দক্ষিণবঙ্গের বাংলা পান বাজারে এখন পূর্ণ দখল করেছে। সেখানে উত্তরবঙ্গের পানের চাহিদা ক্রমেই কমে গেছে। প্রায় ২ বছর আগে যে পরিমাণ পানের বরজ উত্তরবঙ্গে ছিল, বর্তমানে তার অর্ধেকেরও কম বরজ রয়েছে। এর ফলে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের পান চাষিরা চাষ বন্ধ করে দিচ্ছেন। এখানকার পানের বৈশিষ্ট্য কলকাতার তুলনায় আলাদা, তবে বর্তমানে পান চাষ লাভজনক না হওয়ায় অনেক চাষি শাকসবজি চাষে মনোযোগী হয়েছেন।
এক বছর আগে ইসলামপুর ব্লকে ১৫০টি পান বরজ ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা কমে ৮০টি হয়েছে। এই পানের বিশেষত্ব হল, এটি কলকাতার পানের তুলনায় একটু ঝাল ও হালকা সবুজ। বিহারের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামপুরের পান খুব জনপ্রিয় ছিল, কিন্তু বর্তমানে এর মানের অবনতি হওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আগে পান চাষ জৈব সার দিয়ে হলেও, এখন কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, দক্ষিণবঙ্গের চাষিরা রাজ্য সরকারের সুবিধা পেলেও, উত্তরবঙ্গের চাষিরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ইসলামপুরের কৃষক বিশ্বনাথ পাল বলেন, "পান চাষে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, কখনও কখনও বাগান ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু সরকার থেকে কোনো সাহায্য পাই না।" মহকুমা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিকের মতে, পান চাষের জন্য কোনো সরকারি বিমা নেই। শুধুমাত্র ধান চাষের ক্ষেত্রে বিমার সুবিধা পাওয়া যায়, ফলে পান চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হলেও সাহায্য পায় না। ইসলামপুরের কৃষকরা দাবি করছেন, যদি সরকার সহযোগিতা দেয় তবে তারা পুনরায় পান চাষে মনোযোগ দেবেন।
