ঢাকা, ২৯ মে ২০২৬, শুক্রবার

১৮ কোম্পানির বালাইনাশক বাড়াচ্ছে কৃষকের বিপদ



কৃষি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

(১ বছর আগে) ৯ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ১২:০৫ অপরাহ্ন

agribarta

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে বালাইনাশক নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সরবরাহ করা বালাইনাশক পণ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। সরকার পরিচালিত মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরীক্ষায় এসব পণ্য ভেজাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পরীক্ষায়ও এসব পণ্যে ভেজাল ধরা পড়েছে। এমনকি চীনের রাষ্ট্রীয় ল্যাবরেটরিতেও এ সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার সুযোগে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে। টেনস এগ্রো, অ্যামিনেন্স কেমিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ার্স ক্রপ সায়েন্স, এগ্রো ইনপুট বাংলাদেশ, ক্লিন এগ্রো ও নিড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ—এমন বেশ কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসাইন খানের নেতৃত্বে হওয়া পরীক্ষায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. এস এম নুর আলম এবং ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মো. ওমর ফারুক। গত ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়, যেখানে দেখা যায়—উল্লেখিত বালাইনাশক পণ্যে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম ছিল। কিছু পণ্যে তা ৫০ ভাগেরও কম পাওয়া যায়, যা ফসলের জন্য কার্যকর নয়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি অফিসের উদ্যোগে ১৬টি রাসায়নিক সারের নমুনা সংগ্রহ করে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা করা হয়। এতে সিনজেনটা বাংলাদেশের বিংগো, ফেভারিট এগ্রোর ফেবার জিঙ্ক, প্রোগ্রেস এগ্রোর বোরো প্লাসসহ ১৬টি নমুনার সবগুলোতেই ভেজাল পাওয়া যায়।

একটি সংস্থা চীনের সাংহাই নেইপু টেস্টিং টেকনোলজি গ্রুপের ল্যাবে বাংলাদেশের কয়েকটি কোম্পানির পণ্য পরীক্ষা করে। এতে টেনস এগ্রো লি., নিড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, সিমবায়োসিস টেকনোলজি, অ্যামিনেন্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং জেনারেল এগ্রো কেমিক্যাল লিমিটেডের পণ্য ভেজাল বলে প্রমাণিত হয়।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ছয়টি নমুনা পরীক্ষায় ব্যাবিলন এগ্রোর ব্যাবিলন বোরন ও ব্যাবিলন জিঙ্ক সালফার মনোসহ আরও কয়েকটি পণ্যে ভেজাল ধরা পড়ে। এতে ২০ জন পেঁয়াজ চাষির প্রায় ৩০ বিঘা জমির ফসল পচে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সাইদুজ্জামানের কোম্পানি মিমপেক্সের বিভিন্ন কীটনাশকেও ভেজাল ধরা পড়ে। এছাড়া সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পাঠানের প্রতিষ্ঠান টেনস এগ্রোর নমুনাতেও একই অবস্থা ধরা পড়ে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব অভিযোগ করে, মিমপেক্সসহ বেশ কিছু কোম্পানি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মানহীন পণ্য বাজারজাত করছে। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কোম্পানিটিকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়মুক্তি দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বহীনতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলম জানান, কীটনাশক পরীক্ষা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আমদানির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

কৃষি থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