ঢাকা, ১৭ জুন ২০২৪, সোমবার

সময় এখন কৃষিতে বিনিয়োগের



ক্যারিয়ার

শাইখ সিরাজ

(১ মাস আগে) ২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

agribarta

আমি বরাবরই দেশের সমৃদ্ধি বিচার করি কৃষি দিয়ে। এই একটি খাতের দিকেই আমি তাকিয়ে থাকি। আমি কৃষককে যখন হাসতে দেখি, তখন ভেবে নেই, দেশের অবস্থা ভালো। আবার কৃষককে যখন সংকটের ভিতর নিমজ্জিত দেখি, তখন ভাবি দেশ মনে হয় একটি খারাপ সময়ের মুখোমুখি। এর পাশাপাশি আমি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মূল শক্তি হিসেবে দেখতে পাই এ সময়ের সফল কিছু নায়কের (কৃষি উদ্যোক্তার) মুখ।

পঞ্চগড়ের তরুণ উদ্যোক্তা শাহরিয়ার কবীর সজল বিশাল আকারের বায়োফ্লক প্রকল্প নিয়ে কোটি টাকার আর্থিক উন্নতির হিসাব কষছেন। কুষ্টিয়ার মিরপুরের তরুণ উদ্যোক্তা নাহিদ আল সুমন এই করোনাকালেই গড়ে তুলেছেন দুই হাজার হাঁসের এক খামার। স্বপ্ন তার বহুদূর যাওয়ার। নাটোরে তরুণ উদ্যোক্তা সৈয়দ ফেরদৌস মুরাদ ২০ একর জলায়তনের ২০টি পুকুরে শুরু করেছেন অত্যাধুনিক পদ্ধতির মাছ চাষ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বরেন্দ্র অঞ্চলে ৮৪০ বিঘার মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম। 

এবার বারোমাসি আমের বিস্ময়কর ফলন দেখিয়ে দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছে রফিকুল। ফেনীর সোনাগাজীতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান ৭০ একরের বিশাল সমন্বিত খামার থেকে শোনাচ্ছেন দেশের কৃষি অর্থনীতির চিত্র পাল্টে দেওয়ার অসাধারণ প্রত্যয়ের কথা। ফরিদপুরের পিঁয়াজ বীজ চাষি শাহিদা বেগম এ বছর ৪ কোটি টাকার বীজ বিক্রি করে বলছেন, দেশকে পিঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পথে তিনি চালিয়ে যেতে চান প্রাণপণ সংগ্রাম। চুয়াডাঙ্গার মাল্টা বাগান উদ্যোক্তা সাখাওয়াৎ হোসেন বাবুল সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন মিষ্টি মাল্টার বাগান। 

চট্টগ্রামের নারী উদ্যোক্তা কোহিনুর কামাল মাছ চাষ থেকে হ্যাচারির উদ্যোগ নিয়ে ১২ জেলার মাছ চাষিদের মাঝে সৃষ্টি করেছেন সুস্থ পোনার নিশ্চয়তা। চট্টগ্রামে ১২০০ গরুর এক স্মার্ট দুগ্ধখামার চালাচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা রকিবুল ইসলাম টুটুল। এখন সারা দেশেই এমন অগণিত সাফল্যের চিত্র। দেশের প্রতিটি গ্রামেই এখন প্রতিনিধিত্বশীল সফল উদ্যোক্তা কৃষি উদ্যোগ নিয়ে সাফল্যের নজির গড়ছেন। প্রবাসে অর্থ উপার্জনের স্বপ্নকে ছুড়ে ফেলে বহু তরুণ দেশে ফিরে গড়ে তুলেছে দারুণ সফল কৃষি খামার। 

এই মানুষগুলো দেশের খাদ্য নিরাপত্তার চাকা ঘোরাচ্ছেন। কৃষি অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করে চলেছেন। অগণিত মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছেন। আমাদের স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছেন। আমরা কৃষি অর্থনীতি ও নীতি পরিকল্পনার জায়গাতে সবচেয়ে আগে যে বিবেচনাটি করি সেটি হচ্ছে জিডিপি। জিডিপিতে কৃষির অবদান কমছে। কৃষি এখন শিল্প ও সেবাখাতসহ অনেক খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশজ উৎপাদন তথা অর্থনীতিতে রেখে চলেছে অনন্য ভূমিকা। কৃষির সর্বব্যাপী ভূমিকা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। 

এ ক্ষেত্রে বহু বছর আগেও যেমন এই দেশে কৃষিই ছিল অর্থনীতি, উন্নয়ন ও জীবন প্রবাহের প্রধান সুর, এখন তা আরও বেশি যথার্থ। আমার চার দশকের এই পথচলার বিবেচনায় এ কথা অকপটে বললে ভুল হবে না যে, বর্তমান সময়টি কৃষির সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি সময়। সমৃদ্ধ একটি সময়। ফলে ফসলে অভাবনীয় প্রাচুর্য দেখছি আমরা। ধানসহ সব খাদ্যশস্য, সবজি, ফল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে আমাদের সাফল্য দৃষ্টান্তমূলক। 

বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে কৃষক আজকের উৎপাদন সাফল্য অর্জন করেছে। এর পেছনে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বিশ্বায়নের যেমন প্রভাব রয়েছে। একইভাবে রয়েছে কৃষকের ব্যক্তি উদ্যোগ। উচ্চমূল্যের ফল ফসল আবাদ করে কৃষক নিজস্ব প্রচেষ্টায় কিছুটা বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করতে সমর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে ফসল বৈচিত্র্য সৃষ্টির পেছনে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর বৈশি^ক খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাধীনতা-পরবর্তী ঊনপঞ্চাশ বছরে দেশে প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে তিন থেকে পাঁচগুণ। 

১২টি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ পৃথিবীর শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে। এই সাফল্যের পাশাপাশি গত ১০ বছরে কৃষির বড় ধরনের বিবর্তন সূচিত হচ্ছে। এক সময় বড় বিনিয়োগমুখী শিল্প হিসেবে মানুষ গার্মেন্ট কারখানা স্থাপন করেছে। অন্যান্য শিল্পে বেশি লাভ খুঁজেছে। এখন সেই বিনিয়োগকারীরাই কৃষিতে বড় বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসছেন। গার্মেন্ট কারখানার শেডেই হয়তো গড়ে তুলছেন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি খামার। 

শিল্পমুখী কৃষি উদ্যোগের এই প্রবণতা অনেক দূর অগ্রসর এখন। কিন্তু এখানেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ এসেছে। প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক কৃষিকাজ থেকে সরে যাচ্ছেন। কৃষির পারিবারিক ঐতিহ্য ভেঙে যাচ্ছে। এর পেছনে বড় এক কারণ, কৃষির আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তি নির্ভরতা। কৃষি এখন সনাতন চিন্তাভাবনার চেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার ও বাণিজ্যমুখী। পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী কৃষিকাজ করে খুব বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকছে না। 

তাদের কৃষিজমি বিক্রি অথবা ইজারা দিচ্ছেন কৃষি শ্রমিকের কাছে অথবা বড় উদ্যোক্তার কাছে। এখন যুগ হচ্ছে কৃষি উদ্যোগের। মানুষের জমির মালিকানা যখন সংক্ষিপ্ত ও খন্ড খন্ড হয়ে এসেছে, তখন নতুন উদ্ভব হওয়া কৃষি উদ্যোক্তা শ্রেণি ওই খন্ডিত ভূমি মালিকদের জমি কিনে নিয়ে অথবা দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে গড়ে তুলছেন আধুনিক কৃষি খামার। যেখানে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। যুগের চাহিদা পূরণের জন্য এখন অল্প জমিতে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করার আধুনিক সব পদ্ধতির অনুসরণ চলছে। 

একদিকে ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন প্রক্রিয়া চলছে অন্যদিকে শুরু হয়েছে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষাবাদ। আসছে স্মার্ট প্রযুক্তি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শুরু হয়েছে মাটিবিহীন কৃষিচর্চা। অনেকেই অ্যাকুয়াপনিক্স, ইড্রোপনিকের মতো কৃষি অনুশীলনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কৃষিতে অপরিহার্যভাবে ব্যবহার শুরু হয়েছে সেরা অনুশীলনগুলো। আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে সবজি ও ফল উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য ঘটেছে। 

কোনো কোনো সবজি ও ফল ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অনুকরণে গ্রিন হাউসে করা হচ্ছে। আর বেশি ফলন পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন কোম্পানির আমদানি করা পরীক্ষিত বীজ।  কৃষি এখন বেশি বিনিয়োগনির্ভর বাণিজ্যিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। বেশি মুনাফা ও উৎপাদনশীলতার জায়গাতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন তথ্যপ্রযুক্তি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষির প্রযুক্তি বিকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিস্ময়কর। 

গত এক দশকের চিত্র যদি তুলে ধরা হয়, আমরা পৃথিবীর উন্নত দেশ থেকে যেসব কৃষি অনুশীলন তুলে এনেছি, বাংলাদেশের উদ্যোক্তা কৃষক সেই অনুশীলনেই মনোযোগী হয়েছেন। বলা বাহুল্য, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবগুলো আমাদের দেশের কৃষিতে পুরোপুরি পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা যেভাবে বলছেন, এত দিন পর্যন্ত আমাদের জীবনধারা, কাজকর্ম, চিন্তাচেতনা যেভাবে চলেছে সেটা বদলে যেতে শুরু করেছে। 

