www.agribarta.com:: কৃষকের চোখে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

বাকৃবির সাবেক ছাত্র ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে সাফল্য

করোনা সনাক্তে দেশে র‍্যাপিড টেস্ট কীট আবিষ্কার


 এগ্রিবার্তা ডেস্কঃ    ১৯ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১০:৪৬   কৃষি ব্যক্তিত্ব বিভাগ


দেশের প্রথিতযশা ভেটেরিনারিয়ান ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে এক দল গবেষক বিশ্বব্যাপী মহামারী রুপ ধারনকারী করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণে র‍্যাপিড টেস্ট কীট আবিস্কার করেছেন। এই কীটের মাধ্যমে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই করোনা সনাক্তকরন সম্ভব হবে বলে জানা যায়। গবেষনা দলের অন্যান্য সদস্য বৃন্দ হলেন ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাশেদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ। এ ব্যাপারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন ‘ব্লাড গ্রুপ যে পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা হয় এটা মোটামুটি সে রকমের একটি পদ্ধতি। ২০০৩ সালে যখন সার্স ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল তখন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর গবেষণাগারে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

‘র‌্যাপিড ডট ব্লট’ পদ্ধতিটি ড. বিজন কুমার শীলের নামে পেটেন্ট করা। পরে এটি চীন সরকার কিনে নেয় এবং সফলভাবে সার্স মোকাবেলা করে।’ ‘তারপর তিনি সিঙ্গাপুরেই গবেষণা করছিলেন ডেঙ্গুর ওপরে। গবেষণা চলাকালে তিনি দুই বছর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন। আমাদের এখানে যখন যোগ দিলেন তখন তিনি ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছিলেন।’

‘যখন গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন করোনাভাইরাস দেখা দিলো তখন তিনি আমাদের বললেন, ‘এটা (নতুন করোনাভাইরাস) হলো সার্সের রূপান্তরিত রূপ। এটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। উনি এটা বুঝতে পেরেছিলেন। তখন আমরা কেউ চিন্তা করি নাই করোনাভাইরাস এমন হতে পারে। তিনি তখন বলেছিলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের গবেষণা করা দরকার।’ দেশে প্রস্তুত কৃত এ কীটের বাজার মুল্য হবে ৩০০-৩৫০ টাকা। চলতি মাসেই ১০ হাজার কীট তৈরি সম্ভব হবে বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, ড. বিজন কুমার শীল, একজন ভেটেরিনারিয়ান। উনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রিতে (ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট), এমএসসি (ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট) ইন ভাইরোলজিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে ইউনিভার্সিটি অব সারে , ইংল্যান্ড থেকে পিএইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি বাংলাদেশ প্রানিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিএল আর আই) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সিংগাপুরে চলে যান এবং সিংগাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। সম্প্রতি তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্টে। সেখানে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষনায় নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ছাগলের জীবনরক্ষাকারী পিপিআর রোগের ভ্যাকসিনও তিনি আবিষ্কারের করেন।

 




  এ বিভাগের অন্যান্য