
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ডা: মোঃ আব্দুর রহমান আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র তিন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
প্রফেসর ডা: মোঃ আব্দুর রহমান ১৯৩৭ সালের ৩১ জুলাই নাটোর জেলার শাখারী পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৫ সালে আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি হাজার ১৯৬২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ভেট সাইন্স এন্ড এএইচ ডিগ্রি লাভ করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগে লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রফেসর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ এন্ড এম ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৬৬ সালে ডিভিএম ডিগ্রি এবং ১৯৬৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে প্রফেসর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কাউন্সিলের কনভেনার, সিন্ডিকেট সদস্য এবং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেছেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অনেক ছাত্রের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। প্রফেসর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ক্লিনিক (ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল)-এর ইন officer-in-charge ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল বাকৃবি’র বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করে গেছেন। প্রফেসর ডাক্তার মোঃ আব্দুর রহমান জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ফার্মাকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক এবং পর্ষদের বিশেষজ্ঞ বহিঃস্থ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বাংলাদেশ তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাওয়া ভেটেরিনারি প্রাকটিশনার। ভেটেরিনারি শিক্ষায় তার অসাধারণ জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার জন্য তাকে "লিভিং লিজেন্ড" ও বলা হতো।তার মৃত্যু ফার্মাকোলজি বিভাগের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার চলে যাওয়ায় ফার্মাকোলজি বিভাগ একজন অভিভাবককে হারালো।
এদিকে তার মৃত্যুর খবরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষিবিদ অঙ্গনসহ সকল মহলে শোকের ছায়া নেমে নেমে এসেছে। সকলেই মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। আজ বাদ জোহর বাকৃবিতে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে নিজ গ্রামে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।