ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে গ্রীষ্মকালীন নাসিক রেড এন- ৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষে আশানুরূপ ফলন এবং ভালো দাম পেয়ে খুশি পেঁয়াজ চাষিরা। দূর হয়েছে তাদের কষ্টের সময়।
দেবীপুর ইউনিয়নের মোলানী গ্রামের কৃষক নগেন্দ্র নাথ রায় ও বালিয়া ইউনিয়নের সবদল বাজারের পেঁয়াজ চাষি মোহাম্মদ আনোয়ার গ্রীষ্মকালীন এই পেঁয়াজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। কৃষি বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কৃষিপ্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন জাত নাসিক রেড এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ শুরু করেন কৃষকরা।
বাসসের খবরে বলা হয়, রহিমানপুর ইউনিয়নের মহুবাসী গ্রামের কৃষক আবেদুল ইসলাম কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এই মৌসুমে ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। তার ক্ষেতে উৎপাদিত প্রতিটি পেঁয়াজের ওজন ১০০-১৫০ গ্রাম , এমনকি কাচা অবস্থায় গাছসহ ৩/৪ টিতেই ১ কেজি । এ জমি থেকে কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন বলে তার আশা। তার উৎপাদিত পেঁয়াজ দেখে অন্যান্য চাষি এ জাতের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
আবেদুল ইসলাম বলেন, প্রথমবারের মতো অসময়ে অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে পেঁয়াজ চাষ করছি, গ্রীষ্মকালে পেঁয়াজ চাষাবাদ কঠিন হলেও বাজারে এখন দাম ভালো দেখে আমি খুশি ।
জেলা সদর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উচ্চ তাপমাত্রার ও অধিক বৃষ্টি সহনশীল জাত, যা আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চাষ করা যায়। চারা লাগানোর ১০০-১১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ ঘরে তোলা যায়। প্রতি হেক্টর জমিতে ১১ থেকে ১৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলাম জানান, একটা সময় আমাদের দেশে শুধু শীতকালীন পেঁয়াজের চাষাবাদ করা হতো। বর্তমানে পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে ৫০০ জনকে প্রণোদনা দেয়া হয় বলে তিনি জানান ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুর রহমান,অতিরিক্ত উপ পরিচালক( উদ্যান) জাহাঙ্গীর আলম এই চাষাবাদ কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করেছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মতে,গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষাবাদ কার্যক্রমে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি আমদানি নির্ভরতা কমবে।
