষ্যে বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
Link: https://youtu.be/KuPp8NU7Ur8

Video-9: IELTS ছাড়া ERASMUS প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে কি??

এই ভিডিওতে সরাসরিERASMUS প্রোগ্রাম ক্যাটালগ থেকে এবছর চলমান ৮টি ভিন্ন প্রোগ্রামের Website-এ ঢুকেLanguage Requirements অপশন থেকে দেখানো হয়েছেIELTS ছাড়াERASMUS প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে কিনা? অথবাMedium of Instruction (MIC) বা Language of Instruction (LIC) সার্টিফিকেট জমা দিয়ে ERASMUS প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে কি??
Link: https://youtu.be/InjYL-R4XRc

Video-10: Journals VS Work Experience VS Fresh Graduate: Erasmus application

জার্নাল/পাবলিকেশন বা ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স হাইয়ার এডুকেশনে ভর্তি বা স্কলারশিপ প্রাপ্তিতে কিভাবে ভূমিকা রাখে?? পাবলিকেশন বা ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স ছাড়া কি আসলেই স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব?? এই ভিডিওতে উচ্চশিক্ষা আগ্রহী শিক্ষার্থীর "Journals VS Work Experience VS Fresh Graduate" সম্পর্কিত ভুল ধারণাগুলো যথাযথ ইনফরমেশনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
Link: https://youtu.be/vNu8BHkpEiU

Vedio-11: সার্টিফিকেট এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট কি নোটারী/ মিনিস্ট্রি থেকে সত্যায়িত করতে হবে??

ইউরোপ সহ উন্নত বিশ্বের প্রথম সারির স্কলারশিপ প্রোগ্রাম কিংবা সরাসরি ইউনিভার্সিটি এডমিশনের জন্য একটি প্রধান রিকোয়ারমেন্ট হচ্ছে ভেরিফাইড/ এটেস্টেড/ নোটারাইজড করা সার্টিফিকেট এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দেওয়া। এক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা আগ্রহী এপ্লিকান্ট মাত্রই একটি কনফিউশান তৈরি হয়- কিভাবে সার্টিফিকেট এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিলে বেস্ট হবে? সার্টিফিকেট এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট কি নোটারী/ এজুকেশন মিনিস্ট্রি/ ফরেইন মিনিস্ট্রি/ শিক্ষা বোর্ড থেকে সত্যায়িত করতে হবে?? এই ভিডিওতে যথাযথ উত্তর প্রদানের মাধ্যমে সকল কনফিউশান দূর করত সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়- উচ্চশিক্ষা আগ্রহী শিক্ষার্থী মাত্রই উপকৃত হবেন।
Link: https://youtu.be/DMZDK8Bvgqs

Video- 12: Certificate of Residence বা Proof of Residence কোথায় থেকে কিভাবে সংগ্রহ করব??

স্কলারশিপ প্রোগ্রাম কিংবা সরাসরি ইউনিভার্সিটি এডমিশনের জন্য একটি অন্যতম রিকোয়ারমেন্ট হচ্ছেCertificate of Residence বাProof of Residence জমা দেওয়া। একজন উচ্চশিক্ষা আগ্রহী শিক্ষার্থী মাত্রই উল্লেখযোগ্য কনফিউশন হল- কোথায় থেকে কিভাবে সংগ্রহ করা যাবেCertificate of Residence বাProof of Residence?? পাসপোর্ট বা জব সার্টিফিকেট কিংবা বার্থ সার্টিফিকেট কি জমা দেওয়া যাবেCertificate of Residence বাProof of Residence হিসেবে? এই ভিডিওতে Certificate of Residence বা Proof of Residence কোথায় থেকে কিভাবে সংগ্রহ করবেন এবং কি কি ডকুমেন্ট জমা দেওয়া ঠিক হবে না সেই বিষয়গুলো সরাসরি তথ্যানুসারে আলোকপাত করা হয়েছে।
Link: https://youtu.be/CyEkLLvE3-c

