সমতল ভূমিতে আপেল চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার এক যুবক। সুজালপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান ইমরুল আহসান (৩০) তার নিজস্ব জমিতে প্রথমবারের মতো আপেল চাষ করে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এই সাফল্য দেখে এলাকার আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা আপেল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
ইমরুল আহসান এসএসসি পাস করার পর চাকরির পেছনে না ঘুরে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ইউটিউবে আপেল চাষ সম্পর্কে দেখে আগ্রহী হয়ে তিনি দিনাজপুর হর্টিকালচার বিভাগের সহায়তায় ২০২৪ সালের মে মাসে প্রথম দু’টি আপেল গাছের চারা সংগ্রহ করেন। সেগুলোর ভালো বৃদ্ধি দেখে একই বছরের সেপ্টেম্বরে আরও ৫০টি চারা রোপণ করেন নিজের বাগানে।
ইমরুল জানান, তার বাগানে বর্তমানে থোকায় থোকায় আপেল ধরেছে। প্রথম বছর দুটি গাছে প্রায় ৫০টি ফল হয়। এবার সেই সংখ্যাটি কয়েকগুণ বেড়েছে। বাগানে একই গাছে ভারতীয় গোল্ডেন ডোরসেট, কাশ্মীরি সামার ও স্মিথসহ প্রায় ১২টি জাতের আপেল উৎপাদন হয়েছে। তিনি জানান, ৩–৪টি জাতের আপেল একই গাছে ফলেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে বিরল একটি ঘটনা।
চাষের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইমরুল বলেন, “আপেল গাছে মুকুল আসে ফেব্রুয়ারিতে, গুটি দেখা যায় মার্চে, আর জুন-জুলাইতে তা খাওয়ার উপযোগী হয়।” তিনি আরও জানান, হরমোনাল ট্রিটমেন্ট সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে অনেক সময় ফুল আসলেও ফল ধরে না বা ঝরে পড়ে যায়। তাই সফল আপেল চাষের জন্য সঠিক জ্ঞান ও পরিচর্যার প্রয়োজন।
হর্টিকালচার বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. হামিদুর রহমান বলেন, “ইমরুল আহসানের সফলতা দেখে বীরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২০–২২ জন শিক্ষিত বেকার যুবক হর্টিকালচার বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে চারা সংগ্রহ করেছেন।” তিনি জানান, নিয়মিত পরিদর্শন ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এসব উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে সরকার।
এক সময় সমতল ভূমিতে আপেল চাষ অসম্ভব মনে হলেও ইমরুলের সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে—উদ্যোগ, শ্রম আর সঠিক প্রযুক্তি থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। এখন প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা তার বাগান দেখতে ভিড় করছেন। শুধু ফলই নয়, ভবিষ্যতে চারা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
দিনাজপুর হর্টিকালচার বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো সুস্বাদু ও মিষ্টি আপেলের সফল ফলন কৃষি সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। আপেল চাষে এখন দেখা দিচ্ছে দিনের পর দিন বাড়তে থাকা এক সোনালি স্বপ্ন।
