ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার

নড়াইলে কৃষিতে তিন ভাইয়ের সাফল্য, প্রতি মাসে আয় লাখ টাকা



ক্যারিয়ার

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ বছর আগে) ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, বুধবার, ৯:১০ পূর্বাহ্ন

agribarta

নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার ঘোষপাড়ার তরুণ উদ্যোক্তা রমজান খান তার দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে কৃষিতে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাত্র ২২ বছর বয়সী রমজান মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরোলেও কৃষি খাতে তার উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ও পরিশ্রম তাকে সফল করেছে। সাত বছর আগে শসা চাষের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এই তরুণ বর্তমানে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো, বেগুন, মরিচ ও বাঁধাকপির মতো সবজি চাষ করে প্রতি মাসে লাখ টাকা আয় করছেন।

রমজানের সঙ্গে তার বড় দুই ভাইও এই কৃষি খামারের অংশীদার হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে কৃষিতে যুক্ত হন। তাদের গড়ে তোলা কৃষি খামার শুধু নিজেদের জন্য লাভজনক হয়নি, বরং এটি এলাকার বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

রমজান জানান, চলতি বছরে ১৮০ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি করেছেন, যা গত ১২ বছরে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি টমেটোর সঙ্গে ‘সাথী ফসল’ হিসেবে বাঁধাকপির চাষ করেও ভালো ফল পেয়েছেন। তিনটি জমি মিলে ৫০ শতক জায়গায় চাষাবাদ করছেন তারা। এছাড়া এই খামারের মাধ্যমে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে।

রমজানের বড় ভাই ওয়েস খান বলেন, “আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ করছি, ফলে লাভবান হচ্ছি। অথচ অনেকেই অলস সময় কাটান, কিন্তু কিছু করলে যে আনন্দ ও সাফল্য আসে, তা আমরা অনুভব করি।”

বিদেশ ফেরত বড় ভাই এলাহি খান বলেন, “বিদেশে কঠোর পরিশ্রমের তুলনায় দেশে কৃষি কাজে যুক্ত হয়ে অনেক ভালো আছি। কম কষ্টে ভালো আয় হচ্ছে, পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছি।”

এলাকার একাধিক তরুণ রমজানদের সফলতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং স্মার্ট কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। পাশের গ্রামের জব্বার তালুকদার বলেন, “তাদের কৃষি খামার দেখে আমারও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমিও স্মার্ট কৃষি উদ্যোক্তা হতে চাই।”

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার জানান, রমজান ও তার দুই ভাইয়ের সাফল্য এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তারা বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা কৃষি বিভাগের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় তাদের খামারে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, ফলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হচ্ছে।