“ইরাসমুস+ ইনফো এসিস্ট” ভিডিও তথ্য শেয়ারিং: FAQ সিরিজ আলোচনা
FAQ ভিডিওগুলোতে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে পাওয়া ৫শতাধিক প্রশ্ন থেকে বাছাই করে ৭১টি প্রাথমিক গুরুত্ববহ প্রশ্নোত্তরকে নাম্বারিং করে করে ৮টি ভিন্ন ভিডিও ক্যাটেগরিতে রেডি করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের সকল প্রশ্নগুলোকে / কনফিউশন গুলোকে কাভার করেছে। সিরিজটিকে সাজানো হয়েছে প্রয়োজন অনুসারে পারপাস বাই পারপাস প্রশ্নোত্তর প্রেজেন্টেশন আকারে। প্রত্যেকটি FAQ ভিডিওতে ভিডিও প্রে্জেন্টেশনে প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে প্রেজেন্ট করা হয়েছে এবং প্রশ্নোত্তরগুলোর প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা অভিজ্ঞতা ও যথাযথ তথ্যের আলোকে প্রদান করা হয়েছে।
Link: https://www.facebook.com/notes/erasmus-mundus-bangladesh/do-you-have-questions-check-the-following-faq-answers-first/2704705529561426/
(সকল FAQ ভিডিও দেখার পরও যদি আপনাদের আরও প্রশ্ন থাকে, আশা করি - হতাশ হবেন না, কমেন্টে জানাবেন, সময়মত উত্তর নিয়ে হাজির হব, ইনশাআল্লাহ্‌। কমেন্টে ভিডিও সম্পর্কিত আপনার মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না।)

সর্বশেষ, বাংলাদেশ থেকে ২০১৮ সালের আবেদনকারীদের মাঝ থেকে ৭৮ জন ইরাসমুস শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছি; ৭৮ সংখ্যাটি একই সাথে আশাজাগানিয়া, আবার হতাশাজনক! আশাজাগানিয়া, কারণ- ২০১৭ সালের আবেদনকারীদের থেকে ৬১ জন শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছিল, সেই হিসেবে সংখ্যাটা বেড়েছে; আর হতাশাজনক, কারণ- গতবছর ১০৯টি প্রোগ্রাম ওপেন ছিল, সুতরাং বাংলাদেশ থেকে ন্যূনতম ২১৮ জন শিক্ষার্থী ইরাসমুস স্কলারশিপ পেতে পারত, যেটা আমরা পারিনি। শুধুমাত্র যথাযথ পরিকল্পনা ও সময়োপযোগী এপ্লিকেশন করতে না পারাই বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের এই ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি!

শুধুমাত্র সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের যথাযথ প্রচেষ্টার মধ্যদিয়ে ইউরোপে উচ্চশিক্ষায় ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপই হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য! আপনি যদি সত্যিকারের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত, গবেষক, ভ্রমণবিলাসী কিংবা পৃথিবী দেখার স্বপ্ন লালনকারীদের একজন হয়ে থাকেন, তাহলে আর দেরি কেন? অন্তত একবার ঘুরে আসুন ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলারশিপের ওয়েবসাইটে (https://eacea.ec.europa.eu/erasmus-plus/emjmd-catalogue_en)। নিজের অজান্তেই দেখবেন, আপনিই এই স্কলারশিপ পাওয়ার উপযুক্ত। একটু সাহস আর একটি সিদ্ধান্ত, আপনাকে করবে আপনার স্বপ্নের সমান বড়। অন্যের সফলতার গল্প পড়ে পড়ে আর কত? আগামীর এই দিনে আপনার সফলতার গল্প পড়বে অন্যরা..., এই স্বপ্নটুকু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একাগ্রচিত্তে কাজ শুরু করে দিন, দেখা হবে বিজয়ে।

মোঃ আশিকুর রহমান
কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ অব বাংলাদেশ
ভাইস-প্রেসিডেণ্ট অব সাউথ এশিয়ান চ্যাপ্টার
ইরাসমুস মুন্ডুস এসোসিয়েশন (EMA)
রিসার্চ ফেলো, স্প্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল (CSIC:ICMA), স্পেন
Email: bangladesh@em-a.eu, me@ashiq.info