১৭ অক্টোবর ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য ও জলজ চাষ উন্নয়নে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের কর্মশালা

এগ্রি বার্তা প্রতিবেদক ১৭ অক্টোবর ২০২৬ · ৬ মিনিট পড়ার সময় · ৪ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য ও জলজ চাষ উন্নয়নে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের কর্মশালা

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার জলজ প্রতিবেশ ও গ্রামীণ জীবিকা হুমকির মুখে পড়ায় জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য ও জলজ চাষ উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং জনগোষ্ঠীভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশের কুমিল্লায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জনগোষ্ঠীভিত্তিক জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষ উন্নয়ন’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়। সার্ক কৃষি কেন্দ্র এবং শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিশুক) এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

 

কর্মশালায় সার্কভূক্ত বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ছাড়াও থাইলান্ড ও মালোএশিয়ার প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা বন্যা, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার অনুপ্রবেশসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওহাব জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য ও জলজ চাষ উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ) ড. মো. শরীফুল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি মৎস্য ও জলজ চাষে জলবায়ু অভিযোজন জোরদারে দেশভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনগোষ্ঠীভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

 

শিশুকের নির্বাহী পরিচালক জনাব সাকিউল মিল্লাত মোরশেদ টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষ উন্নয়নে জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং মৎস্যচাষিদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে মৎস্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভূমিকা তুলে ধরেন।

 

সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক এবং সার্ক মহাসচিবের প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ তরফদার দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

 

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি শবনম শিবাকোটি মৎস্য ও জলজ চাষে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. গোলাম মাহবুব দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষ উন্নয়ন এবং জীবিকা সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় ও জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি টেকসই জলজ চাষ পদ্ধতি গড়ে তোলা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গবেষক, নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

 

তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু ঝুঁকি পর্যালোচনা, জলবায়ু-স্মার্ট জলজ চাষের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য খাত উন্নয়নে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন। কর্মশালার সমাপনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সফল ‘দাউদকান্দি-কুমিল্লা প্লাবনভূমি মডেল’ পরিদর্শন করা হবে। এ পরিদর্শনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা টেকসই জলজ চাষ এবং প্লাবনভূমির সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।

 

এগ্রি বার্তা প্রতিবেদক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।