ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার

যেসব দেশি মাছে মিলবে বিদেশি মাছের মতো পুষ্টি



মৎস্য

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(৪ দিন আগে) ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৮:১৬ অপরাহ্ন

agribarta

নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং মস্তিষ্কের নানান সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। কারণ এসবে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস, আয়োডিন এবং ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস।

শিশুদের বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি উন্নয়নেও এই ধরনের মাছের ভূমিকা অপরিসীম।

এই বিষয়ে দিনাজপুরের ‘রাইয়ান হেল্থ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’য়ের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার বলেন, “সাধারণত আমরা সামুদ্রিক মাছ বলতে স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ম্যাকারেল মাছের নাম শুনে থাকি। তবে আমাদের দেশেও অনেক মাছ আছে যা থেকে সামুদ্রিক মাছের মতোই সমান পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।”

বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমনই কয়েকটি মাছ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ।

রূপচাঁদা


বাংলাদেশের জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ। এর রং সাদা-রূপালি এবং মাংস কোমল ও সুস্বাদু। সাধারণত এটি বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে ধরা পড়ে। পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস সমৃদ্ধ।

কোরাল মাছ


কোরাল মাছের রং লালচে ও দেহ মজবুত। এটি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ হিসেবে পরিচিত। স্বাদে চমৎকার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ এই মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লইট্টা


লইট্টা মাছ বাংলাদেশে শুষ্ক ও কাঁচা— দুই অবস্থাতেই বিক্রি হয়। শুকনা লইট্টা দেশি বাজারে ‘শুঁটকি’ নামে বহুল পরিচিত। এটি কম ক্যালরিযুক্ত কিন্তু প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি সামুদ্রিক মাছ।

চিংড়ি

চিংড়ি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি সামুদ্রিক প্রাণী। কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট অঞ্চলে এর চাষ ও আহরণ হয়। সামুদ্রিক টাইগার চিংড়ি বিশেষভাবে মূল্যবান। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, লৌহ এবং জিঙ্ক থাকে।

পারা মাছ

দেখতে লালচে রংয়ের একটি জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ। এটি সাধারণত গভীর সাগরের মাছ, তবে মাঝে মাঝে উপকূলের কাছেও পাওয়া যায়। প্রোটিন সমৃদ্ধ এই মাছ রেস্তোরাঁয় গ্রিল বা ফ্রাই করে পরিবেশন করা হয়। এই মাছ থেকে মিলবে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস, জিংক, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি।

ইলিশ

যদিও ইলিশ সাধারণত নদীতে ডিম পাড়ে, এটি মূলত সামুদ্রিক উৎসের মাছ। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং উপকূলের মিঠা ও নোনা পানির সংযোগস্থলে প্রচুর পাওয়া যায়। এই মাছ থেকে মিলবে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস, ভিটামিন বি-১২, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম-সহ নানান ভিটামিন ও খনিজ ‍উপাদান।

বাটা ও তেলাপিয়া

অনেকে জানেন না যে তেলাপিয়া ও বাটার কিছু প্রজাতিও সামুদ্রিক পানিতে টিকে থাকতে পারে। এসব মাছ এখন বাণিজ্যিক চাষে জনপ্রিয় হচ্ছে। এই ধরনের মাছ থেকে মিলবে- প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস।

পাঙ্গাস

যদিও এখন চাষের পাঙ্গাস বেশি। তবে এটা মিঠা ও আধা লবণাক্ত পানিতেও পাওয়া যায়। অত্যন্ত সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর এবং প্রোটিন-সমৃদ্ধ একটি মাছ। যাতে আরও রয়েছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস, ভিটামিন ডি, বি-১২ এবং সেলেনিয়াম- যা হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।

সূত্র- বিডি নিউজ২৪