শেরপুরের কৃষিতে যুক্ত হলো নতুন সম্ভাবনার একটি অধ্যায়। জেলার কামারিয়া ইউনিয়নের সূর্যদী গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা শিমুল মিয়া প্রথমবারের মতো বিদেশি সুপারফুড ‘চিয়া সিড’ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে ৫০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করেই লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
শিমুল মিয়া শুধু একজন ছাত্র নন—তিনি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। শেরপুর সরকারি কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স পড়াশোনার পাশাপাশি শখের বসেই কৃষিকাজে যুক্ত হন। ঔষধি গাছ, বস্তায় আদা চাষ এবং নতুন সবজি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি এবার তিনি চাষ করলেন বিদেশি, দামি এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ চিয়া সিড।
জেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে চাষ শুরু করেন শিমুল। বীজ, সার, সেচ, পরিচর্যা—সব মিলিয়ে খরচ হয় মাত্র পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। ৯০-১০০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে ওঠে। দেশের বিভিন্ন অনলাইন ও সুপারশপে এই চিয়ার কেজি প্রতি দাম ৫০০-৬০০ টাকা। এই হিসেবেই শিমুল আশা করছেন উল্লেখযোগ্য লাভের।
চিয়া সিড দেখতে অনেকটা তোকমা বা তিল বীজের মতো। এতে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ওমেগা-থ্রি, প্রোটিনসহ বহু উপকারি উপাদান। এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ ঝুঁকি হ্রাস, ওজন কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর।
চিয়া সিডের ক্ষেত দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। স্থানীয় কৃষক বেলায়েত মিয়া জানান, “নতুন এই ফসল শেরপুরে বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।” কৃষক শিখন মিয়ার মতে, “দেশি কৃষকরা এই চাষে আগ্রহী হলে বিদেশি আমদানি নির্ভরতা কমবে।”
গ্রামের ইউপি সদস্য খাদেম মিয়া বলেন, “শিমুলের সাফল্যে আমরা গর্বিত। সে প্রমাণ করেছে, কৃষিই পারে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “শেরপুরের মাটি ও জলবায়ু চিয়া চাষের জন্য উপযোগী। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি এবং সহায়তা দিচ্ছি।”
শিমুল মিয়া বলেন, “কৃষিই আমার ভালোবাসা। আমি চাই নতুন প্রজন্ম কৃষিতে আগ্রহী হোক, শুধু সাফল্যের জন্য নয়, মাটির প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে।”
