ঢাকা, ১৭ জুন ২০২৪, সোমবার

ঝিনাইদহে নলকূপে উঠছে না পানি, মাঠ ফেটে চৌচির



কৃষি

জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর

(১ মাস আগে) ২৮ এপ্রিল ২০২৪, রবিবার, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

agribarta

সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহে প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে। দেখা দিয়েছে পানির সংকট। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমেছে ৩৫-৪০ ফুট নিচে। ফলে পানি উঠছে না জেলার হাজার হাজার নলকূপে। পানির জন্য গ্রামে গ্রামে হাহাকার শুরু হয়েছে। মানুষ যেখানে পানি পাচ্ছেন, সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরি ধানের মাঠে সেচকাজে মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় পানির স্তর নেমে গেছে। তাদের দাবি, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে কোনো নিয়ম না মানায় এমনটি হয়েছে।

এদিকে, গ্রীষ্মের শুরুতেই জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১০ নদী ও দুটি নদের প্রায় ৮০ শতাংশ শুকিয়ে গেছে। এসব নদ-নদীতে কৃষকদের ধানচাষ করতে দেখা গেছে।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, কারো হাতে কলস, কারো হাতে বালতি কিংবা মগ। পার্শ্ববর্তী মসজিদের নলকূপ থেকে তারা পানি সংগ্রহ করছেন। বাড়ির নলকূপে বেশ কিছুদিন ধরে পানি না ওঠায় তারা এখান-ওখান থেকে পানি নিচ্ছেন।

এমনই অবস্থা জেলার ছয়টি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায়। বিশেষ করে শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর, যুগনী, আইশিয়াসহ অন্যান্য গ্রামে পানির সংকট অনেক বেশি।

জেলার জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে, তাদের নির্ধারিত ডিজাইন মেনে ঝিনাইদহে প্রায় ৩১ হাজার নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এসব নলকূপে পানির কোনো ঘাটতি নেই। জেলার কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বলছে, তাদের অনুমতি নিয়ে জেলায় প্রায় ২০০ গভীর এবং সাত হাজার ৯২১টি অগভীর নলকূপ রয়েছে। 

তবে তাদের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েক হাজার গভীর ও অগভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপ থেকে নিয়ম না মেনে যত্রতত্র পানি উত্তোলন করায় পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে জেলার প্রায় তিন লাখ নলকূপ রয়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এসব নলকূপ থেকে এখন পানি উঠছে না।

শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গ্রামের আলাপি খাতুন বলেন, ‘আমাদের টিউবওয়েলে আগে প্রচুর পরিমাণে পানি উঠতো। কিন্তু এখন আর পানি উঠছে না। এক কিলোমিটার দূরের মসজিদ থেকে পানি নিয়ে এসে কাজকাম করছি।’

একই গ্রামের মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার ওপর টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। সবমিলিয়ে আমরা কষ্টে আছি।’

খরায় পাটক্ষেত ফেটে চৌচির
কৃষক তারিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ির পাশাপাশি ফসলের ক্ষেতেও পানির সংকট তৈরি হয়েছে। ঠিকমতো সেচযন্ত্রে উঠছে না পানি। সামান্য পানি উঠলেও সেচ দিতে সময় লাগছে কয়েকগুণ।

জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মাসুদ আহম্মদ সঞ্জু বলেন, দেশের মধ্যে চরম খরাপ্রবণ এলাকা ঝিনাইদহসহ আশপাশের এলাকা। গবেষণা বলছে, মরু এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের অন্য এলাকার তুলনায় ঝিনাইদহে জলাশয় কম। নিয়ম আছে এক কিলোমিটারের মধ্যে গভীর নলকূপ স্থাপন করা যাবে না। অথচ এটা কেউ মানছেন না। পানি প্রবাহের উৎস নদ-নদী ভরাট করে দখল হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে নদী খনন করতে হবে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে সরকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে শৈলকুপায় ৩০০ ও মহেশপুরে ৩০০ বাড়িতে সারাবছর পানি পাওয়া যাবে।