ঢাকা, ২১ জুন ২০২৬, রবিবার

দেশে পোল্ট্রির নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন, কমবে খাদ্য খরচ



প্রাণীসম্পদ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(৪ ঘন্টা আগে) ২০ জুন ২০২৬, শনিবার, ৮:০৪ অপরাহ্ন

agribarta

দেশে পোল্ট্রির নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ ছাড়াও পোল্ট্রির মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য খরচ ৮ থেকে ১০ ভাগ কমিয়ে আনার কথাও জানিয়েছেন তারা‌‌।

 শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় এ কথা বলেন গবেষক ও বিজ্ঞানীরা। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও অর্জন তুলে ধরে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান এবং বিএলআরআই এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিচালক‌ (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হলেন ড. নাথু রাম সরকার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. শওকত আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক গবেষক ও পোল্ট্রি খাত সংশ্লিষ্টরা।

কর্মশালায় বলা হয়, পোল্ট্রি শিল্প এখন ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের বাজার। দেশে প্রাণিজ আমিষ ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে পোল্ট্রি শিল্প সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। বর্তমানে দেশের মোট মাংসের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫% এবং ডিমের সিংহভাগই পোল্ট্রি খাত থেকে আসে। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পোল্ট্রি উৎপাদন গবেষক ও বিজ্ঞানীদের আরো সচেষ্ট হবার প্রতি যোগ দেন পোল্ট্রি খাত সংশ্লিষ্টরা।

কর্মশালায় আরও বলা হয়, পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবে ৩টি যন্ত্র ও খামার গবেষণা বৃদ্ধির জন্য গবেষণাগারে ও ৩টি ভার্টিক্যাল পোল্ট্রি গবেষণা শেড তৈরী করা,বিভাগীয় পর্যায়ে ৫টি অঞ্চলে পোল্ট্রি খামারীদের উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিয়ে ৩ হাজার ৮৫০ খামারিকে কারিগরী সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, গবেষণার মাধ্যমে নতুন দুটি পোল্ট্রির জাত উদ্ভাবন ও খামারীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়।

এ ছাড়াও সাশ্রয়ী মূল্যে পোল্ট্রির রেশনে ফিড এডিটিভিস ব্যবহার করার মাধ্যমে নিরাপদ পোল্ট্রির মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়। উল্লেখ্য যে, পোল্ট্রি উৎপাদনে খাদ্য খরচ কমাতে প্রকল্পের আওতায় ব্লাক সোলজার ফ্লাই ব্যবহার করে খাদ্য খরচ প্রায় ৮-১০ ভাগ হৃাসের তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন শিক্ষা সফর, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জনবল ও খামারীদের দক্ষতা উন্নয়ন করা হয়।

বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হস্তান্তরের পাশাপাশি প্যাটেন্টভুক্ত করার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় দেশি-বিদেশি বেশ কিছু জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় যে সকল খামারিদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, তাদের অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। প্রকল্পের আওতায় যে সব যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রকল্পের আওতায় কর্মরত দক্ষ জনবল যেনো ভবিষ্যতে সংরক্ষণ করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যেতে হলে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহের প্যাটেন্ট নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় যেসব প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে, দ্রুতই সেগুলোর প্যাটেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে। আর এজন্য গবেষণাকে মৌলিক হতে হবে। আগামীতে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে দেশের সমস্যা চিহ্নিত করে, দেশীয় লোকবল নিয়ে দেশেই উচ্চতর গবেষণা পরিচালনা করতে হবে।’

প্রাণীসম্পদ থেকে আরও পড়ুন

agribarta
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার পশু

সর্বশেষ