ঢাকা, ১৭ জুন ২০২৪, সোমবার

ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা কাজী পেয়ারার জনক নন



কৃষি ব্যক্তিত্ব

রিউমর স্ক্যানার

(২ মাস আগে) ৬ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৪:০২ অপরাহ্ন

agribarta

সদ্যপ্রয়াত কৃষিবিজ্ঞানী ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা কাজী পেয়ারার জনক নন।প্রকৃতপক্ষে কাজী পেয়ারার উদ্ভাবন বা নামকরণের কোনো কিছুর সাথেই তার জড়িত না থাকার বিষয়টি তিনি নিজেই তার জীবদ্দশায় নিশ্চিত করেছিলেন।

দাবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে  ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাংলা সংস্করণে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ‘পেয়ারা মানেই এখন কাজী পেয়ারা! কে এই কাজী!‘ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটিতে ইউটিউবে বিদ্যমান কৃষিবিজ্ঞানী ড.কাজী এম বদরুদ্দোজার একটি সাক্ষাৎকার সূত্রে উল্লেখ করা হয় যে, কাজী পেয়ারা উদ্ভাবন কিংবা নামকরণ কোনো কিছুতেই ড.কাজী এম বদরুদ্দোজার কোনো সম্পর্ক নেই। কাজী পেয়ারার যখন নামকরণ করা হয় তখন তিনি বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ চাকরিই করতেন না। সেসময় তিনি অবসর নিয়েছিলেন। কাজী পেয়ারার উদ্ভাবনের পর তার কিছু অনুসারী তার প্রতি ভালোবাসা থেকে এই নামটি দেন।

এই প্রতিবেদনের সূত্রে  পরবর্তী অনুসন্ধানে Agriculture 360 নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ‘যেভাবে কাজী পেয়ারা এলো বাংলাদেশে! The popular guava of Bangladesh (আর্কাইভ)’ শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত  একটি ভিডিওতে  ড. কাজী এম বদরুদ্দোজার দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার খুঁজে পাওয়া যায়।

সাক্ষাতকারটিতে ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা বলেন, কাজী পেয়ারাকে আমার নামে নামকরণ করা হয়েছে। ওটা আমি করিওনি, যখন এটা আমার নামে নামকরণ করা হয়, তখন ওখানে আমি চাকরিও করতাম না। রিটায়ার্ড করেছি। রিটায়ার্ড করে আমি বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট (বারি) ছেড়ে চলে আসছি। আমি তখন রিটায়ার্ড পারসন। তারপর সেখানে আমার যারা ফলোয়ার ছিল, তারা ভালোবাসা থেকে ঐ পেয়ারাটা যখন নতুন বের হলো, আমার নামে নাম দিলো কাজী পেয়ারা। সেটা আমি দেইনি।’

এছাড়া অনুসন্ধানে বেসরকারি টিভি চ্যানেল২৪ এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর ‘‘কাজী পেয়ারা খ্যাত’ কৃষিবিজ্ঞানী কাজী এম বদরুদ্দোজার কথা (আর্কাইভ)’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও নিশ্চিত হওয়া যায়, কাজী পেয়ারা উদ্ভাবনের পর ড. কাজী এম বদরুদ্দোজার প্রতি ভালোবাসা থেকেই কাজী পেয়ারাকে তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য রিউমর স্ক্যানার টিম বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো: আব্দুল্লাহ ইউছুফ আখন্দের সাথে যোগাযোগ করে।

তিনি বলেন, কাজী পেয়ারা বারিতে উদ্ভাবন করে উনার নামে নামকরণ করা হয়েছে। তবে  ড. কাজী বদরুদ্দোজা স্যারের অবদান অনেক বেশি। শুধু বাংলাদেশে না। এশিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়াসহ আন্তর্জাতিকভাবেই উনার অবদান অনেক। শুধু কাজী পেয়ারার জনক বললে উনাকে আসলে ছোট করা হয়।

পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে পেয়ারা নিয়ে কাজ করা প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম মেজবাহ উদ্দীনের সাথে যোগাযগের পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে ড. এ এস এম মেজবাহ উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে উনি এটা উদ্ভাবন করেন নাই। ১৯৮৪ সালে তৎকালীন ফল বিভাগ (বর্তমানে উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের ফল বিভাগ) এই কাজী পেয়ারার জাতটা বের করেছে। ড. কাজী বদরুদ্দোজা ছিলেন আমাদের ফাউন্ডার এবং ডিরেক্টর। উনাকে সম্মান করে উনার নাম অনুসারে ঐ সময়ের বিজ্ঞানীরা জাতটার নাম কাজী পেয়ারা নামকরণ করেন।  

মূলত, গত ৩০ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে প্রখ্যাত কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষি সংগঠন ও ন্যাশনাল ইমেরিটাস সাইন্টিস্ট ড.কাজী এম বদরুদ্দোজা মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদে তাকে কাজী পেয়ারার জনক উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যম এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি তথ্য প্রচার করা হয়। তবে এ নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ড.কাজী এম বদরুদ্দোজা কাজী পেয়ারার জনক ছিলেন না। ১৯৮৪ সালে কাজী পেয়ারার জাতটি আবিষ্কারের পর ড.কাজী এম বদরুদ্দোজার সম্মানার্থে তার নামানুসারে সে সময়ের বিজ্ঞানীরা কাজী পেয়ারার নামকরণ করেন। তিনি নিজেও জীবদ্দশায় এক সাক্ষাতকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

সুতরাং, সদ্য প্রয়াত কৃষিবিজ্ঞানী ড.কাজী এম বদরুদ্দোজা কাজী পেয়ারার জনক দাবিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।