সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাহনুমা নুরাইন তাহসিন সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আমেরিকান সোসাইটি অব প্লান্ট বায়োলজিস্টস (ASPB)-এর মর্যাদাপূর্ণ সামার আন্ডারগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ ফেলোশিপ (SURF) অর্জন করেছেন। রাহনুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের জেনেটিক্স অ্যান্ড প্লান্ট ব্রিডিং গবেষণা দলের একজন সক্রিয় সদস্য।
তিনি বর্তমানে জাপানের ইওয়াটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের প্লান্ট বায়োসায়েন্স বিভাগে অধ্যাপক ড. আবিদুর রহমানের অধীনে গবেষণা করছেন। তার গবেষণার বিষয়বস্তু হলো বায়োস্টিমুলেন্ট প্রয়োগে উদ্ভিদের লবণাক্ত পরিবেশে সহিষ্ণুতার প্রতিক্রিয়া এবং মলিকুলার কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ। এই গবেষণা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলারা আক্তারের একটি প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত, যা SAURES-এর সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণার ফলাফল ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উইসকনসিনে অনুষ্ঠিতব্য ASPB-এর বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।
ASPB বিশ্বব্যাপী মেধাবী স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করার জন্য এই ফেলোশিপের আবেদন আহ্বান করে থাকে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ছয় হাজার ডলার গবেষণা সহায়তা এবং বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত ভ্রমণ খরচ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এক বছরের জন্য ASPB সদস্যপদ দেওয়া হয়। মেন্টরদের জন্য গবেষণার সরঞ্জামের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়।
ড. আবিদুর রহমান এই প্রসঙ্গে বলেন, "এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফেলোশিপ, যা উদ্ভিদ গবেষণায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে। রাহনুমার কঠোর পরিশ্রম এবং নিবেদন তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই গবেষণা তাকে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী করবে।"
অধ্যাপক ড. দিলারা আক্তার বলেন, "ASPB SURF প্রোগ্রামটি গবেষণায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ। এটি তাদের গবেষণার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। রাহনুমার প্রতি আমার সবসময়ই আস্থা ছিল এবং তার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে।"
জাপান থেকে রাহনুমা নুরাইন তাহসিন বলেন, "এই অর্জন আমার জন্য একটি বিশাল সম্মান। আমার শিক্ষকেরা সবসময় আমাকে উৎসাহিত করেছেন। অধ্যাপক ড. আবিদুর রহমান স্যারের মেন্টরশিপে কাজ করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। এই ফেলোশিপ আমাকে গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়তা করেছে।"
রাহনুমার এই সাফল্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়, যা ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থীকে গবেষণার দিকে অনুপ্রাণিত করবে।
