২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

আধুনিক কৃষিতে শিবগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তাদের সাফল্য

ডেস্ক রিপোর্ট ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ৬ মিনিট পড়ার সময় · ১৯ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
আধুনিক কৃষিতে শিবগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তাদের সাফল্য
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও আধুনিক চারা তৈরির কাজে এগিয়ে এসেছেন তরুণ কৃষিবিদরা। মাটিবিহীন কোকোপিট ও প্লাস্টিক ট্রের ব্যবহারে সুস্থ-সবল চারা উৎপাদনের পাশাপাশি মালচিং পেপার, পলিশেড এবং ফগিং ও ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চমূল্যের বিষমুক্ত সবজি চাষের বাণিজ্যিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করছেন এই উদ্যোক্তারা। চাকরি ছেড়ে মাঠে নেমেই তৈরি হয়েছে নতুন ধারা। উদ্যোক্তাদের একজন কৃষিবিদ মুশফিকুর রহমান জানান, কৃষি বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি একটি সংস্থায় চাকরি করতেন। চাকরিরত অবস্থায় তিনি উপলব্ধি করেন যে কৃষিশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ততা অত্যন্ত কম। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত আধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে দেশীয় আবহাওয়া ও কৃষকদের সক্ষমতার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২০ সালের জুন মাসে চাকরি ছেড়ে তিনি এই উদ্যোগ গড়ে তোলেন। উদ্যোগটির অন্যতম উদ্যোক্তা মো. শাকিল আহমেদ জানান, জার্মপ্লাজম সেন্টারের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের কাছে সুস্থ ও রোগমুক্ত চারা পৌঁছে দেওয়া। সুস্থ চারায় সঠিক জাত নিশ্চিত করে কৃষক যেন নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তারা আধুনিক সিডলিং ট্রে, মালচিং পেপার, রেডি কোকোপিট, ভার্মিকম্পোস্ট, ট্রাইকোকম্পোস্ট ও জৈব বালাইনাশক কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করছেন। পলিশেডের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ফসল চাষে মিলছে অভাবনীয় সুফল। কৃষিবিদ মুশফিকুর রহমান জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষিজমির ধারাবাহিক হ্রাসের মুখে পলিশেড বা গ্রিনহাউস প্রযুক্তি পরিবেশকে কৃত্রিমভাবে অনুকূলে রাখার সুযোগ দেয়। এই খামারের শেডে ফগিং ও স্প্রিংকলার ব্যবস্থা চালু রাখলে মাত্র দুই থেকে চার মিনিটের মধ্যে ভেতরের তাপমাত্রা সাত থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। ফলে প্রচণ্ড গরম কিংবা অতিবৃষ্টির ক্ষতি এড়িয়ে যেকোনো অসময়ে কাঙ্ক্ষিত সবজির আবাদ নিরাপদে সম্পন্ন করা যায়।শেডের অভ্যন্তরে মাটির ওপর ২৫ মাইক্রন পুরুত্বের বিশেষায়িত মালচিং পেপার ব্যবহার করে হাইব্রিড শসা ও স্কোয়াশ চাষ করা হচ্ছে। এই আবরণের এক পাশে রুপালি ও অন্য পাশে কালো প্রলেপ থাকে, যা অতিরিক্ত আর্দ্রতা বাষ্পীভূত হতে দেয় না এবং সরাসরি সূর্যের আলো মাটিতে পড়তে বাধা দেয়।

একবার সার প্রয়োগেই পুরো মৌসুমের পুষ্টি নিশ্চিত হয়। মালচিংয়ের ফলে জমিতে আগাছা জন্মাতে পারে না, সেচের পানির অপচয় কমে যায় এবং মাটি দীর্ঘক্ষণ আর্দ্র থাকে। উদ্যোক্তাদের তথ্যমতে, এই পদ্ধতিতে গাছ একাই সারের সম্পূর্ণ পুষ্টি গ্রহণ করে, ফলে বারবার সার প্রয়োগের শ্রম ও অতিরিক্ত অর্থ বেঁচে যায়। একটি মালচিং পেপার এক থেকে দুই বছর ব্যবহার করে অন্তত দুই থেকে তিনটি ফসলের মৌসুম অনায়াসে পার করা সম্ভব হয়। পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে পুরো অবকাঠামো ঘিরে রাখা হয়েছে বিশেষ ইনসেক্ট নেট বা সুরক্ষাজাল দিয়ে। এর পাশাপাশি খামারের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে আঠাযুক্ত হলুদ রঙের বিশেষ ফাঁদ, যা ক্ষতিকর উড়ন্ত পোকাকে প্রাকৃতিকভাবে আটকে ফেলে। ক্ষতিকারক ছত্রাক ও মাটির রোগ দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব অণুজীব ট্রাইকোডার্মা, যার কারণে পুরো চাষাবাদে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। ছাদবাগান ও বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষে আগ্রহীদের জন্য ড্রিপ ও হাইড্রোপনিক্স সেবার সুবিধা দিচ্ছে খামারটি। মুশফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, হাইড্রোপনিক্স প্রযুক্তিতে মাত্র এক লিটার পুষ্টি দ্রবণ ১০০ লিটার পানিতে মিশিয়ে খুব সহজেই দীর্ঘ সময় সবজি আবাদ করা যায়। মাটিতে সাধারণ চাষের তুলনায় এই জলজ পুষ্টি মাধ্যমে ফসল অর্ধেকেরও কম সময়ে পরিপক্ব হয়ে ওঠে। বাঁশের ফ্রেম দিয়ে তৈরি সাশ্রয়ী শেডের পাশাপাশি ছাদবাগানের ওজন সামলানোর কারিগরি সেবাও কৃষকদের সরবরাহ করছে এই তরুণ দল।

সূত্র- দিনাজপুরটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।