সবজি চাষ মানেই আমরা ভাবি জমি, বাড়ির উঠোন কিংবা ছাদের বাগান। কিন্তু রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে এখন সবজি চাষ হচ্ছে একেবারে ভিন্নভাবে—একটি ভাসমান বোটের ছাদে! এই অভিনব কাজটি শুরু করেছেন বোট চালক মো. নূরুল ইসলাম। হ্রদের বুক চিরে প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে ভেসে বেড়ালেও তার হৃদয়ে গেঁথে ছিল সবুজের টান। তাই নিজের বোটের ছাদেই গড়ে তুলেছেন ক্ষুদ্র সবজি বাগান।
প্রথমে শুধু শখের বসে লাউ গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে বোটের ছাদজুড়ে। এখন সেখানে মরিচসহ আরও কয়েকটি সবজির গাছ দেখা যায়। এই সবুজ দৃশ্য শুধু চমকই নয়, বরং হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে এক নতুন আকর্ষণ।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক দম্পতি আবু রায়হান ও সুমি আক্তার বলেন, “ছাদ বাগান তো দেখেছি অনেক, কিন্তু এমন একটি ইঞ্জিনচালিত বোটে সবজি চাষ প্রথম দেখলাম। এটা সত্যিই দারুণ এবং অনুকরণীয় উদ্যোগ।”
ফিসারী ঘাটের বোট চালক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ আলম বলেন, “নূরুল ভাইয়ের এই কাজ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। বোটে পর্যটকদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরির চিন্তা আমাদের সবার মধ্যেই এখন জন্ম নিচ্ছে।”
নূরুল ইসলাম বলেন, “একটি লাউ গাছ থেকে ৯টি লাউ ঘরে নিয়ে খেয়েছি। পর্যটকরাও আমার বোটে উঠে লাউ দেখে খুশি হন। তাই ভাবছি আরও কিছু গাছ লাগাবো—তাজা সবজি আর সবুজের সৌন্দর্য যেন একসঙ্গে থাকে।”
এই ছোট্ট উদ্যোগটি শুধু একটি বোটের গল্প নয়—এটি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা জীবনের সরলতা আর নতুনত্ব পর্যটনকে করে তুলছে আরও প্রাণবন্ত।
