১৯ অক্টোবর ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

রাজধানীতে কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ কী

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৫ জানুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
রাজধানীতে কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ কী

ঢাকার নগরাঞ্চলে মিরপুর, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, গুলশান ও কামরাঙ্গীর চর এলাকায় কোনো কৃষিজমি নেই এবং ফসলও উৎপাদন হয় না। তবুও, এই অঞ্চলে ৪২ জন কৃষি কর্মকর্তা ও ২৯ জন কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। এই কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে ছাদবাগানের পরামর্শ দেওয়ার কথা বলা হলেও, বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

কৃষি কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা কম। মিরপুরের এক বাসিন্দা বারান্দার বাগানের একটি গাছে পোকার আক্রমণ হলে, তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেয়ে, হতাশ হয়ে গাছটি কেটে ফেলেন।

উত্তরার মাহমুদ হোসেন, মোহাম্মদপুরের রশিদ আল রুহানী, ও গুলশানের আব্দুল আজিজের মতো বাসিন্দারা ছাদবাগান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সঠিক পরামর্শের অভাবে গাছগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং তাঁরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অধিকাংশ মানুষ জানেনই না যে ঢাকায় ছাদবাগানের জন্য এতজন কৃষি কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দাবি করে, ঢাকায় ৪,৬০০ ছাদবাগান রয়েছে এবং এসব বাগানের উন্নয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের ভূমিকা রয়েছে। তবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, বাস্তবে কর্মকর্তারা কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন না।

মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, কামরাঙ্গীর চর ও গুলশানের মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসে প্রচুর কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। তবে তাঁদের কার্যক্রম প্রায় অদৃশ্য। তেজগাঁওয়ে চার হাজার দুইশ একর জমিতে ফসল আবাদ হলেও অন্যান্য অঞ্চলে কোনো আবাদি জমি নেই। কৃষি কর্মকর্তারা ঢাকায় থাকার জন্য বদলি হয়ে আসেন এবং কাজে কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন না।

সরকারি কৃষি তথ্য সার্ভিস জানিয়েছে, ‘কৃষি কল সেন্টার’ নামক একটি উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা দ্রুত পরামর্শ পেতে পারেন। অথচ, ঢাকায় এত সংখ্যক কৃষি কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

২০১৮ সালে নগর কৃষি উন্নয়নের নামে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হলেও, তা অব্যবস্থাপনার কারণে সফল হয়নি। কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান বাবু বলেন, ঢাকার সবুজায়ন এবং কৃষি উন্নয়নের জন্য নতুন পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা প্রয়োজন। জনবল পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।