এখন আমরা এক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের ভিত্তির ওপর শুরু হওয়া ডিজিটাল এ বিপ্লবের ফলে সব কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে গাণিতিক হারে, যা আগে কখনো হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিটি খাতে এ পরিবর্তন প্রভাব ফেলছে, যার ফলে পাল্টে যাচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনা সব কিছু। স্মার্টফোনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিবর্তন, ইন্টারনেট অব থিংস, যন্ত্রপাতি পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, রোবোটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়গুলো চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সূচনা করেছে। 

এখন পৃথিবীতে নতুন নতুন যেসব কৃষিযন্ত্র আসছে তাতে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস। উৎপাদন দক্ষতা, পরিবর্তন দক্ষতা ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাকে সহজীকরণ করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে জমি চাষে। জমি চাষে ৯৫ ভাগ কলের লাঙল ব্যবহার হচ্ছে। একইভাবে ধান মাড়াইয়ে ৯৫ ভাগ মাড়াই যন্ত্র বা থ্রেসার ও সেচ ব্যবস্থায় ৯৫ ভাগ পাওয়ার পাম্প ব্যবহার হচ্ছে। কৃষির অন্যান্য ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে ধীরগতিতে। 

ফসল তোলা বা হার্ভেস্টে ১.৫ ভাগ, রোপণে দশমিক ৫ ভাগেরও কম। তবে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের হার দিনে দিনে বাড়ছে। এতে ফসলের উৎপাদন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বাংলাদেশেও এই স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। দেশে দুগ্ধ খামার ও প্রাণিসম্পদের খামারে এখন আইওটির ব্যবহার শুরু হয়েছে। আমাদের মৎস্য খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক এক উদ্ভাবনী সাফল্য রয়েছে। সেটি হচ্ছে মাছ চাষের পুকুরে অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মাছের পরিমিত খাদ্য দেওয়ার প্রযুক্তি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষির বাণিজ্যিকীকায়নে বহুমুখী সাফল্য থাকলেও কৃষিক্ষেত্রে বড় এক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। 

সেটি হচ্ছে উৎপাদক শ্রেণির অনুকূল বাজার কাঠামো। এটি আজও পর্যন্ত গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। যে কারণে কৃষিক্ষেত্রে ফসল বৈচিত্র্য ও উৎপাদনের হার বাড়লেও কৃষক তার পণ্যের সঠিক মূল্য এখনো পাচ্ছে না। কৃষকের কাছে পণ্যমূল্য নির্ধারণের কোনো অধিকার যেমন নেই, একইভাবে নেই সরকার যন্ত্রের পক্ষ থেকে উৎপাদকের জন্য একটি মূল্য কমিশন গঠন করা। এটি কৃষকের বহু যুগের এক সংকট। যেটি সমাধানে আজও পর্যন্ত কার্যকর ও টেকসই কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রচলিত বাজার ব্যবস্থার চাপে কৃষক প্রতি ফসলের মৌসুমের শুরুতে কিছুটা মূল্য পেলেও পরে লোকসান গুনে থাকে। 

বছরে চারটি ফসল করতে পারার সুবাদে কোনো কোনো এলাকার কৃষক পুষিয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশ এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ফসল উৎপাদন করে খুব বেশি লাভবান হতে পারেন না। আমরা পিছিয়ে আছি কৃষির মূল্য সংযোজনের প্রশ্নে। এক হিসাবে দেখা যায়, পৃথিবীতে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বাজার ৭০ বিলিয়ন ডলারের। এই বাজারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত গৌণ। আমরা রপ্তানি করি মাত্র ৫০০ মিলিয়ন ডলার। 

শতকরা হিসেবে এই পরিমাণ মাত্র দশমিক ২ ভাগ। কৃষিতে শ্রমশক্তির হিসাবটিকেও দেখতে পারি আমরা। আমাদের মোট শ্রমশক্তির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কৃষিতে। এখানে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে যুক্ত মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। বিশ্বব্যাপীই কৃষির চেয়ে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প অনেক বেশি শ্রমঘন। অথচ আমরা এদিকে উৎপাদনে যেমন পিছিয়ে আছি, পিছিয়ে আছি কর্মসংস্থানের বিবেচনাতেও। 

এক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রপ্তানি বাণিজ্যে কৃষিশিল্পে যেমন সাফল্য আসে, একইভাবে কৃষকও পেতে পারেন ভালো দাম। বিদেশের বাজারে আমাদের কৃষিপণ্যের অবাধ বাণিজ্য নেই। আমরা ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় হাইপার মার্কেটগুলোতে আমাদের কৃষিপণ্য নিয়ে ঢুকতে পারছি না। আমি ১০ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারের জন্য অগ্রসর করে তুলতে আমাদের সেই অবকাঠামো ও প্রচেষ্টা নেই। এসব দিকে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।