দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির বাকৃবি শাখা। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরন ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে আযোজিত ওই অনুষ্ঠানে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এসময় নবীন শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে ব্যাগ, টি-শার্ট, কলমদানি, নোটবুক, চাবির রিং, বই ও কলম প্রদান করা হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বাসের আদলে ফটোকর্ণার ও প্রকাশনা কর্ণার করা হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবির নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা প্রকাশের কর্নারও করা হয়। এছাড়া স্টেডিয়াম ফটক থেকে মঞ্চ পর্যন্ত স্থান পায় কোরআনের আয়াত, বাকৃবির ইতিহাস, জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ। এছাড়া বাকৃবি ছাত্রশিবিরের ছয় শহীদ, আবু সাঈদ, আবরার ফাহাদ ও কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিচারণ করা হয়।
বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু নাছির ত্বোহার সভাপতিত্বে নবীনবরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রহুল আমিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জোফার মো. মোসলেহ উদ্দিন, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো মশিউর রহমান ও অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক শরীফ মাহমুদ । এছাড়াও শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এসময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো জাহিদুল ইসলাম বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে। ইসলাম ও রাষ্ট্রের স্বার্থে যারা কাজ করবে, শিবির তাদের সহযোগিতা করবে কিন্তু কখনও লেজুড়বৃত্তি করবে না। এই প্রজন্মে অন্ধ আনুগত্য, ভাই পলিটিক্স চলবে না। এখন আর জোর করে মিছিলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলারও সাহস কেউ পাবে না, ৫ আগস্টে এর কবর রচনা হয়ে গেছে।
জীবনে সফল হতে সময় অপচয় বন্ধ করতে হবে, পরিশ্রমের মানসিকতা থাকতে হবে এবং আল্লাহর নেয়ামত থাকতে হবে। আমাদের জন্য যেটা কল্যাণকর, সেটার পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার জায়গা। আমাদের আছে প্রচুর সম্পদের উৎস। এসব উৎস নিয়ে ভাবলে, ব্লু ইকোনমি নিয়ে ভাবলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।