ঢাকা, ১৩ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার

চীন কীভাবে ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে?



কৃষি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(২ মাস আগে) ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার, ৭:১২ অপরাহ্ন

agribarta

সম্প্রতি চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে, ২০২৫ সালে চীনের শস্য উৎপাদন প্রায় ৭১৪.৮৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যা একটি নতুন ঐতিহাসিক রেকর্ড। এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার একটি দেশ, যারা বিশ্বের মোট আবাদযোগ্য জমির মাত্র ৯ শতাংশ ব্যবহার করে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের খাদ্যের জোগান দিচ্ছে। যখন বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষ এখনও ক্ষুধার্ত এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন চীনের শস্যভাণ্ডার পূর্ণ থাকা বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে মৌলিক ও বাস্তব অবদান। প্রতিবেদন bengali.cri.cn- এর ।


এই স্থিতিশীল উৎপাদন কেবল আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যবাহী কৃষি জ্ঞানের নিবিড় সংমিশ্রণের ফল। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ক্রমবর্ধমানভাবে প্রতি ইঞ্চি জমিতে উচ্চ উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করছে। ২০২৫ সালে উৎপাদনের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে প্রতি ইউনিট এলাকায় শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির অবদান ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। চীনের গ্রামাঞ্চলে পা রাখলেই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো চোখে পড়বে: উত্তর-পূর্ব চীনে প্রায় ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার জমি "বড় আইল ও ঘন রোপণ"  কৌশল গ্রহণ করেছে, যা জল এবং সার আরও ভালোভাবে সংরক্ষণ করে। হুয়াপেই সমভূমিতে, নতুন ভুট্টার জাতগুলো নির্দিষ্ট ইউনিটে আরও শত শত গাছ জন্মাতে সক্ষম। দেশব্যাপী ৫৩ হাজার বর্গকিলোমিটার কৃষিজমিতে নির্ভুল ড্রিপ সেচ বা বিন্দু সেচ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পরীক্ষাগারে ফসলের জিন অপ্টিমাইজ করা থেকে শুরু করে ক্ষেতে বুদ্ধিমান কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যাপক ব্যবহার—এই আপাতদৃষ্টিতে ছোট প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলো ফলনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একত্রিত হয়েছে।

 

অবশ্যই, এই পথ সর্বদা মসৃণ ছিল না। কৃষি উৎপাদনকে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে লড়াই করতে হয়। ২০২৫ সালে চীনের অনেক অঞ্চল খরা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে চীনের শস্য উৎপাদন ব্যবস্থা চিত্তাকর্ষক স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে। এই স্থিতিস্থাপকতা একটি দক্ষ সাড়াদান ব্যবস্থা থেকে উদ্ভূত: কেন্দ্রীয় সরকার দুর্যোগ ত্রাণ ও প্রশমনের জন্য দ্রুত বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে; কৃষি বিভাগ বিভিন্ন দুর্যোগ পরিস্থিতির জন্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা জারি করেছে এবং ফসল কাটা, রোপণ, খরা ও বন্যা মোকাবিলায় কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য হাজার হাজার বিশেষজ্ঞ ও কর্মীকে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। এই পদ্ধতিগত প্রচেষ্টাই হালকাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্থিতিশীল ফলন নিশ্চিত করেছে এবং গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ক্ষতি কমিয়ে এনেছে। যার ফলে বড় দুর্যোগের বছরেও বাম্পার ফলনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।


আজ চীন খাদ্য সহায়তা গ্রহীতা দেশ থেকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে। চীন বিশ্বব্যাপী ১৪০টিরও বেশি দেশ এবং অঞ্চলের সাথে তার কৃষি প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছে। পানিসাশ্রয়ী সেচ থেকে শুরু করে উচ্চ ফলনশীল বীজ পর্যন্ত—চীনের ব্যবহারিক প্রযুক্তি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কৃষকদের তাদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এটি একটি সহজ সত্য প্রকাশ করে: দৃঢ় সংকল্প এবং সঠিক পদ্ধতি থাকলে যে কোনো দেশ তার নিজস্ব খাদ্য সরবরাহ আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।


বছরের পর বছর ধরে চীনের এই বাম্পার ফলন এমন একটি জাতির গল্প বলে, যারা ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা, ব্যবহারিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন গ্রহণ এবং একটি কার্যকর স্থিতিস্থাপক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তার উদ্যোগকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো অলৌকিক ঘটনা নেই, আছে কেবল কঠোর পরিশ্রম এবং সুস্পষ্ট পরিকল্পনা। এই প্রচেষ্টা নিজের দেশের জনগণের মঙ্গল রক্ষা করার পাশাপাশি অস্থির বিশ্ব খাদ্য বাজারে মূল্যবান নিশ্চয়তা যোগায়। একইসঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তার বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যৌথভাবে মোকাবিলা করার জন্য মানবতার সামনে একটি আশাব্যঞ্জক ও বাস্তব মডেল উপস্থাপন করে।

 

কৃষি থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